ঢাকার বিভিন্ন রুটে বাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে # চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের চার্জ বৃদ্ধির দাবি
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর প্রথম দিনে সরকারি সিদ্ধান্ত আসার আগেই রাজধানীর গণপরিবহনসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দিনভর গণপরিবহনের চালক ও তার সহকারী এবং দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছেন যাত্রীরা।
যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ঢাকার বিভিন্ন রুটে বাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লায় যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে আগের নির্ধারিত ভাড়া থেকে একশত টাকা বেশি। তবে তেলের দাম বাড়ার পর সোমবার বিকালে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বিআরটিএর সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা।
বৈঠক থেকে বের হয়ে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এস এম আহমেদ খোকন বলেন, “আমাদের স্পষ্ট কথা, সরকার বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত আমরা সকলকে বলছি কেউ অতিরিক্ত ভাড়া কাটবেন না। এ জন্য বিআরটিএ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।”
বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হল জানতে চাইলে এই নেতা বলেন, “কিছু দিন আগেই আমরা মিটিং করে বাস ভাড়া প্রতি টাকায় এক পয়সা করে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেই হিসাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সার জায়গায় দুই তিন পয়সা বেড়ে যাবে। আবার দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা বাসে প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ২৩ পয়সার জায়গায় দুই পয়সা বেড়ে যাবে।”
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারিভাবে কখন ঘোষণা আসতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে খোকন বলেন, “আমাদের মিটিং শেষে বিআরটিএ কর্মকর্তারা প্রস্তাবনা নিয়ে সচিবালয়ে গেছে, হয়ত রাতেই সিদ্ধান্ত আসবে।”
এর আগে সোমবার দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। মহাখালী থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত রাস্তায় বৈশাখী পরিবহন ও ভূঁইয়া পরিবহনের যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা করে। এই রাস্তার আগের ভাড়া ছিল ১০ টাকা।
এই দুই পরিবহনের চালক ও তার সহকারীরা বলছেন, এই ভাড়া আদায় করতে গিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে নানা কথা শুনতে হচ্ছে। তেমনই বাস চালক ও চালকের সহকারীরা শোনাচ্ছেন পাল্টা যুক্তি। তাদের কথা এক ট্রিপে তাদের ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে তেল নিতে হচ্ছে।
বৈশাখী পরিবহণের হেলপার রফিক মিয়া বলেন, “এই মাত্র তেল ভরে আসলাম, তিন ট্রিপ দিতে পারব। আগের যে তেল ভরতে হত সেই পরিমান তেলে আজকে ১৫০০ টাকা বেশি লাগছে। এই ভর্তিুকি কে দেবে? তাহলে আপনারা নেমে যান আমরা বাস বন্ধ করে রাখি।”
এ সময় আরেক যাত্রী বলেন, “সরকার ভাড়া নির্ধারণ না করা পর্যন্ত ভাড়া বাড়াবেন কেন? এত দিন লাভ করছেন না, একদিন লাভ কম করেন।”
গুলিস্তান থেকে ছেড়ে যাওয়া গাজীপুর পরিবহনের যাত্রী আহনাফ মিয়া বলেন, “আমি এয়ারপোর্ট যাব, আগে নিত ৬০ টাকা। আজকে নিচ্ছে ৮০ টাকা।”
একই ভাবে গাবতলী টার্মিনালের কাউন্টারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন রুটের বাসে ৮০ থেকে ১০০ টাকা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এসি, নন-এসি প্রায় সব বাসেই বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে।”
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী অরিন পরিবহনের একটি বাসে টিকিট কেটেছিলেন ইশা মনি নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, “রংপুরে যাব। অরিন পরিবহনে আগে ৮০০ টাকা নিত, এখন নিচ্ছে ৯০০ টাকা।”
একই ভাবে অন্য কাউন্টার গুলোতে গিয়েও দেখা যায় জনপ্রতি ৮০ থেকে একশত টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে অরিন পরিবহনের কাউন্টারে বসা মনসুর আলী বলেন, “তেল তো বাড়তি টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ভাড়া বেশি না নিলে কি গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকব। আগের ভাড়া নিলে তো প্রতি ট্রিপে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লস হবে।”
গাবতলী বাস টার্মিনালের সূর্যমুখী পরিবহন কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়াদুদ হোসেন বলেন, “ফরিপুর, বরিশাল, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী রুটে ৫০ টাকা করে বেশি ভাড়া রাখা হচ্ছে। বরিশাল, পিরোজপুর রুটে নেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা করে বেশি।”
রাজধানীর মহাখালী টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, শেরপুরগামী প্রাইম কমফোর্টার বাসের ভাড়া ৭০০ টাকার পরিবর্তে নিচ্ছে ৮০০ টাকা। এই পথের
যাত্রী আহমেদ হোসেন বলেন, “সব সময় তো ৭০০ টাকা দিয়ে যাই। আজকে টিকিটে ৭০০ লেখা থাকলেও নিচ্ছে ৮০০ টাকা।”
ময়মনসিংহ রুটেও নন এসি বাসে ৭০-৮০ টাকা করে জনপ্রতি ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে বলেছেন রাজীব পরিবহনের যাত্রী ইনায়া ইসলাম।
চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের চার্জ বাড়ানোর দাবি
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের চার্জ বৃদ্ধির দাবি তুলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন বার্থ অপারেটররা। বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস এন্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সোমবার এই চিঠি দেওয়া হয়।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী বলেন, “আমরা ২০২২ সালের দরে এখনো কাজ করছি। এরপর কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও আমাদের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেট বাড়েনি। এখন যে পরিস্থিতি তাতে আমরা ভালো নেই।
“আজ বন্দর চেয়ারম্যান বরাবরে চিঠি দিয়েছি। হয়ত কাল-পরশু উনাদের পক্ষ থেকে সাড়া পাব। আমরা কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না; যা হবে আলোচনার মাধ্যমে হবে। দুই পক্ষই যেন ভাল অবস্থানে থাকতে পারে।”
অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়, “আমাদের সদস্য বার্থ অপারেটররা ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি আহ্বান করা দরপত্রের অনুকূলে সে সময়ের জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূলের ভিত্তিতে হিসেব করে দরপত্র দাখিল করেছিলেন।
“কিন্তু এরপর বিগত ২০২২ সালের ৫ অগাস্ট হঠাৎ ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ৩৪ টাকা বৃদ্ধি পায়। এর প্রেক্ষিতে তখন আমরা চুক্তি দরের সাথে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করার জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবরে চিঠি দিলেও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।”
পরে আরও একবার ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি এবং সবশেষ রোববার রাতে আরও ২০ টাকা বৃদ্ধির বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, “টেন্ডার দাখিলের সময় তেলের লিটার প্রতি মূল্য ছিল ৮০ টাকা। আর বর্তমানে তা ১৩৫ টাকা। অর্থাৎ লিটার প্রতি ৬৯ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আমাদের সদস্য বার্থ অপারেটরদের পক্ষে এই আর্থিক সংকট মোকাবিলা করে বার্থ অপারেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করা মোটেই সম্ভবপর হচ্ছে না।”
এর আগে দেশের প্রতিটি খাতে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে দাবি করা হয় চিঠিতে।
কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজটি পুরোপুরি পরিবহন নির্ভর বিধায় জ্বালানি তেলের বর্তমান বর্ধিত মূল্য কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চুক্তি দরের সঙ্গে সমন্বয় করে চার্জ বৃদ্ধি করতে অনতিবিলম্বে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বন্দর চেয়ারম্যানকে আহ্বান জানান বার্থ অপারেটররা।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats