একের পর এক নিজ সরকারের উপদেষ্টাদের মুখে গুরুতর অভিযোগ। হামের টিকা, কিচেন কেবিনেট ও মার্কিন চুক্তি নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক তুঙ্গে। কোনো জবাব না দিয়েই নীরবে দেশ ছাড়লেন অধ্যাপক ইউনূস
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৭ মে) সকাল সোয়া ৭টায় টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে রওনা হয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি (ট্রানজিট) শেষে তাঁর প্যারিসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জানা গেছে, যথাসময়ে তিনি প্যারিসে পৌছেঁছেন।
ড. ইউনূস কবে দেশে ফিরবেন, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তার এই সফর সম্পর্কে ইউনূস সেন্টারের পক্ষ থেকেও মিডিয়াকে কিছু জানানো হয়নি। এমন এক সময় তিনি সফরের কারণ ও সূচি গোপন রেখে দেশ ছাড়লেন, যখন তার সরকারের সময়ে হামের টিকা না কেনার কারণে ইতিমধ্যে সাড়ে ৫’শর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। এই শিশু মৃত্যু নিয়ে টিকার সংকট এবং অন্তর্বর্ত্তীকালন সরকার তাদের নিজস্ব ব্যক্তিকে আমদানির সুবিধা দিতে টিকা না কেনার বিষয়টি সরকার ও ইউনিসেফের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

এছাড়াও অন্তর্বর্ত্তীকালীন সরকারের সময়ে ড. ইউনূসের স্বেচ্ছাচারিতা, নিজে এবং তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সুযোগ সুবিধা নেয়া, ছাত্রদের দিয়ে রাজনৈতিক দল এনসিপি গঠন এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এদের সুযোগ সুবিধা প্রদান, সরকারের উপর জামায়াত-এনসিপির প্রভাব, বিতর্কিত গণভোট, কতিপয় উপদেষ্টা নিয়ে কিচেন কেবিনেট করে ডিপ স্টেটকে সুবিধা দিতে লোক চক্ষুর অন্তরালে বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘দেশের স্বার্থ বিরোধী’ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা সর্বত্র বিরাজমান।
এরই মধ্যে তার সরকারের একাধিক উপদেষ্টা অন্তর্বর্ত্তী সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। কিচেন কেবিনেটের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তারা জানেন না। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন খুবেই স্পষ্ট করে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন ইউনূসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও বাণিজ্য উপদেষ্টা আকিজ বশির উদ্দিনের দিকে। সর্বশেষ ড. ইউনূসের ‘অতি ঘনিস্ট’ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়াও বললেন, কিচেন কেবিনেটে বিষয়টি তিনি জানতেন। তবে তার কোনো সম্পর্ক ছিলো না। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে, একের পর এক উপদেষ্টারা ‘আমি না-আমি না’ বলতে শুরু করেছেন।
অথচ এসব অভিযোগের বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে দেশ ছাড়লেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ফলে আলোচনা-সমালোচনার ডালপালা মেলছে প্রতিনিয়ত।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র তাঁর ঢাকা ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সাবেক সরকারপ্রধান হিসেবে বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যথাযথ ভিআইপি মর্যাদা ও প্রটোকল দেওয়া হয়। তবে তাঁর এই সফরের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা সেখানে কী কী নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের এক ক্রান্তিকালে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওই বছরের ৮ আগস্ট তিনি শপথ নেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দায়িত্ব ছাড়ার পর এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর বলে জানা গেছে।

ইউনূসের স্বেচ্ছাচারিতার কাহিনী শেষ হচ্ছে না কেন
আরশাদ মাহমুদ তার ফেসবুকে লিখেছেন, তিন মাস হয়ে গেল অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু বিতর্ক, সমালোচনা তাকে ছাড়ছে না। একের পর এক সাবেক উপদেষ্টারা তার স্বেচ্ছাচারিতার কাহিনী জনসমক্ষে প্রকাশ করছেন। এ পর্যন্ত চারজন উপদেষ্টা তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন; তাদের মূল অভিযোগ ছিল ইউনুস চলতেন একটা কিচেন ক্যাবিনেটের পরামর্শে; সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সেখানেই হত। তাদের সবার একই কথা আমেরিকার সঙ্গে দেশবিরোধী যে চুক্তি হয়েছে সে ব্যাপারে তারা অবহিত ছিলেন না। ইউনুস তাদেরকে কনফিডেন্সে নেননি। এই উপদেষ্টাদের তিনজনের কথা আগেই আপনারা জানেন। এরা হলেন ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত, ফরিদা আক্তার, আসিফ নজরুল এবং সর্বশেষ তৌহিদ হোসেন। এদের মধ্যে ফরিদা আক্তার চুক্তির ব্যাপারে জানতেন বলে বলেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের পর আক্ষেপ করে বলেছিলেন তিনি সরকারে থেকেও দেশবিরোধী এই চুক্তি ঠেকাতে পারেননি।

এদের মধ্যে তৌহিদ আমার সমসাময়িক এবং পূর্ব পরিচিত। তাকে আমি নাম ধরেই ডাকি। অপেক্ষাকৃত সৎ এবং সাদামাটা জীবন যাপন করে বলে দেখেছি। গতকাল যমুনা টিভিকে দেওয়া তার সাক্ষাৎকার ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি অকপটে অনেক কথা বলেছেন।
তিনি যে খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন না, সেটা বোঝা গেল তার বক্তব্যে। বলেছেন তিনবার তিনি পদত্যাগ করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যদিও তিনি এর কারণ উল্লেখ করেননি, তবে সে সময় খবর বেরিয়েছিল ইউনুসের ঘনিষ্ঠ খলিলুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপর খবরদারি করতেন। তৌহিদ সেখানে অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিল।
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও তৌহিদ পদত্যাগ করেননি। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে তাকে বলা হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সেটা এমব্যারাসিং হবে। একই কথা বলেছেন ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত।
প্রশ্ন হল এরা যদি সত্যিকার অর্থে বিবেকবান, সৎ এবং দেশপ্রেমিক হয় তবে তারা ইউনূসের মত একজন বিশ্ব বাটপাড়ের ব্যক্তি স্বার্থকে দেশের উপর স্থান দিল কেন?
উত্তরটা খুবই সোজা। এই উপদেষ্টাদের অধিকাংশই ছিল প্রকৃত অর্থে লোভী, ধান্দাবাজ এবং স্বার্থপর। দীর্ঘ আঠারো মাস ধরে তারা রাষ্ট্রের সমস্ত সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছে। তখন তাদের কোন অনুশোচনা হয়নি। সরকারি গাড়ি,বাড়ি বেতন ভাতা, বিদেশ যাত্রা ইত্যাদি প্রলোভন থেকে তারা নিজেদেরকে মুক্ত করতে পারেনি। অথচ ভেবে দেখেন এরা সবাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত এবং দীর্ঘদিন ধরে অবসর জীবন যাপন করছিলেন। আমি সবচেয়ে বিস্মিত হয়েছি এই উপদেষ্টাদের মধ্যে যারা অধ্যাপনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারাও এর ব্যতিক্রম নন।

আপনাদের নিশ্চয়ই স্মরণ আছে ইউনুস একবার পদত্যাগের নাটক করেছিলেন। তখন দেখলাম সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ওয়াহিউদ্দিন মাহমুদ তার স্বপক্ষে অনলাইনে 'ইউনূসে আস্থা' বলে ক্যাম্পেন শুরু করলেন। আর এক উপদেষ্টা ফেসবুক পোস্টে একই কথা বললেন। এরা নাকি আবার শিক্ষক ছিল এককালে; এরা নাকি জাতির বিবেক?
