২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, ওয়াশিংটন ডি.সি.—তে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে একটি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মে মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের পর এটি হবে এই দুই নেতার মধ্যে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক। মে মাসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উল্লেখযোগ্য ফলাফলের মধ্যে অন্যতম ছিল "গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা" (constructive strategic stability)মূলক সম্পর্কের ঘোষণা।
২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে একটি "কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী" হিসেবে বিবেচনা করে আসছে এবং তাদের চীন—নীতিকে পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছে। সে অবস্থানটি জো বাইডেন কর্তৃক আরও জোরদার করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নতুন রূপ পায়। ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শিল্পখাতের পুনরুজ্জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং জাতীয় কৌশলের মূল চাবিকাঠি হিসেবে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোকে চিহ্নিত করেছেন; একইসাথে তিনি শুরুতে চীনের সাথে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে, চীন তার মূল স্বার্থের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারে যে চাপ প্রয়োগের কৌশল অকার্যকর এবং গঠনমূলক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। ২০২৫ সালে উচ্চ—পর্যায়ের বৈঠক এবং দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যকার দুটি টেলিফোন আলাপ দুদেশের মধ্যে আলোচনা ও সহযোগিতার পথে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
১৪ মে, ২০২৬ তারিখে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চীন—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের বৈঠকে একটি গঠনমূলক ও কৌশলগতভাবে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে। ‘স্থিতিশীলতার চারটি মাত্রা’র ওপর ভিত্তি করে এই নতুন অবস্থানটি আগামী তিন বছর এবং তার পরবর্তী সময়ের জন্য চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছে।
"কৌশলগত স্থিতিশীলতা" থেকে "গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা"—এই রূপান্তরটি সেই কঠিন ও জটিল প্রক্রিয়ার প্রতিফলন। এর মধ্য দিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই একে অপরের সম্পর্কে নিজেদের ধারণা ক্রমাগত সংশোধন করেছে এবং ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের দিকে এগিয়েছে। এই বিবর্তন চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সতর্ক অথচ তাৎপর্যপূর্ণ পুনর্বিন্যাস ও স্থিতিশীলতাকে নির্দেশ করে।
চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে, সেই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করা ছিল না; বরং শীর্ষ—পর্যায়ের কূটনীতি ব্যবহার করে চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও পূর্বাভাসযোগ্য একটি কাঠামো পুনরায় প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। বর্তমানে এই সম্পর্কটি কেবল প্রথাগত বাণিজ্য বিরোধের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আরও ব্যাপক ও জটিল কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে। সেই অর্থে, সম্মেলনটি মূলত ছিল সম্পর্কের সুর বা গতিপথ নির্ধারণকারী (tone-setting) একটি বৈঠক, যার লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের দিকে ধাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করা।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চারটি দৃষ্টিকোণ থেকে ‘গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা’র বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।
প্রথমত, এটি হতে হবে সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি ইতিবাচক স্থিতিশীলতা। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতাকে তাদের সম্পর্কের মূলধারায় পরিণত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও বাণিজ্য এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থের পরিধি সম্প্রসারিত করা।
দ্বিতীয়ত, এটি হতে হবে যথাযথ সীমার মধ্যে প্রতিযোগিতাভিত্তিক একটি সুস্থ স্থিতিশীলতা। বড় শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়, তবে তা যেন চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সামগ্রিক রূপ নির্ধারণ না করে। যেখানে প্রতিযোগিতা বিদ্যমান, সেখানে তা হতে হবে সুস্থ প্রতিযোগিতা—যেখানে উভয় পক্ষ একে অপরের কাছ থেকে শেখে; ইতিবাচক প্রতিযোগিতা—যেখানে উভয় পক্ষই আরও ভালো করার চেষ্টা করে; এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতা—যা নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলে।
তৃতীয়ত, এটি হতে হবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য মতপার্থক্যসহ একটি ধারাবাহিক স্থিতিশীলতা। উভয় পক্ষেরই উচিত নীতিগত ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিশেষ করে নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা। চীন—যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা উভয় দেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জন্য অধিকতর নিশ্চয়তা প্রদান করবে।
চতুর্থত, এটি হতে হবে প্রত্যাশিত শান্তি ও দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই সংঘাত, মুখোমুখি অবস্থান বা যুদ্ধের দিকে ধাবিত হওয়া চলবে না। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই হলো উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সাধারণ ভিত্তি। চীন—যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের পরিণতি উভয় পক্ষ এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠবে। এর মূল চাবিকাঠি হলো চীন—যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যৌথ ইশতেহার মেনে চলা এবং একে অপরের সামাজিক ব্যবস্থা ও উন্নয়নের পথ, মূল স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের বিষয়সমূহ এবং উন্নয়নের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।
"কৌশলগত স্থিতিশীলতার গঠনমূলক সম্পর্ক"—এর ধারণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করে এবং এর তাৎপর্য তিনটি স্তরে অনুধাবন করা সম্ভব।
প্রথমত, এটি চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। "কৌশলগত স্থিতিশীলতা" ধারণাটি মূলত সামরিক ও পারমাণবিক কৌশলের সাথে সম্পৃক্ত। চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ ইঙ্গিত দেয় যে, তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য কাঠামো গড়ে তুলতে আগ্রহী।
দ্বিতীয়ত, "কৌশলগত স্থিতিশীলতা" নিজেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধারণা। চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ প্রমাণ করে যে, উভয় পক্ষই এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং বিশ্বব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—এর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের কেন্দ্রীয় ভূমিকা স্বীকার করে।
তৃতীয়ত, এই শব্দগুচ্ছের মধ্যে গতিশীল অগ্রগতির প্রত্যাশাও নিহিত রয়েছে। "গঠনমূলক" (constructive) শব্দটির অন্তর্ভুক্তি ইঙ্গিত দেয় যে, কৌশলগত স্থিতিশীলতা কেবল সংঘাত এড়ানোর ন্যূনতম ভিত্তি বা কোনো স্থবির ভারসাম্য নয়, বরং এটি একটি ক্রমবিকাশমান প্রক্রিয়া যার আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।
চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের পূর্ববর্তী ধারণাগুলোর তুলনায় এই নতুন অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক তাৎপর্য বহন করে।
ব্যবহারিক দিক থেকে, এটি প্রথমেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি অংশীদার নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী—সেই মৌলিক প্রশ্নের একটি স্পষ্ট উত্তর প্রদান করে। এটি ‘কৌশলগত প্রতিযোগিতা’র মাধ্যমে চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করার ভুল যুক্তিটিকে প্রত্যাখ্যান করে। এই নতুন অবস্থান কেবল বিগত কয়েক বছরের ভুল নীতিগুলোর সংশোধনই নয়, বরং এটি চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথকে নতুন করে সাজানোরও একটি পদক্ষেপ। এই নতুন কাঠামোর আওতায় বিশ্ব হয়তো ‘জিরো—সাম’ বা পারস্পরিক ধ্বংসাত্মক প্রতিযোগিতার ফাঁদ থেকে বেরিয়ে এসে আরও স্থিতিশীল, সহযোগিতামূলক ও ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
পাশাপাশি, এই নতুন অবস্থান আন্তর্জাতিক দায়িত্ববোধের একটি যৌথ উপলব্ধিকে তুলে ধরে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং বিশ্বের বৃহত্তম দুটি অর্থনীতি। চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অনেক আগেই কেবল দ্বিপাক্ষিক গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন, সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। এদিক থেকে বিবেচনা করলে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নে নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাছাড়া, এই নতুন অবস্থানটি প্রতিটি দেশের উন্নয়নের পথের বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও গভীর উপলব্ধিকে প্রতিফলিত করে। ২০২৬ সালে উভয় দেশই উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। চীন তার পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার শুরুর পর্যায়ে রয়েছে এবং উচ্চ—মানের উন্নয়নের মাধ্যমে ‘চীনা ধাঁচের আধুনিকায়ন’ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিচ্ছে; অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে। উভয় পক্ষই স্বীকার করে যে, চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবন এবং আমেরিকাকে পুনরায় মহান করে তোলার (Make America Great Again) লক্ষ্যগুলো সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলতে পারে এবং এর ফলে বিশ্ব উপকৃত হতে পারে। এই ঐকমত্য মতাদর্শগত পক্ষপাতকে প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রমাণ করে যে, ভিন্ন ভিন্ন সভ্যতা, শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন—পথের অধিকারী দেশগুলোও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও যৌথ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।
তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই নতুন অবস্থান পররাষ্ট্র নীতির তত্ত্ব ও অনুশীলনকে সমৃদ্ধ করে।
প্রথমত, এটি কূটনীতি বিষয়ে শি জিনপিং—এর চিন্তাধারার মূল নির্যাস ও বিবর্তনকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিফলিত করে। দ্বিতীয়ত, এই নতুন ধারণাটি চীন—যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সর্বশেষ সারসংক্ষেপ তুলে ধরে।
পরিশেষে, এই নতুন বিন্যাসটি ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা’র প্রথাগত ধারণাকে যুগোপযোগী করে তোলে। প্রথাগত কৌশলগত স্থিতিশীলতার ধারণাটির উৎপত্তি হয়েছিল স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে, যা মূলত পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ এবং অনিয়ন্ত্রিত অস্ত্র প্রতিযোগিতা এড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিত। এর বিপরীতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গঠনমূলক ও কৌশলগতভাবে স্থিতিশীল সম্পর্ক এই ধারণাকে সামরিক ও পারমাণবিক নিরাপত্তার গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আদান—প্রদান এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাসহ স্থিতিশীলতার এক সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে প্রসারিত করে।
(পরবর্তি অংশ: বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণকারী দুই পরাশক্তি-০২ )
দুলাল আহমদ চৌধুরী, সম্পাদক ও প্রকাশক, News Diplomats
www.newsdiplomats.com
ইমেইল: [email protected]
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats