ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রাঠকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের মাত্র দুই দিন পর বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে এই হামলা হয়। তদন্তকারীরা জানান, প্রথম ভুয়া নম্বর প্লেটধারী এক গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ি গতিরোধ করে। এরপর হামলাকারী মোটরসাইকেলে এসে তিনবার চন্দ্রনাথকে গুলি করে। দেশটির স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। চন্দ্রনাথের গাড়িটি প্রথমে দোলতালার কাছে মধ্যমগ্রামে আটকানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িটি রাস্তার মাঝে চন্দ্রনাথের গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এরপর চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে অন্তত চারটি গুলি চালায় হামলাকারীরা। এরপর ওই ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িটি ফেলে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
স্থানীয় হাসপাতালের একজন চিকিৎসক পিটিআই’কে বলেন, চন্দ্রনাথকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার বুকে এবং হৃদপিন্ডে গুলি লেগেছিল।
ওই চিকিৎসক আরও বলেন, ভুক্তভোগীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। চন্দ্রনাথের বুকে দুটি গুলির আঘাত ছিল, যার একটি হৃৎপিণ্ড ভেদ করে এবং আরেকটি গুলি তার পেটে লাগে। তাকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
একজন প্রতক্ষ্যদর্শী দাবি করেছেন যে হামলাকারীরা পেশাদার ছিলেন।
ওই ব্যক্তি এনডিটিভিকে বলেন, চন্দ্রনাথের গাড়িটি কেবল আমাকে অতিক্রম করলো, এরপর রাস্তার মাঝে হুট করে থামলো এবং বাইকে আসা এক ব্যক্তি গাড়ির বামপাশে গুলি চালালো। হামলাকারীদের দেখে পেশাদার মনে হয়েছে। এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, আমি দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি গাড়ি এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ সিদ্ধ নাথ গুপ্ত বলেন, চন্দ্রনাথের গতিরোধ করা গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। তবে গাড়িতে যে নম্বর প্লেট লাগানো ছিল তা ভুয়া। এ ছাড়া মোটরসাইকেলগুলোর নম্বর প্লেটও ভুয়া ছিল।
পুলিশ ধারণা করছে, এই হামলায় হামলাকারীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেছেন, হামলাকারীরা সম্ভবত গ্লোক ৪৭এক্স পিস্তল ব্যবহার করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমবঙ্গের ঊর্ধতন এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই ধরনের অস্ত্র সাধারণ ক্রিমিনালরা ব্যবহার করে না। আমরা তদন্ত করে দেখছি যে এই হামলায় পেশাদার শুটার জড়িত ছিল কিনা।
সিদ্ধ নাথ গুপ্ত বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও তাজা গুলি উদ্ধার করেছি। এই মুহূর্তে হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়।
৪০ মিনিট ধরে অপেক্ষায় ছিল হামলাকারীরা
চন্দ্রনাথ শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মধ্যমগ্রামের দোহারিতে আবাসিক কমপ্লেক্সে থাকতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলাকারীরা চন্দ্রনাথের জন্য ৪০মিনিট ধরে অপেক্ষায় ছিল। তিনি স্করপিও এসইউভি ব্যবহার করতেন। এই গাড়িতে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার স্টিকার লাগানো ছিল। তাই তার গাড়ি চিনতে হামলাকারীদের কোনো সমস্যা হয়নি।
মমতার পরাজয়ের কারণেই চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়েছে, দাবি শুভেন্দুর
চন্দ্রনাথের মৃত্যুকে ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ বলে অভিহিত করেছেন শুভেন্দু। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি উপায়ে ফাঁসিতে ঝোলানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হওয়ার কারণেই খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথ রথকে! এমনই দাবি করেছেন শুভেন্দু। বারাসত হাসপাতাল চত্বরে তিনি বলেন, “একটি নিষ্পাপ, শিক্ষিত, তরুণকে খুন করা হল কেবলমাত্র বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক বলে আর শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছে বলে।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “চন্দ্রকান্তের অপরাধের কোনও ইতিহাস নেই। সরাসরি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিল না। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সহায়ক হওয়ার জন্যই ওকে খুন করা হয়েছে।”
চন্দ্রনাথের মৃত্যুকে ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ বলে অভিহিত করেছেন শুভেন্দু। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি উপায়ে ফাঁসিতে ঝোলানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “ঠান্ডা মাথায় রেকি করে খুন করা হল। তদন্তকারীদের কাছে আমার প্রার্থনা, এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটা লোককে খুঁজে বার করে আইনি পথে ফাঁসিতে ঝোলানো হোক।” বৃহস্পতিবার দুপুরে শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন দুই বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো।
বৃহস্পতিবার শুভেন্দু জানিয়েছেন, রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ডিজি শুভেন্দুকে জানিয়েছেন, খুনে ব্যবহৃত মোটরবাইকটি ঘটনাস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে পাওয়া গিয়েছে। শুভেন্দু এ-ও জানিয়েছেন যে, চন্দ্রনাথের চণ্ডীপুরের বাড়িতেও যাবেন তিনি। সেখানে পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ এবং বিধায়কেরা সকলে রয়েছেন বলে জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, আমার কর্তব্য হল, চন্দ্রনাথের স্ত্রী-কন্যাসন্তানকে দেখা।”
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দুর সহকারীকে। গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হন। দু’জনকেই প্রথমে মধ্যমগ্রামের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপর জনকে কলকাতায় বাইপাসের ধারে এক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। নিহত চন্দ্রনাথের দেহ বুধবার রাতেই নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের মর্গে।
চন্দ্রনাথ হত্যার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এই তদন্তকারী দলে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি সিআইডি-র আধিকারিকেরাও রয়েছেন। তবে কতজন সদস্যকে নিয়ে এই সিট গঠিত হয়েছে, কোন আধিকারিকেরা এই তদন্তকারী দলে রয়েছেন, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats