04 October 2026
The News Diplomats
দুলাল আহমদ চৌধুরী :
Publish : 10:38 PM, 03 October 2026.
Digital Solutions Ltd

ট্রাম্প ২.০ ও মার্কিন তাইওয়ান নীতি -০২

কৌশলগত অস্পষ্টতা'র পুনরাগমন নাকি পরিত্যাগের পূর্বাভাস?

কৌশলগত অস্পষ্টতা'র পুনরাগমন নাকি পরিত্যাগের পূর্বাভাস?

Publish : 10:38 PM, 03 October 2026.
দুলাল আহমদ চৌধুরী :

ট্রাম্প ২.০ ও মার্কিন তাইওয়ান নীতি -০১ এর পরবর্তি অংশ

কৌশলগত ঐকমত্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে দুটি উপায়ে প্রভাবিত করে: মূলধারার ঐকমত্য সরকারি নীতিকে সীমাবদ্ধ করে, অন্যদিকে ন্যূনতম ঐকমত্য সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোরালো চাপ সৃষ্টি করে। তাই, তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার বিষয়ে যে ন্যূনতম ঐকমত্য রয়েছে—যার মধ্যে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি বৃদ্ধিও অন্তর্ভুক্ত—তা ট্রাম্প প্রশাসনের তাইওয়ান নীতির অন্যতম নিশ্চিত দিক হিসেবে বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

মুনাফার উদ্দেশ্যে আরও বেশি পরিমাণে অস্ত্র বিক্রির প্রতি ট্রাম্পের নিজস্ব আগ্রহ এই প্রবণতাকে আরও জোরদার করে। সামগ্রিকভাবে, এই দুটি বিষয় মার্কিন সরকারকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ অনুমোদন করতে সহায়তা করেছিল; এই প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত ছিল হাইমার্স (HIMARS) রকেট সিস্টেম এবং জ্যাভেলিন (Javelin) ও টো (TOW) অ্যান্টি—ট্যাঙ্ক মিসাইল। এই প্যাকেজটি তাইওয়ানের 'অপ্রতিসম' (asymmetric) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট অভিপ্রায়কে তুলে ধরেছে।

তৃতীয়ত, ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের (maximum extraction) এবং ঝুঁকি কমানোর (de-risking) কৌশল অনুসরণ করছে, যার লক্ষ্য হলো সর্বক্ষেত্রে তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত করা। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি "মেকিং আমেরিকা গ্রেট এগেইন" (আমেরিকাকে পুনরায় মহান করা)—এর ওপর কেন্দ্র করে আবর্তিত। কার্যত এর অর্থ হলো—বাইরের প্রতিশ্রুতি বা দায়বদ্ধতা কমিয়ে এনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলগত উপস্থিতি সংকুচিত করা এবং একই সাথে মিত্র ও অংশীদারদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপাতে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা।

তাইওয়ানের ক্ষেত্রে এই 'সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের' কৌশলটি মূলত দুটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হচ্ছে।

প্রথমত, ট্রাম্প তাইওয়ানকে তার প্রতিরক্ষা ব্যয় নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করার জন্য চাপ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি কংগ্রেসের এক শুনানিতে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তাইওয়ানের উচিত তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশে উন্নীত করা। একইভাবে ট্রাম্পও তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বর্তমান মাত্রা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার যুক্তি হলো, তাইওয়ান তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষার ওপর নির্ভর করে আছে। তাই, অপ্রতিসম প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজে পুরোপুরি মনোনিবেশ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।

দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে এবং তিনি বিভিন্ন উপায়ে তাইওয়ানকে অর্থনৈতিকভাবে 'ফাঁপা' বা দুর্বল (hollow out) করার চেষ্টা করেছেন। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—তাইওয়ানকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি পণ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বাড়ানো এবং একই সাথে তাইওয়ানের এডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করার জন্য চাপ দেওয়া। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে ‘৫০—৫০’ ভাগাভাগির প্রস্তাবও দিয়েছেন। এর লক্ষ্য হলো টিএসএমসি (TSMC)—কে ‘ইউএসএসএমসি’ (USSMC)—অর্থাৎ ‘ইউনাইটেড স্টেটস সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি’—তে রূপান্তর করা। ভবিষ্যতে এমন দাবিও উঠতে পারে যে, তাইওয়ান যেন তাদের সম্পূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত করে।

সামগ্রিকভাবে বিচার করলে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের তাইওয়ান নীতিতে ‘ঝুঁকি কমানোর’ (de-risking) বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। বিশেষ করে, এর লক্ষ্য হলো—তাইওয়ানকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ঝুঁকি হ্রাস করা; তাইওয়ানে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের অত্যধিক কেন্দ্রীভবনজনিত সরবরাহ—শৃঙ্খলের ঝুঁকি দূর করা; তাইওয়ানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বা ভারসাম্যহীনতা থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি কমানো; এবং তাইওয়ান প্রণালীতে কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্মুখসারির ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহার করা—যার ফলে সংঘাতের ঝুঁকি ও সংশ্লিষ্ট দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপরই বর্তাবে।

চতুর্থত, ট্রাম্প প্রশাসনের তাইওয়ান—বিষয়ক নীতি তাইওয়ানকে পরিত্যাগ করার পক্ষে পুনরায় জোরালো হয়ে ওঠা যুক্তিগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। ২০২৪ সাল থেকে ‘ধাপে ধাপে তাইওয়ান পরিত্যাগ’—এর পক্ষের গোষ্ঠীটি ক্রমশ বড় হচ্ছে; এই গোষ্ঠীর মতে, আপাতত কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখা ও স্থিতাবস্থা (status quo) রক্ষা করা উচিত, তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত তাইওয়ানকে পরিত্যাগ করা। ‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিস’ (Defense Priorities) নামক একটি সংস্থা (যা ‘নিউ রাইট’ বা নতুন ডানপন্থী মতাদর্শের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত) এই চিন্তাধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক উৎসে পরিণত হয়েছে। এই সংস্থার ‘ধাপে ধাপে তাইওয়ান পরিত্যাগ’—এর পক্ষের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি জেনিফার কাভানাঘ বারবার যুক্তি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাইওয়ানের গুরুত্ব সীমিত এবং চীনের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুদ্ধের ঝুঁকি নেওয়ার মতো কোনো বিষয় তাইওয়ান নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থকে তাইওয়ান থেকে বিচ্ছিন্ন করার এই যুক্তিটি মূলত তাইওয়ানকে চূড়ান্তভাবে পরিত্যাগ করার প্রস্তুতি এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের জন্য একটি ‘সফট ল্যান্ডিং’ বা মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করারই একটি প্রচেষ্টা। একইভাবে, ‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিস’—এর এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক লাইল গোল্ডস্টেইন ‘টাইম’ (TIME) পত্রিকায় যুক্তি দিয়েছেন যে, “যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের বেপরোয়া নেতার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

একই সাথে, তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা উদারনৈতিক মূলধারার যে বয়ানটি গ্রহণ করার চেষ্টা করেছে, তার সাথে ‘নিউ রাইট’—এর রাজনৈতিক চিন্তাধারার এক ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে এবং খোদ ট্রাম্পও বিষয়টির প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ক্রিশ্চিয়ান হুইটন একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি তাইওয়ান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে তারা “বামপন্থী সাংস্কৃতিক ইস্যুগুলোর প্রতি অনুগত, মার্কিন ব্যবসার প্রতি উদাসীন, প্রতিরক্ষা বিষয়ে গুরুত্বহীন এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে অনিচ্ছুক।”

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়’ (maximum extraction) এবং ‘ঝুঁকি হ্রাস’ (de-risking)—এর নীতিগুলোর সাথে ‘ধাপে ধাপে তাইওয়ান পরিত্যাগ’—এর বর্তমান যুক্তির আংশিক মিল রয়েছে। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, ‘ধাপে ধাপে তাইওয়ান পরিত্যাগ’—এর পক্ষের গোষ্ঠীটি এমন তিনটি পদ্ধতির কথা বলেছে যা ট্রাম্পের পছন্দ বা অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রথমত, “লেনদেন—ভিত্তিক তাইওয়ান পরিত্যাগ” (transactional Taiwan abandonment): অর্থাৎ, সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান সুবিধার বিনিময়ে চীনের মূল ভূখণ্ডের সাথে দরকষাকষির ক্ষেত্রে তাইওয়ানকে একটি ‘বারগেইনিং চিপ’ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।

দ্বিতীয়ত, “তাইওয়ান পরিত্যাগের বিষয়টিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার” (instrumentalisation of Taiwan abandonment)—একটি পদ্ধতি যা ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই প্রয়োগ করছে। এতে ‘তাইওয়ান পরিত্যাগ’—এর সম্ভাবনাকে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (maximum pressure) সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যাতে তাইওয়ানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করা যায়। বিশেষ করে, অস্পষ্ট ও অনিশ্চিত মার্কিন সমর্থন বা প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তাইওয়ানকে প্রথমে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনের (আত্মনির্ভরশীলতার) প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য করা হয়।

তৃতীয়ত, তাইওয়ানকে পরিত্যাগ করার বিষয়টি একটি চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে বিবেচনা করা: এই ধারণা থেকে যে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত তাইওয়ানকে হারাবে, ওয়াশিংটনের উচিত সেই পরিস্থিতি ঘটার আগেই সম্ভাব্য সব উপায়ে তাইওয়ান থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করে নেওয়া এবং এর সক্ষমতাকে ভেতর থেকে নিঃশেষ বা ‘ফাঁপা’ করে ফেলা।

সামগ্রিকভাবে, ‘নিউ রাইট’ (New Right) বা নতুন ডানপন্থী শক্তি এবং ট্রাম্প প্রশাসন—উভয়ই এখন তাইওয়ানকে ‘সম্পদ’—এর চেয়ে ‘দায়’ হিসেবেই বেশি বিবেচনা করছে; পাশাপাশি তাইওয়ানের প্রতি দীর্ঘদিনের যে দ্বিদলীয় ঐকমত্য ছিল, তাও ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে তাইওয়ানকে ‘পরিত্যাগ’ করবে—এমন সম্ভাবনা কম, তবুও তাদের ‘প্রতিরক্ষায় স্বনির্ভরতা’ অর্জনের ওপর জোর দেওয়া এবং টিএসএমসি (TSMC)—র মতো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাইওয়ানের কৌশলগত গুরুত্বকে নস্যাৎ করে দিতে পারে। তাই, এই ‘ঝুঁকি কমানোর’ (de-risking) নীতিটি নিঃসন্দেহে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক তাইওয়ানকে চূড়ান্তভাবে পরিত্যাগ করারই একটি পূর্বলক্ষণ।

দুলাল আহমদ চৌধুরী, সম্পাদক ও প্রকাশক, News Diplomats

www.newsdiplomats.com

ইমেইল: [email protected]

WORLD NEWS বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম কৌশলগত অস্পষ্টতা'র পুনরাগমন নাকি পরিত্যাগের পূর্বাভাস? শিরোনাম কৌশলগত অস্পষ্টতা'র পুনরাগমন নাকি পরিত্যাগের পূর্বাভাস? শিরোনাম যুক্তরাষ্ট্র-চীন এআই সংলাপ: করণীয় নিয়ে কি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী একমত হতে পারবে? শিরোনাম যুক্তরাষ্ট্র-চীন এআই সংলাপ: করণীয় নিয়ে কি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী একমত হতে পারবে? শিরোনাম সংস্কৃতি নদীর মতো, একে আপন গতিতে বইতে দিতে হয়: জেমস শিরোনাম আমি জানতাম, উড়োজাহাজটি ভেঙে পড়ছে: মোদিকে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট