যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পরও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে হোয়াইট হাউস বলেছে, ‘ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।’
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা যে হেরেছি, তার কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেই গতরাতে এ কথা বলেছেন।’
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে, তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। এএফপি বলছে, ভ্যান্সের বক্তব্যকে ইরান যুদ্ধ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের শুরু করা এই যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান্সের আপত্তি ছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। এর ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনামলে তার দলের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের পর আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশ করে হোয়াইট হাউস। ছবিতে ওভাল অফিসের ডেস্কের পেছনে কঠোর চেহারায় দেখা যায় তাকে। ছবির ওপর লেখা ছিল, ‘জনসাধারণের অবগতির জন্য: ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।’
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে দেখার জন্য ধন্যবাদ।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প প্রায়ই এ ধরনের বাক্য ব্যবহার করেন।
নির্বাচনের ফলাফলকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।
দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা আইন প্রণয়ন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং তার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছে। তবে ট্রাম্প ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা কতটা কার্যকরভাবে তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
আবার হামলা হলে যুদ্ধ বিস্তারের হুঁশিয়ারি ইরানের
এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পরও ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তনের আশা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বুধবার এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
মোজতবা খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশটির আধিপত্যবাদী আচরণ বদলে যাবে, এমন আশা করা ভুল। ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দেওয়ার চিন্তাও সঠিক নয়।
গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তার বাবা ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ক্ষমতায় আসেন মোজতবা খামেনি। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। লিখিত বার্তার মাধ্যমে তিনি বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেইও ট্রাম্পের সামরিক ও রাজনৈতিক পরাজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
তবে নির্বাচনের দিনও হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, সেখানে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প বলেন, দ্বীপটিতে একটি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেটি সম্পন্ন হওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি এ হামলাকে ‘ছোটখাটো’ বলে উল্লেখ করেন।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দাবি, কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’সহ এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে তাকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
যদিও মঙ্গলবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেন, পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তার ভাষায়, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে, তবে যুদ্ধ শুরুর কোনো কারণ না-ও থাকতে পারে।
যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা
এদিকে সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়া ঠেকাতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তার সরকার আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আগে যেসব বিষয়ে আলোচনার সুযোগ ছিল না, সেগুলো নিয়েও আলোচনার জন্য সর্বোচ্চ নেতা সরকারকে নতুন ক্ষমতা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারও একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদী। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, কাতারের দেওয়া প্রস্তাব ও ধারণাগুলো দুই পক্ষই পর্যালোচনা করছে।
চীনও বুধবার জানিয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া ঠেকানো তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats