ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক – ০১ এর পরবর্তী অংশ
পারস্পরিক সম্মানের ফলে কোনো পক্ষই অন্য পক্ষকে মুছে ফেলতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে সম্মানের বিষয়টি কী দাবি করে? বন্ধুত্ব নয়, বিশ্বাস নয়, কিংবা কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোও নয়। এর চেয়েও মৌলিক কিছু—তা হলো একে অপরের বৈধ স্বার্থের স্বীকৃতি।
চীনের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো সার্বভৌমত্ব, উন্নয়নের স্বার্থ এবং রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের স্বীকৃতি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ, বিভিন্ন জোট এবং প্রকৃত অর্থেই সংবেদনশীল প্রযুক্তি সুরক্ষার অধিকারের স্বীকৃতি।
এ কারণেই প্রযুক্তি—সংক্রান্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'সম্মান' বিষয়টি অত্যন্ত অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। ওয়াশিংটন যখন চীনে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি সীমিত করে, তখন বেইজিং এই নীতিকে চীনের উন্নয়নকে দমিয়ে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে। আবার ওয়াশিংটন একই নীতিকে জাতীয় নিরাপত্তার পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে।
উভয় ব্যাখ্যাই একই সাথে বিদ্যমান থাকতে পারে। সম্মান প্রদর্শন করার অর্থ এই নয় যে ওয়াশিংটনকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিত্যাগ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এটা স্বীকার করা যে, চীনের ব্যাখ্যাটি ভিত্তিহীন বা অপ্রাসঙ্গিক নয়। একইভাবে, বেইজিংকেও স্বীকার করতে হবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা—সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো কোনোভাবেই অযৌক্তিক বা অবৈধ নয়। প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান বিষয়টি এমনই। অন্য পক্ষের স্বার্থের সাথে আপনাকে একমত হতে হবে এমন নয়, তবে সেই স্বার্থের অস্তিত্ব রয়েছে—তা স্বীকার করাটাই জরুরি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সম্মানের বিষয়টি আলোচনা করা যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো একটি চূড়ান্ত 'স্ট্রেস টেস্ট' বা সক্ষমতা ও সহনশীলতার কঠিন পরীক্ষা। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ই এআই—এর ক্ষেত্রে প্রধান শক্তি। উভয় দেশই জানে যে, এআই অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা, সামরিক সক্ষমতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং জাতীয় ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলবে। তাই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ার পেছনে উভয় পক্ষেরই নিজস্ব তাগিদ রয়েছে। অথচ এআই এমন কিছু ক্ষেত্রও তৈরি করে যেখানে পরিস্থিতির অনিয়ন্ত্রিত তীব্রতা বৃদ্ধি (escalation) কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক নয়।
শীর্ষ বৈঠকে এআই—কে সংলাপ ও সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি উল্লেখযোগ্য, কারণ একই সময়ে এআই—এর ক্ষেত্রে দেশ দুটির মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এই সহযোগিতা গড়ে ওঠার কারণ হঠাৎ করে পারস্পরিক আস্থা তৈরি হওয়া নয়; বরং এর কারণ হলো, কিছু ঝুঁকি এককভাবে মোকাবিলার চেয়ে যৌথভাবে মোকাবিলা করা সহজ।
'ডিপসিক' —এর ঘটনাটি প্রমাণ করে কেন ওই তিনটি নীতি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে চীন অত্যাধুনিক কম্পিউটিং সক্ষমতা বা প্রযুক্তির নাগাল না পায়। এর বাস্তব প্রভাবও পড়েছে। তবে এর ফলে চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সীমিত হার্ডওয়্যার ব্যবহার করেও অধিকতর দক্ষ হয়ে ওঠার এবং চীনের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা (localization) অর্জনের গতি বাড়ানোর তাগিদও তৈরি হয়েছে।
অনেক বিশ্লেষক এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপগুলো চীনের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রাপ্তি ব্যাহত করেছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভরতা কমানোর বা স্বনির্ভর হওয়ার প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
প্রযুক্তিগতভাবে কোনো দেশকে আটকে রাখার বা 'কন্টেইনমেন্ট'—এর ক্ষেত্রে এটিই এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। কোনো বিধিনিষেধ হয়তো আজ কারো প্রতিপক্ষকে সীমাবদ্ধ করে রাখতে পারে, কিন্তু তা—ই আবার আগামীকাল সেই বিধিনিষেধ কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রতিপক্ষকে আরও বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তুলতে পারে।
সবচেয়ে কঠিন বিষয় হচ্ছে ন্যায্যতা। তিনটি নীতির মধ্যে 'ন্যায্যতা' বা 'ফেয়ারনেস'—এর বিষয়টি বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন। ওয়াশিংটনের বক্তব্য: চীনের ভর্তুকি, রাষ্ট্রীয় সহায়তা এবং বাজারের নানা বাধা অসম প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে। বেইজিংয়ের বক্তব্য: যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ অসম প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে। উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ দাবির সপক্ষে প্রমাণ হাজির করতে পারে। এ কারণেই ন্যায্যতার অর্থ কেবল এমন হতে পারে না যে—"আমার নীতিটি বৈধ, আর তোমারটি অন্যায্য।" এর একটি কার্যকর সংজ্ঞা খুঁজতে হলে নিচের প্রশ্নগুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন:
নিয়মগুলো কি স্বচ্ছ? এগুলোর প্রয়োগ কি সামঞ্জস্যপূর্ণ? বিধিনিষেধগুলো কি ঘোষিত উদ্দেশ্যের সাথে সত্যিকার অর্থেই সম্পর্কিত? জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে দেওয়া ছাড়ের (exceptions) সংজ্ঞা কি সুনির্দিষ্ট ও সীমিত? কোম্পানিগুলোর কি প্রতিযোগিতায় নামার মতো ন্যায্য সুযোগ রয়েছে? বিপক্ষ পক্ষ যদি একই নিয়ম চাপিয়ে দিত, তবে কি তা যৌক্তিক মনে হতো?
শেষের প্রশ্নটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছ থেকে ন্যায্য আচরণ দাবি করা সহজ, কিন্তু নিজের ওপর তা প্রয়োগ করা কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র—চীন সম্পর্কের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যকার সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে পড়া। এর বিপদটি স্পষ্ট। যদি প্রতিটি অর্থনৈতিক দুর্বলতা জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তবে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রই নিরাপত্তা—কেন্দ্রিক বিষয় হিসেবে গণ্য হতে শুরু করে। বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ইত্যাদি নিরাপত্তার বিষয় হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত সাধারণ বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতাকে কৌশলগত সংঘাত থেকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এখন আসা যাক পারস্পরিকতা বিষয়ে । পারস্পরিকতাই এই কাঠামোটিকে একটি লেনদেন—ভিত্তিক বা 'ট্রানজ্যাকশনাল' রূপ দেয়। ওয়াশিংটন চায় বাজারে প্রবেশাধিকার। চীন চায় প্রযুক্তির নাগাল। ওয়াশিংটন চায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের বিষয়ে পদক্ষেপ। চীন চায় শুল্ক ও বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি। ওয়াশিংটন চায় আমেরিকান কোম্পানিগুলোর জন্য আরও শক্তিশালী সুরক্ষা। চীন চায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাধার পরিমাণ কমাতে। এই স্বার্থগুলো আপনা—আপনি এক বিন্দুতে মেলে না। তবে এগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আদান—প্রদান বা বিনিময় সম্ভব।
এটাই পারস্পরিকতাকে আদর্শগত ঐকমত্য থেকে আলাদা করে। এর মূল কথা হলো: আমাদের একই জিনিস চাইতে হবে এমন নয়। বরং এমন বিনিময় খুঁজে বের করতে হবে যা উভয় পক্ষই লাভজনক বা অর্থবহ বলে মনে করে।
এই কাঠামোটির সম্ভবত সবচেয়ে 'ট্রাম্প—সুলভ' (Trumpian) দিক এটিই। আবার বেইজিংও ক্রমশ এই পদ্ধতির সাথে কাজ করতে শিখে গেছে। তবে পারস্পরিকতার একটি বিপজ্জনক রূপও রয়েছে। পারস্পরিকতার একটি খারাপ দিক হলো: তুমি আমার ক্ষতি করলে, তাই আমিও তোমার ক্ষতি করব। এটি হলো সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি বা 'এসক্যালেশন'। গঠনমূলক রূপটি হলো: তুমি এক পদক্ষেপ নিলে, আমিও অন্য পদক্ষেপ নিলাম।
এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন আলোচনা বা সমঝোতা। একটি স্থিতিশীল সম্পর্কের জন্য দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই প্রয়োজন। অন্যথায়, প্রতিটি ছাড় বা সুবিধা প্রদান পাল্টা পদক্ষেপের নজির হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিটি শুল্ক আরোপ আরেকটি শুল্ক আরোপের অজুহাত হয়ে ওঠে। প্রতিটি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরেকটি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর সম্পর্কটি তখন এক অন্তহীন চক্রে আটকা পড়ে যায়: নিষেধাজ্ঞা → পাল্টা ব্যবস্থা → পাল্টা নিষেধাজ্ঞা → পাল্টা পাল্টা ব্যবস্থা।
কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই চক্রটি ভাঙা প্রয়োজন। আসল পরীক্ষাটি হবে ওয়াশিংটন—পরবর্তী সময়ে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। শি জিনপিং ওয়াশিংটন ত্যাগ করেছেন। ট্রাম্প এই বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেছেন। শি বলেছেন, সম্পর্কটি একটি গঠনমূলক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। কিন্তু কৌশলগত স্থিতিশীলতার পরিমাপ কোনো রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের পরিবেশ দিয়ে করা হবে না। এর পরিমাপ হবে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ওপর ভিত্তি করে। বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়গুলো কি তাদের চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন করবে? বাজারে প্রবেশাধিকার কি সম্প্রসারিত হবে? গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে বিরোধগুলো কি নিয়ন্ত্রণযোগ্য হয়ে উঠবে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক আলোচনা কি অর্থবহ হবে? সংকটকালে সামরিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো কি সত্যিই কার্যকর থাকবে? নিষেধাজ্ঞাগুলো কি আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হবে—নাকি সেগুলোর পরিধি বাড়তেই থাকবে? এবং সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি হলো: ওয়াশিংটন ও বেইজিং কি এমনভাবে মতপার্থক্য বজায় রাখতে পারবে যেখানে প্রতিটি মতপার্থক্যকে পুরো কাঠামোর ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হবে না?
এসব প্রশ্নই কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে কার্যকর করে তুলতে পারে। শুধুমাত্র "উন্নত সম্পর্ক"—এর আহ্বান জানানোর চেয়ে এটি অনেক বেশি কঠোর ও সুনির্দিষ্ট একটি কাঠামো। এটি পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য আদর্শগত মিলের প্রয়োজন নেই। এটি প্রতিযোগিতাকে বর্জন করে না। এমনকি সম্পর্কের অবনতির জন্য কে দায়ী—সে বিষয়ে ঐকমত্যের প্রয়োজনও এতে নেই। এর জন্য প্রয়োজন আরও বাস্তবসম্মত কিছু: আচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা সীমাবদ্ধতা।
"কৌশলগত প্রতিযোগিতা" (strategic competition) প্রত্যয়টি তাদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাস্তবতাকে তুলে ধরেছিল। "নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা" (managed competition) প্রত্যয়টি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুরক্ষাবলয় বা নিয়ম—কানুন থাকার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করেছিল। "কৌশলগত স্থিতিশীলতা" (strategic stability) প্রত্যয়টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বিপর্যয়কর পর্যায়ে যাওয়া থেকে প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা বোঝায়। আর এখন: পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা এবং পারস্পরিকতা—এই শব্দগুলো সেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার শর্তগুলোকে তুলে ধরছে। দুদেশ একই কাঠামোর ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েও এমন কিছু সাধারণ ক্ষেত্র খুঁজে পেতে পারে যা এটিকে কার্যকর করে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কি আবারও বন্ধু হয়ে উঠছে—এমন প্রশ্ন করার একটি প্রবণতা দেখা যায়। তারা বন্ধু হচ্ছে না। তারা প্রতিদ্বন্দ্বীই থাকছে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে। তারা উন্নত উৎপাদনখাতে প্রতিযোগিতা করবে। তারা প্রভাব বিস্তারের জন্যও প্রতিযোগিতা করবে। তাইওয়ান ও বাণিজ্য নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেবে এবং তারা একে অপরের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করবে। তবে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো, তারা এমন কোনো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে কি না যেখানে প্রতিযোগিতা ও স্থিতিশীলতা—উভয়ই বজায় থাকবে।
এটি অনেক বেশি সীমিত একটি লক্ষ্য। এবং সম্ভবত অনেক বেশি অর্জনযোগ্যও বটে। এই তিনটি শব্দ একটি চমৎকার ও পরিশীলিত সূত্র তুলে ধরে: পারস্পরিক সম্মান বৈরিতাকে সীমিত করে। ন্যায্যতা স্বেচ্ছাচারিতাকে সীমিত করে। পারস্পরিক আদান—প্রদান একপেশে মনোভাবকে সীমিত করে। কৌশলগত স্থিতিশীলতা সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধিকে সীমিত করে।
ওয়াশিংটন শীর্ষবৈঠক যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার মৌলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো সুরাহা করেনি। আসলে তা করার কোনো সম্ভাবনাও ছিল না। আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প এবং শি—এর রাষ্ট্রপতিত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক পরেও—যুক্তরাষ্ট্র ও চীন হয়তো বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি কার্যকর কিছু খুঁজে পাবে: এমন এক উপায় যার মাধ্যমে তারা একে অপরের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ হয়েও ‘শত্রু’ না হয়ে টিকে থাকতে পারবে।
# দুলাল আহমদ চৌধুরী, সম্পাদক ও প্রকাশক, News Diplomats
www.newsdiplomats.com
ইমেইল: [email protected]
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats