দীর্ঘ পাঁচ বছরের সীমান্ত সংঘাত ও তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পর ভারত ও চীন—এশিয়ার দুই শীর্ষ পরাশক্তি—বর্তমানে 'প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পুনর্মিলনের' এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। তিয়ানজিন ও নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিলেও, সীমান্ত সমস্যা এবং বৈশ্বিক কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গভীর কাঠামোগত মতপার্থক্য এখনো বিদ্যমান। চীনের 'সহযোগী অংশীদার' হওয়ার প্রস্তাব এবং ভারতের 'সীমান্তে শান্তি নিশ্চিতকরণের' কঠোর শর্তের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট: বিশ্ব রাজনীতির এই গতিপথ কেবল তাদের নিজেদের সম্পর্কের ওপর নয়, বরং 'গ্লোবাল সাউথ' এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।
চীন ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরুর আগেই বিভিন্ন মহল থেকে আসা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে গণমাধ্যম সরগরম হয়ে উঠেছিল। বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দুটি দেশ, 'গ্লোবাল সাউথ'—এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং প্রতিবেশী হিসেবে চীন—ভারত সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত চীন ও ভারতের নেতাদের মধ্যকার সরাসরি বৈঠকটি প্রতিবেশী দেশ, 'গ্লোবাল সাউথ' এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কী বার্তা পৌঁছে দিল?

বৈঠককালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীন—ভারত সম্পর্কের স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের লক্ষ্যে চারটি বিষয় তুলে ধরেন:
প্রথমত, বস্তুনিষ্ঠ ও যৌক্তিক কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সম্পর্কের সঠিক দিক নির্ণয় করা। চীন ও ভারত একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী অংশীদার। তারা একে অপরের জন্য হুমকি নয়, বরং উন্নয়নের সুযোগ। উভয় দেশের বর্তমান উন্নয়ন পর্যায় এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই কৌশলগত মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা উভয় দেশ ও তাদের জনগণের অভিন্ন স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত, 'উভয়ের জয়' বা 'উইন—উইন' সহযোগিতার ধারণার মাধ্যমে একে অপরের সাফল্য নিশ্চিত করা। উভয় পক্ষের উচিত উন্নয়নকে প্রধান অভিন্ন লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আদান—প্রদান ও পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা জোরদার করা। জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়, সরাসরি বিমান চলাচল এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা, যাতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জনসমর্থনের ভিত্তি কার্যকরভাবে শক্তিশালী হয়। ভারসাম্যপূর্ণ উপায়ে একে অপরের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্বেগগুলোর সমাধান করা এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া।
তৃতীয়ত, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে সব ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ দূর করা। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সীমান্ত সমস্যা—উভয় বিষয়কেই সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া ও একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
চতুর্থত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের কল্যাণে অবদান রাখা। ব্রিকস—এর সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালনে একে অপরকে সহায়তা করা; জাতিসংঘ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, জি—২০ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা; বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা এবং সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী মোদী মনোযোগ সহকারে শি জিনপিং—এর কথাগুলো শোনেন এবং এতে সম্মতি প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত সর্বদা কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে ভারত—চীন সম্পর্ককে দেখে এসেছে। তিনি চীনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার পরিবর্তে অংশীদার হতে এবং একে অপরের উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে বরং একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে আগ্রহী। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে তিনি তাঁর আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
বৈঠককালে দুই নেতা একটি সুস্পষ্ট ঐকমত্যে পৌঁছান: কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দেখা ও বিকশিত করা।
দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর উভয় পক্ষই বৈঠক সম্পর্কে তাদের নিজস্ব বিবৃতি প্রকাশ করেছে। দুই পক্ষের দেওয়া বিবৃতির দিকে নজর দেওয়া যাক।
চীনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, দুই নেতা "খোলামেলা ও গভীর আলোচনা করেছেন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিন্ন বোঝাপড়ায় পৌঁছেছেন যে চীন ও ভারতের একে অপরের অংশীদার হওয়া উচিত।"

"শি জিনপিং উল্লেখ করেন যে, চীন সর্বদা কৌশলগত উচ্চতা ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চীন—ভারত সম্পর্ককে দেখেছে এবং এর উন্নয়ন ঘটিয়েছে। গত দুই বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও আমি দুবার সাক্ষাৎ করেছি, যা চীন—ভারত সম্পর্ককে 'নতুন সূচনা' থেকে 'আরও উচ্চতর পর্যায়ে' উন্নীত করেছে। দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি সহজে অর্জিত হয়নি এবং এটি অত্যন্ত মূল্যবান। চীন ও ভারতের জাতীয় পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও, তারা একে অপরের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এবং দুর্বলতা কাটিয়ে একে অপরকে সহায়তা করতে পারে, একে অপরের সাফল্যে ভূমিকা রাখতে পারে এবং যৌথভাবে উন্নয়ন ঘটাতে পারে। রূপান্তর ও অস্থিরতা—জড়িত বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে, বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দুটি দেশ এবং 'গ্লোবাল সাউথ'—এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে চীন ও ভারতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তায়। উভয় পক্ষেরই উচিত মানবতার ভবিষ্যৎ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া, 'বৃহত্তর ব্রিকস সহযোগিতা'—র উচ্চ—মানের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা এবং বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি সাধনে আরও ইতিবাচক শক্তি জোগানো।"
চীনের বিবৃতি অনুযায়ী, মোদী বলেন:
"প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং আমি বহুবার ফলপ্রসূ বৈঠক করেছি, যা ভারত—চীন সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিয়েছে এবং এটি উভয় দেশের ২৮০ কোটিরও বেশি মানুষের অভিন্ন স্বার্থের অনুকূল। ভারত ও চীনের মতো দুটি মহান সভ্যতা হাজার হাজার বছর ধরে একে অপরের সাথে আদান—প্রদান ও পারস্পরিক শিক্ষার মাধ্যমে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়েছে। ভারত সর্বদা কৌশলগত উচ্চতা ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারত—চীন সম্পর্ককে দেখেছে; ভারত চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং অংশীদার হতে আগ্রহী এবং একে অপরের উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নয়, বরং একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে। ভারত একটি স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এবং চীনের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন কোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত হয় না।" তাইওয়ান এবং তিব্বত—সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের নীতি ও অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং ভারত তার ভূখণ্ডে কোনো শক্তিকেই চীন—বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হতে দেয় না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে ভারত চীনের সাথে উচ্চ—পর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখতে, কৌশলগত আলোচনা জোরদার করতে, পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা বাড়াতে, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে এবং দুই দেশের সম্পর্কের আরও উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষেরই যৌথ প্রচেষ্টা চালানো উচিত।
ব্রিকস নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে ভারতের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য ভারত চীনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে এবং আগামী বছর চীনের ব্রিকস—এর সভাপতিত্ব গ্রহণের বিষয়টিকে পূর্ণ সমর্থন দেবে। ভারত চীনের সাথে নিবিড়ভাবে সমন্বয় ও যৌথ কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহী, যাতে ‘গ্লোবাল সাউথ’—এর সহযোগিতা জোরদার করা যায়, বিশ্বজুড়ে বহু—মেরু ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া যায় এবং একটি অস্থির বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখা যায়।”
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিটি অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট এবং এর চেয়ে বেশ আলাদা। এতে বলা হয়েছে:
“উভয় নেতাই আগস্ট ২০২৫—এ তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকের পর থেকে ভারত—চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতির বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, উভয় দেশেরই তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত। মতপার্থক্য যেন বিবাদে রূপ না নেয়। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, উভয় পক্ষকেই ‘তিনটি পারস্পরিক বিষয়’—পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থ—দ্বারা পরিচালিত হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন যে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অব্যাহত উন্নয়নের জন্য একটি অপরিহার্য ভিত্তি। তিনি সীমান্ত—সংক্রান্ত বিষয়ে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো উভয় পক্ষের মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। দুই নেতা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উভয় দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের কথা মাথায় রেখে সীমান্ত সমস্যার একটি ন্যায্য, যৌক্তিক ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। দুই নেতা জনগণের মধ্যে সম্পর্কের অগ্রগতির বিষয়টি আমলে নিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, ব্যবসায়িক সংযোগ ও অবাধ যাতায়াত আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, তাঁরা একে অপরের উদ্বেগের বিষয়গুলো—যেমন কাঠামোগত বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা ও সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) সংক্রান্ত সমস্যা—সমাধানের এবং অর্থবহ ও পূর্বাভাসযোগ্য বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।”
উভয় নেতাই একমত হয়েছেন যে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে এবং নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উভয় পক্ষকেই পারস্পরিক ঐকমত্যের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করে যেতে হবে। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের প্রতি চীনের সমর্থন এবং ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন—২০২৬—এর সফলতায় দেশটির অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রশংসা করেছেন।
বর্ণিত বিবৃতি দুটোর বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন তুলে ধরা যেতে পারে।
(পরবর্তি অংশ - এশিয়ার দুই শীর্ষ পরাশক্তি -০২)
দুলাল আহমদ চৌধুরী, সম্পাদক ও প্রকাশক, News Diplomats
ইমেইল: [email protected]
https://www.facebook.com/share/p/1CabuK52ca/
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats