মাননীয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ও মিসেস মেলানিয়া ট্রাম্প,
সুধীবৃন্দ,
প্রিয় বন্ধুগণ,
আপনাদের সুন্দর দেশ—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মিসেস ট্রাম্প, আমাকে ও আমার স্ত্রীকে উষ্ণ আতিথেয়তা জানানোর জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। ১৪০ কোটিরও বেশি চীনা জনগণের পক্ষ থেকে, আমি প্রথমেই আমেরিকান জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই মহান দেশ এবং চীনা ও আমেরিকান—উভয় জাতিই মহান জাতি। আমাদের বন্ধুত্ব এগিয়ে নিতে, সহযোগিতা সম্প্রসারণ করতে এবং উভয় দেশের জনগণের কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আমি যুক্তরাষ্ট্র সফর করছি।
বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তন, সময়ের বিবর্তন এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, দুটি প্রধান দেশ হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর মানব উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে এগিয়ে নেওয়ার ঐতিহাসিক দায়িত্ব বর্তায়।

মহামান্য প্রেসিডেন্ট, এ বছর আপনার চীন সফরের সময় আমরা কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রেখে একটি গঠনমূলক চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছিলাম; আমাদের উভয় দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিশাল জাহাজটিকে ভবিষ্যতের পথে অবিচল গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি আপনার সাথে কাজ করতে প্রস্তুত।
আমাদের যোগাযোগ জোরদার করা উচিত। জাতীয় পরিস্থিতির দিক থেকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন হলেও, খোলামেলা, গভীর ও ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে আমাদের দেশগুলো একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে, মতপার্থক্য পাশে রেখে অভিন্ন অবস্থান খুঁজে বের করতে পারে এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমি একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং আমরা নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছি। আমরা আমাদের সরকারি বিভাগগুলোকে—যেমন পররাষ্ট্র, অর্থনীতি, আর্থিক সহযোগিতা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জনগণের মধ্যে আদান—প্রদান বা ‘পিপল—টু—পিপল এক্সচেঞ্জ’ বিষয়ক বিভাগগুলোকে—পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার করতে উৎসাহিত করছি এবং আমাদের আইনসভাগুলোর মধ্যে আদান—প্রদান বৃদ্ধির বিষয়টিকেও সমর্থন করছি।

আমাদের আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করা উচিত। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত এবং আমাদের যৌথভাবে কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। চীন—যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা হয়তো বিশ্বের সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, তবে আমাদের সহযোগিতা ছাড়া বিশ্বের অনেক সমস্যার সমাধান করা কঠিন হবে। চীন তার দরজা উন্মুক্ত রেখেছে এবং সেখানে বিনিয়োগ ও ব্যবসা করতে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানিগুলোকে স্বাগত জানায়। আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা কোম্পানিগুলোর সাথেও ন্যায্য আচরণ করা হবে। যৌথ প্রচেষ্টায় আমরা সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে পারি এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোর তালিকা ছোট করতে পারি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই শীর্ষস্থানীয় দেশ। মানবকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ও দায়িত্ব—উভয়ই আমাদের রয়েছে; পাশাপাশি এটি নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন যেন সর্বদা মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং তা যেন জনগণের মঙ্গলে কাজ করে। মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে চীন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী। এছাড়া, উভয় পক্ষের মধ্যে যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যে আমরা সরাসরি ফ্লাইট সংখ্যাও বাড়াতে পারি।
আমাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা উচিত। আমি বহুবার বলেছি, দুটি প্রধান শক্তি হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার মাধ্যমে লাভবান হবে এবং সংঘাতের পথে উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিযোগিতার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সেই প্রতিযোগিতা হতে হবে সুস্থ ও সুনিয়ন্ত্রিত। এটি হওয়া উচিত একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার বা এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা; এমন কোনো মল্লযুদ্ধ নয় যেখানে একজনকে জিততে বা হারতে হবে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সংঘাত বা সংঘর্ষ না হওয়ার নীতি অবশ্যই মেনে চলতে হবে; এই পৃথিবীতে—যা আমাদের সবারই আবাসস্থল—সেখানে আমাদের দুই মহান দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সঠিক পথ আমরা নিশ্চয়ই খুঁজে বের করতে পারব। আমাদের দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখা উচিত এবং সংকটকালীন যোগাযোগ ও তা প্রতিরোধের ব্যবস্থাগুলোকে আরও উন্নত করা প্রয়োজন। ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ বা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সংঘাতের ফাঁদটি অতিক্রম করা সম্ভব।

সুধীবৃন্দ,
প্রিয় বন্ধুরা,
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনা ও আমেরিকানরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। ইতিহাসের সেই অধ্যায়টি চীনা বা আমেরিকান—কোনো পক্ষই ভুলে যায়নি। চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের আশা নিহিত রয়েছে আমাদের জনগণের মধ্যে এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণ প্রজন্মের ওপর। আমি আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে, আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ আমেরিকান তরুণকে বিনিময় কার্যক্রম ও পড়াশোনার জন্য চীনে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
জায়ান্ট পান্ডা চীন ও আমেরিকার জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের দূত হিসেবে কাজ করে আসছে। এ প্রসঙ্গে একটি সুখবর দিচ্ছি—কয়েক দিনের মধ্যেই ‘পিং পিং’ ও ‘ফু শুয়াং’ নামের দুটি পান্ডা আটলান্টা চিড়িয়াখানায় তাদের নতুন আবাসে এসে পৌঁছাবে এবং আমেরিকান জনগণের সাথে পরিচিত হবে।
সুধীবৃন্দ,
প্রিয় বন্ধুরা,
চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবন এবং আমেরিকাকে পুনরায় মহান করে তোলার লক্ষ্য—এ দুটি বিষয় একে অপরের পরিপূরক হিসেবে এগিয়ে চলতে পারে। আসুন, আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করি এবং ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে আসি। আসুন, আমাদের দুই দেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করি এবং একটি উন্নত বিশ্ব গড়তে যৌথভাবে কাজ করি!
আপনাদের ধন্যবাদ।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats