যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ছবি শেয়ার করেছেন ট্রাম্প। সেখানে তাঁর পেছনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ছবির ওপর বড় অক্ষরে লেখা—‘নো মোর মি. নাইস গাই!’ (ভদ্র সাজার দিন শেষ!)।
ছবির সঙ্গে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্রমুক্ত চুক্তির পথে হাঁটতে ব্যর্থ হচ্ছে। তেহরানকে সতর্ক করে তিনি লেখেন, ইরানকে ‘দ্রুত বুদ্ধিমান (বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা বা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া) হতে হবে’। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা নিয়ে যখন গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এ কড়া বার্তা এল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের অবস্থানে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
ট্রাম্প কখনো কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের কথা বলছেন, আবার কখনো আলোচনা ব্যর্থ হলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।
৫৭ দিন পর সচল হলো ইরানের প্রধান বিমানবন্দর
দীর্ঘ ৫৭ দিন বন্ধ থাকার পর ইরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘ইমাম খোমেনি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ আবার সচল হয়েছে। যুদ্ধের কারণে ইরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় রাজধানী তেহরানের এ প্রধান প্রবেশপথটি দীর্ঘ দিন অচল ছিল। তবে দুই দিন আগে আকাশসীমা খুলে দেওয়ার পর আবার ফ্লাইট শুরু হয়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ফ্লাইট পরিচালিত হলেও বর্তমানে তা ১০ থেকে ১৫টিতে নেমেছে। তবে ধীরে ধীরে কার্যক্রম বাড়ছে এবং টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ফিরতে শুরু করেছে।
দেশজুড়ে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই এ বিমানবন্দর সচল করা হয়েছে। তেহরানের দ্বিতীয় বিমানবন্দর ‘মেহরাবাদ’ যুদ্ধে বারবার হামলার শিকার হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহৃত হয় এ বিমানবন্দর। এছাড়া তাবরিজ ও উর্মিয়ার মতো দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
দীর্ঘ কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে বেশ কিছু যাত্রীবাহী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানের বিমান খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও ইরানে মানুষের মনে রয়েছে শঙ্কা। যুদ্ধবিরতি এখন পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও স্থায়ী শান্তি আসবে, নাকি আবারও সংঘাত শুরু হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।
কংগ্রেসে আজ জেরার মুখে পড়ছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ প্রথম মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। আজ বুধবার প্রতিনিধি পরিষদের আর্মড সার্ভিস কমিটির এক শুনানিতে পিট হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের কঠোর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে আলোচনার জন্য এ শুনানির আয়োজন করা হয়েছে। তবে বাজেটের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেওয়া তথ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই। ফলে আজকের শুনানি বেশ উত্তপ্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুনানিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইনও সাক্ষ্য দেবেন।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, গালফ নিউজ ও মিডল ইস্ট আই
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats