মজুত রাখা বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় কাজ চালিয়ে ইরান নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি শুরু করেছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এর ফলে তেহরানের সক্ষমতা ধংস হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে দাবি তুলে ধরেছিল, তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা চালালে নতুন অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা জবাব দেবে তেহরান। যা দেখে পুরো বিশ্ব চমকে যাবে। পাশাপাশি নতুন নতুন স্থাপনাকে নিশানা করা হবে। ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) আজ সোমবার এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
প্রায় সাত মাস ধরে চলমান যুদ্ধের পর তেহরান ও ওয়াশিংটন এখনো এক অচলাবস্থায় আটকে রয়েছে; যদিও কোনো পক্ষই আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে নামতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে না বলে ধারণা কোনো কোনো বিশ্লেষকের।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি আজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে আমাদের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণে নিশ্চিতভাবেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে।’
আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, সংঘাত যদি নতুন করে বাড়ে, তবে হামলার জবাব দেওয়ার জন্য ইরান নতুন কৌশলগত অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের আরবি ভাষার সংবাদভিত্তিক চ্যানেল আল-আলম টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহেব্বি বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তু, ভিন্ন ‘ভৌগোলিক অবস্থান’ বা ক্ষেত্র এবং এত দিন গোপনে রাখা অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের এই সক্ষমতা ‘বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে’। আইআরজিসির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে একদম নতুন ক্ষমতার নতুন সব অস্ত্র উন্মোচন করব, যা দেখে পুরো বিশ্ব চমকে যাবে।’
আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্যও সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার তেহরান দাবি করে, তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
গত মাসের শেষ দিকে পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা বাড়ার পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ কিছুটা কমে এসেছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে অনিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। চাপ সৃষ্টি করতে দুই পক্ষই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিজ নিজ অবরোধ বজায় রেখেছে।
ইতিমধ্যে এই যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইয়েমেনে। দেশটিতে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি–সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর হাত থেকে নতুন অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালাচ্ছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের কাছে এমন কিছু অস্ত্র রয়েছে, যা তারা এখনো ব্যবহার করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি আগের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।
* যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে নতুন নতুন স্থান নিশানা করবে ইরান। * ইরান তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। * কোনো পক্ষই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
এত দিনের অব্যবহৃত অস্ত্রকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেব্বি বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় নতুন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। ইরান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান স্পর্শকাতর কেন্দ্র হরমুজ প্রণালি নিয়েও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহেব্বি বলেছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে এবং এটা তাদের জন্য ঐতিহাসিক ও অপমানজনক পরাজয়। কিন্তু এই পরাজয় স্বীকার করার মতো সাহস তাদের নেই।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই সামরিক বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত; অন্যদিকে আইআরজিসির মূল দায়িত্ব কেবল সামরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আইআরজিসির কোনো ধরনের যোগাযোগের সুযোগ নেই এবং তারা কোনো কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত হওয়ারও কোনো পরিকল্পনা করছে না।
ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র
এ মাসের শুরুতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে ইরানের নতুন অস্ত্র সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। মজুত রাখা বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় কাজ চালিয়ে ইরান নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি শুরু করেছে বলে এ বিষয়ে অবগত যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর ফলে ইরান যুদ্ধের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে তেহরানে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধংসের যে দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তুলে ধরেছিল, তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজন জানান, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও শিল্পকারখানাগুলোতে হামলা চালানো হলেও দেশটি তরল-জ্বালানিচালিত ও কঠিন-জ্বালানিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছে।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats