সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বীণা সিক্রি বলেছেন, পাকিস্তানের কারণে নয় বরং সন্ত্রাসবাদের নীতিগত ইস্যুতে ভারত সাউথ এশিয়ান অ্যাসোশিয়েশন ফর রিজিয়নাল কোঅপারেশন (সার্ক) কার্যক্রমে অগ্রগতি আটকে রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সমস্যার সমাধান ছাড়া সার্ক এগোতে পারবে না।
ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিক্রি বলেন, এটি শুধু সন্ত্রাসীদের বিষয় নয়। অর্থ কোথা থেকে আসছে, অস্ত্র কোথা থেকে আসছে এসব বিষয়ও পরিষ্কার করতে হবে। তখনই আমরা স্পষ্টভাবে বলতে পারব যে, শুধু পাকিস্তানের কারণে সার্ককে আটকে রাখা হয়নি। আমরা সন্ত্রাসবাদের নীতিগত প্রশ্নে সার্ককে স্থগিত রেখেছি এবং চাই এই সমস্যার সমাধান হোক। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি আঞ্চলিক সম্পৃক্ততাও বাড়ানো প্রয়োজন। সিক্রি বলেন, বাংলাদেশ, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে পরিবর্তন এসেছে। নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, বৃত্তি, বাজার, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বাস্তব বিষয়গুলো নিয়ে আগ্রহী।
এসব ক্ষেত্রে ভারতের বিশাল সম্ভাবনা ও সক্ষমতা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভারত তার নীতিগত অবস্থান বজায় রেখেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে পারে। তার ভাষায়, সার্ক ও সিন্ধু পানি চুক্তির মতো ইস্যুতে আমাদের অবস্থান দৃঢ় থাকতে হবে। তবে একই সঙ্গে আগের তুলনায় আরও বেশি সহযোগিতার প্রস্তাব দিতে হবে। এতে সম্পর্ক উন্নত হবে। সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বীণা সিক্রি বলেন, সার্ক ১৯৮০-এর দশকে গঠিত হয়েছিল।
কিন্তু এটি কার্যকর হয়নি। সত্যি বলতে, এটি কাজ করেনি। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান জানিয়ে সিক্রি বলেন, সার্কের ভেতরে চলমান ভারত-পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আলাদা করে দেখতে হবে। পাকিস্তানকে সম্মান দিতে হবে, কারণ এখন বিশ্ব পাকিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বহুমুখী যোগাযোগ বজায় রেখেছে। তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৪০ মিনিটের আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ইরানের মাসুদ পেজেশকিয়ান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগের দরজা খোলা রেখেছি। পাকিস্তান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করছে। আর সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হতে পারে না। যদি তারা সন্ত্রাসবাদ থেকে সরে আসে, তাহলে সেটি হবে বড় অগ্রগতি।
তিনি আরও বলেন, বাইরের চাপ বা মধ্যস্থতা পাকিস্তানের অবস্থান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে। সিক্রির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কেউ যদি পাকিস্তানকে এ বিষয়ে চাপ দিতে পারে, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আমরা জানি প্রায় প্রতিটি সার্ক বৈঠকের আগে বা পরে কোনো না কোনো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সার্কের সদস্য দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। সংস্থাটির সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত। দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংহতি ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats