05 October 2026
The News Diplomats
তারেক সালমান, ঢাকা :
Publish : 09:27 AM, 05 October 2026.
Digital Solutions Ltd

শিবির ও ছাত্রলীগের ‘গুপ্ত’ আতঙ্ক: ঝুলে আছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি

শিবির ও ছাত্রলীগের ‘গুপ্ত’ আতঙ্ক: ঝুলে আছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি

Publish : 09:27 AM, 05 October 2026.
তারেক সালমান, ঢাকা :

আন্দোলন ও মাঠ রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিএনপির ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় সাত মাস আগে। বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিদায়ের বার্তাও দিয়েছেন। নতুন নেতৃত্বের সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপও ছিল তুঙ্গে। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়নি।

নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তুতি একাধিকবার প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে তা থেমে যাওয়ার নেপথ্যে এখন আলোচনায় সামনে এসেছে ‘গুপ্ত’ আতঙ্ক। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলোর ভাষ্য—সম্ভাব্য নেতৃত্বের রাজনৈতিক অতীত, ছাত্রত্ব, সাংগঠনিক পরিচয় এবং অন্য ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে অতীত বা বর্তমান সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে বারবার যাচাই করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সেই থেকে সংগঠনটির নতুন কমিটির বিষয়টি একেবারেই স্থবির অবস্থায় রয়েছে। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা একটি গণমাধ্যমকে জানান, ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে ‘কঠিন দ্বিধা’য় রয়েছে বিএনপি। নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ‘পকেট কমিটি’ গঠনের চেষ্টা ও অনুপ্রবেশের আতঙ্কই এর মূল কারণ বলে তারা জানান। নেতারা আরও জানান, ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খোদ বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাত্রদলে ‘বিশুদ্ধ ছাত্রদল’ নেতাকর্মী খুঁজে না পাওয়ার কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি ছাত্রদলকে আরও পরিশুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, বিএনপির আশঙ্কা কেবল ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ঘিরে নয়। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বর্তমানে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগও নিজেদের সাংগঠনিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলে পরিচয় গোপন করে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কাও হাইকমান্ডের আলোচনায় এসেছে।

অর্থাৎ নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপির সামনে ‘গুপ্ত’ প্রশ্নের আশঙ্কাটি এখন দ্বিমুখী—একদিকে শিবিরের সম্ভাব্য কৌশলগত অনুপ্রবেশ, অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত ছাত্রলীগের আড়ালে থেকে ছাত্রদলে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা।

বিদায়ী সাক্ষাতের পরও ঘোষণা নেই

২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের সাত সদস্যের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আরও দুটি পদ যুক্ত হওয়ায় কমিটির আকার ২৬২ জনে দাঁড়ায়।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর মেয়াদি এই কমিটির নিয়মিত মেয়াদ শেষ হয় ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ ১ মার্চ থেকে কমিটিটি মেয়াদোচ্চ্যূত।

এরপরও কয়েক মাস দায়িত্ব পালনের পর ১৩ আগস্ট রাতে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতার বিদায়ী সাক্ষাৎ হয়। ওই সাক্ষাতের পর রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “অনেক বেশি সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।” নতুন কমিটি যে খুব শিগগিরই আসছে—রাকিবের সেই বার্তায় তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেও তখন নতুন কমিটি ‘যেকোনো সময়’ ঘোষণার কথা বলা হয়েছিল।

‘গুপ্ত’ আতঙ্কের দুই দিক

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে অনুপ্রবেশের প্রশ্নটি একেবারে নতুন নয়। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরকে সরাসরি শিবির ও ছাত্রলীগ—দুই সংগঠন থেকেই সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি তখন বলেছিলেন, ছাত্রদলের কাঠামোতে এ ধরনের অনুপ্রবেশ টেকসই হবে না এবং নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ আমলে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটে ছাত্রশিবিরের অনুপ্রবেশ নিয়ে বহু বছর ধরেই অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন সোহাগ-জাকির। তখন অভিযোগ ওঠে—তামীরুল মিল্লাতের সাবেক ছাত্র জাকির শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ২০১৬ সালে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল; তখন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এ ধরনের অভিযোগ আরও বেশি আলোচনায় আসে। ২০২৬ সালে ছাত্রদলের পক্ষ থেকেই অভিযোগ করা হয়—আওয়ামী লীগ শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের পরিচয়ে কার্যক্রম চালিয়েছে।

ফলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় প্রশ্নটি এখন উল্টো দিক থেকেও দেখা হচ্ছে—যে কৌশলে অতীতে শিবিরের কেউ কেউ ছাত্রলীগের কাঠামোয় নিজেদের পরিচয় আড়াল করে থাকার অভিযোগের মুখে পড়েছিল, ক্ষমতাচ্যুত ছাত্রলীগের কেউ কি এবার একই কৌশলে ছাত্রদলে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে?

অতীতের অভিজ্ঞতাই নতুন উদ্বেগের কারণ

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে ছাত্রলীগের কাঠামো ছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে সরে যায়। পরবর্তীকালে ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধও করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে তাদের একটি অংশ ভবিষ্যতে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অন্য কোনো সংগঠনের ছায়ায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা বিএনপির কিছু নেতার মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের ক্ষেত্রেও রয়েছে দীর্ঘদিনের গোপন সাংগঠনিক কার্যক্রমের ইতিহাস ও অভিযোগ। ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, আওয়ামী লীগ আমলে প্রকাশ্য রাজনীতির সুযোগ সীমিত থাকায় শিবিরের কর্মীরা ছাত্রলীগ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়েছে—যা জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রকাশ্যে আসে।

ফলে বিএনপির কাছে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। একদিকে দীর্ঘদিনের প্রথাগত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের সম্ভাব্য কৌশলগত অনুপ্রবেশ, অন্যদিকে ক্ষমতা হারানো ছাত্রলীগের সম্ভাব্য আত্মগোপন—দুই আশঙ্কাকেই একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

ছাত্রত্ব ফিরবে কি ছাত্রদলের নেতৃত্বে?

নতুন কমিটি গঠনের আলোচনায় আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—এবার কি সত্যিকার অর্থে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের হাতে ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেওয়া হবে?

দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী, মেধাবী, পরিচিত ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য মুখকে নেতৃত্বে আনার পক্ষে মত এসেছে। বিশেষ করে জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের স্বাধীনচেতা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক আচরণ আগের প্রজন্মের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় ছাত্রদলের নেতৃত্ব কাঠামোতেও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ঠিক এই জায়গাতেই দেখা দিয়েছে পুরোনো বনাম নতুন নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব।

রাকিব-নাছির কমিটির সাংগঠনিক প্রশ্ন

নতুন কমিটি বাছাইয়ের সময় বর্তমান নেতৃত্বের সাংগঠনিক রেকর্ডও পর্যালোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের আশানুরূপ ফল না পাওয়া বর্তমান নেতৃত্বের অন্যতম সমালোচনার জায়গা। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্রার্থীদের প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া নিয়ে সংগঠনের ভেতরেও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ফল ছাত্রদলের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সংকেত বা ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বিএনপিতে। ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ভিপি পদে ৫,৭০৮ ভোট পান; বিপরীতে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’-এর সাদিক কায়েম পান ১৪,০৪২ ভোট। জিএস ও এজিএসসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ পদেও শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হন।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে—দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতি কোথায়?

তবে ডাকসুর ফলকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন না ছাত্রদলের বিদায়ী নেতারা। তাদের বক্তব্য—জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা, মামলা-গ্রেপ্তার, রাজপথের আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে সংগঠন পুনর্গঠনের কাজও মূল্যায়নের অংশ হওয়া উচিত।

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বলয়ভিত্তিক রাজনীতি, পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ এবং বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষও রাকিব-নাছির কমিটির মেয়াদে সামনে এসেছে। ফলে সামনে কেবল কমিটি ঘোষণা নয়, তৃণমূলের আস্থা পুনর্গঠনের বড় চ্যালেঞ্জ থাকছে।

পুরোনো বলয় বনাম নতুন প্রজন্ম

ছাত্রদলের নেতৃত্বকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বলয়ভিত্তিক রাজনীতিও এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই বলয়প্রথাকে ছাত্রদলের ‘পুরোনো অসুখ’ হিসেবে দেখা হয়।

দলটির ভেতরের একটি অংশ মনে করে, নব্বইয়ের দশক থেকেই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাছাইয়ে প্রভাবশালী কয়েকটি বলয়ের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। নতুন প্রজন্মের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সামনে আনলে সেই পুরোনো কাঠামোর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।

আবার পুরোনো নেতৃত্বের পক্ষে থাকা অংশের যুক্তি, রাজনৈতিকভাবে পরীক্ষিতদের বাদ দিয়ে একেবারে নতুন মুখ সামনে আনলে সংগঠন মাঠের রাজনীতিতে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে জোড়া ‘গুপ্ত’ আতঙ্ক।

ফলে কার রাজনৈতিক অতীত কী, কে কোন সময়ে কোথায় সক্রিয় ছিলেন, কার সঙ্গে কার সাংগঠনিক যোগাযোগ ছিল—এসব তথ্য নিখুঁতভাবে যাচাই এখন নেতৃত্ব নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামনে বিএনপির কঠিন সিদ্ধান্ত

নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপির সামনে তাই একাধিক জটিল প্রশ্ন:

নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আনলে তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কতটা পরিপক্ব?

দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাদের রাখলে তাদের ছাত্রত্ব ও তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু?

সম্ভাব্য প্রার্থীদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা সম্ভব?

এবং সবচেয়ে বড় কথা—শিবির কিংবা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেউ পরিচয় গোপন করে ঢুকে পড়ছে কি না, তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর খুঁজতেই থমকে আছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি।

আগস্টে বিদায়ী সাক্ষাতের পর নতুন কমিটি ঘোষণার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের শেষেও তার বাস্তবায়ন ঘটেনি। এর মধ্যে পদপ্রত্যাশীদের তদবির, সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নানা গুঞ্জন এবং ভুয়া কমিটি ঘোষণার গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ছাত্রদলের নতুন কমিটি ও ‘গুপ্ত আতঙ্ক’সহ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, “বিএনপির অঙ্গসংগঠনসমূহের কমিটি গঠন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ছাত্রদলও এর বাইরে নয়। বিএনপি অনেক বড় একটি রাজনৈতিক দল; তাদের অনেক বিষয় বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “যেকোনো কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলের জন্য যাদের অবদান রয়েছে, তাদের মূল্যায়ন করা হয়। ছাত্রদলের ক্ষেত্রেও আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, মেধাবী, শিক্ষার্থীবান্ধব, পরিশ্রমী ও সৎ নেতৃত্বকেই বেছে নেওয়া হবে। দল যখন প্রয়োজন মনে করবে, তখনই কমিটি ঘোষিত হবে। তবে সেটি খুব বেশি বিলম্বিত হওয়ার কারণ নেই।”

রাকিব-নাছির অধ্যায় কার্যত শেষ। কিন্তু নতুন অধ্যায়ের প্রথম পাতায় কার নাম খোদাই হবে, তা নির্ধারণের আগে বিএনপির হাইকমান্ডকে এখন কেবল ‘কে ছাত্রদলের’—এই প্রশ্নের উত্তর নয়, বরং ‘কে ছাত্রদলের নয়’—সেটিও নিশ্চিত হতে হচ্ছে।

আর সেই চুলচেরা বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দুতেই এখন ঘোরাফেরা করছে দুই সম্ভাব্য ‘গুপ্ত’ পরিচয়—ছাত্রশিবির ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।

BANGLADESH বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম শিবির ও ছাত্রলীগের ‘গুপ্ত’ আতঙ্ক: ঝুলে আছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি শিরোনাম নয় বছর প্রেম–বিয়ে থেকে বিচ্ছেদ, ঘোষণায় যা বললেন প্রীতম–শেহতাজ শিরোনাম ফুটবলের দুই কিংবদন্তির বিদায়: মেসির গল্পে পূর্ণতা, রোনালদোরটা অনিশ্চয়তায় শিরোনাম অপটোজেনেটিকস আবিষ্কার করে চিকিৎসায় নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী শিরোনাম তাইওয়ান কেন গুরুত্বপূর্ণ: প্রণালীর সার্বভৌমত্ব থেকে বিশ্বব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সমীকরণ শিরোনাম কৌশলগত অস্পষ্টতা'র পুনরাগমন নাকি পরিত্যাগের পূর্বাভাস?