আবার আসি আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে। তৌহিদ হোসেন বলেছেন এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না এবং তিনি কিছুই জানতেন না। এর মূল কারিগর ছিল ইউনুস, খলিল এবং শেখ বশির।
তবে তিনি খুব পরিষ্কার করে বলেছেন যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অগোচরে এই চুক্তি হয়নি। ফলে স্পষ্ট ভাবে বলা যায় তারেক রহমানও এই দেশবিরোধী চুক্তির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যে কারণে তিনি বা তার সরকার এটা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করছে না।
তবে বর্তমান সরকার প্রধানকে একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই: দেশের জনগণ কিন্তু বোকা না। তারা সবই দেখছে এবং শুনছে। গত ৫০ বছরের ইতিহাস থেকে বলতে পারি এর পরিণতি ভালো হবে না। শেখ হাসিনার পতন হয়েছিল এ কারণেই।
সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক
ফেসবুকে মুহাম্মদ গোলাম নবী লিখেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সুদখোর বলার শুরুটা নব্বইয়ের দশকে। তবে সেটা সেটা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে। তিনি "সুদখোর" শব্দের সাথে (তার এককালের ঘনিষ্ঠজন) "রক্তচোষা" শব্দটা জুড়ে দেন।
শেখ হাসিনার মুখ থেকে উচ্চারিত হওয়ার পর "সুদখোর" ও "রক্তচোষা" দুটো শব্দই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আমি সেই সময়ে কর্মসূত্রে যাওয়া দেশের শতাধিক উপজেলার কয়েক শত গ্রামের পান-বিড়ি-সিগারেট চায়ের দোকানে শব্দগুলো সাধারণ মানুষকে বলতে শুনেছি।
শেখ হাসিনার চেয়েও আরো বেশি ঘৃণাভরে তাদেরকে এই সকল শব্দ উচ্চারণ করতে শুনেছি। সাথে তারা আরো কিছু শব্দও বলতো: “দেশের শত্রু”, “বিদেশিদের এজেন্ট"! অবশ্য এই শব্দগুলোও শেখ হাসিনা নিজেও বলেছেন। তবে কম বলেছেন। তার সভাসদরাও বলেছে।
এভাবে ড. ইউনূসের নোবেল পুরস্কারকে খাটো করা হয়েছিল। ব্যক্তিগত মর্যাদাকে আঘাত করা হয়েছিল। এমনকি তাকে রাষ্ট্রবিরোধী চরিত্র হিসেবেও উপস্থাপন করার চেষ্টা হয়েছিল।
ড. ইউনূস এসবের জবাব দেননি। সেটি ছিল তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তিনি নীরব ছিলেন। ধৈর্য ধরেছিলেন। সংঘাতে যাননি। ইতিহাস হয়তো একে তার ব্যক্তিগত সংযম হিসেবেও দেখবে।
শেখ হাসিনার সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই দেশের মানুষ ১৯৯৬ সাল থেকে দেখেছে। শেখ হাসিনা নিজেও সেই সব দিনের কথা স্মরণ করেন। এমনকি ভারতে থাকা অবস্থায় এখনো বিভিন্ন ভিডিও টেপে তাকে ড. ইউনূসের সাথে তার সম্পর্কের কথা বলতে শোনা যায়। তিনি দাবী করেন যে, তিনিই ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ফোনের লাইসেন্স দিয়েছেন। রেললাইনের অপটিক্যাল কেবল ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। আফসোস করে বলেন — অকৃতজ্ঞ ইউনূস সেই সব কথা মনে রাখেনি।
ড. ইউনূস ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনটি মন্ত্রণালয় দেখতেন: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস কখনো শেখ হাসিনার এই সকল দাবী নিয়ে কোন কিছু বলেননি। এমনকি তাকে যে "সুদখোর" ও "রক্তচোষা" বলে জাতীয় সংসদসহ নানান মিটিং, মিছিলে বলা হয়েছে তিনি আপত্তি তোলেননি।
আমার মনে হয় এগুলোকে দেশের বেশিরভাগ মানুষ ড. ইউনূস ও শেখ হাসিনার "মধুর লড়াই" হিসেবে দেখেছে।
শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রমণ একজন বেসামরিক নাগরিক ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মালিক ড. মুহাম্মদ ইউনূস কীভাবে নেবেন ও তার কি জবাব দেবেন সেটা একান্তই তার বিষয় ছিলো।

কিন্তু ২০২৪ সালে তিনি যখন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিলেন এবং ১৮ মাস সেই দায়িত্ব পালন করলেন তখন তিনি আর ব্যক্তি ড. মুহাম্মদ ইউনূস নন। তার নেতৃত্বাধীন কোন কিছুই তখন আর ব্যক্তিগত নয়। খাওয়া, ঘুম আর প্রাত্যহিক কর্মছাড়া বাকি সবই জবাবদিহিতার আওতায় পড়ে।
কিন্তু তিনি সম্ভবত তার ব্যক্তির জায়গা থেকে বের হতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে যখন গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, তখনও তার নীরবতা অব্যাহত আছে।
তিনি ভুলে গেছেন যে, তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন। ফলে তার নীরবতা আর ব্যক্তিগত বিষয় না; এটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশে হাম কেন বাড়ল?
টিকাদান ব্যবস্থায় কোথায় সমস্যা হয়েছিল?
কে ব্যর্থ হয়েছিল?
কেন জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল?
কেন স্বাস্থ্য খাতে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল?
এসব প্রশ্নের উত্তর মানুষ জানতে চায়।
একইভাবে মানুষ জানতে চায় তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময়:
রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কী অবস্থায় ছিল?
অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র কী ছিল?
ব্যাংক খাতের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিল?
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছিল?
রাষ্ট্রের পুনর্গঠন নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী ছিল?
এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে শুধু “সময় লাগবে” ধরনের কথা যথেষ্ট ছিল না।
কারণ বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বয়ান শুনেছিল। ভয় শুনেছিল। উন্নয়নের গল্প শুনেছিল। এরপর তারা ব্যাখ্যা চেয়েছিল। সত্য চেয়েছিল। তথ্য চেয়েছিল।
ড. ইউনূস ব্যক্তিগত অপমানের জবাব না-ও দিতে পারেন, সেটি তার অধিকার। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে দীর্ঘ নীরবতা অধিকার নয়।
কারণ নীরবতা কখনও কখনও অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
অনিশ্চয়তা গুজব তৈরি করে।
গুজব আস্থার সংকট তৈরি করে।
আর আস্থার সংকট রাষ্ট্রকে দুর্বল করে।
এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেই আস্থার সংকট তৈরি করেছেন। সেটা তিনি ইচ্ছা করে করুন বা না করুন।

দীর্ঘ ১৬ বছরের "পাগলপারা" শাসনের পর ড. ইউনূস যখন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বাংলাদেশ তখন এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে ছিল, যখন মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ছিল পরিষ্কার ভাষা, সত্যভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং নৈতিক সাহস। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস সবকিছুতেই নির্লিপ্ত ছিলেন।
মানুষ জানতে চেয়েছিল:
তিনি কী দেখছিলেন?
কী ভাবছিলেন?
কী করতে চাচ্ছিলেন?
আর সংকট থেকে দেশকে বের করার রোডম্যাপ কী ছিল?
ইতিহাসে বড় মানুষদের শুধু তাদের অর্জন দিয়ে বিচার করা হয় না। সংকটকালে তারা কতটা স্পষ্টভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেটিও ইতিহাস মনে রাখে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন পর্যন্ত সেই জায়গাতে কোন সুস্পষ্ট অবস্থান দেখাতে পারেননি। কিন্তু এখনো সময় আছে সব কিছু খুলে বলার।
তার নীরবতা বাংলাদেশকে ভয়ংকর দিকে ঢেলে দিচ্ছে। তিনি মরে যাবেন, চলে যাবেন কিন্তু এই দেশ থাকবে আরো অনেক অনেক বছর। তিনি একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সেটা কেন তিনি করতে পারেননি। তার চারপাশে তো একটা নতুন প্রজন্ম ছিলো আমরা দেখতে পাই তিনি তাদেরকেও নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
কিন্তু কোথায় তার সীমাবদ্ধতা? কীভাবে শেখ হাসিনার সাথে তার ভালো সম্পর্ক তিক্ত সম্পর্কে পরিণত হলো? একসময় যে শেখ হাসিনা তাকে নানান ধরনের সুযোগ দেওয়ার দাবী করেন সেই শেখ হাসিনা কোন প্রেক্ষিতে তাকে আর সুযোগ দিতে রাজী হননি?
এই সকল প্রশ্ন এখন আর তার ব্যক্তিগত নয়। তিনি আশা করি তার নিজের লাভ লসের ঊর্ধ্বে উঠে সবকিছু সুস্পষ্ট করবেন। আগামী বাংলাদেশের ভিত্ তৈরিতে তার মুখ খোলা দরকার বলে আমি মনে করি।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats