নারীরা তাঁদের পুরুষ সঙ্গীর চেয়ে কুকুরের পাশে ঘুমানোর সময় বেশি নিরাপদ বোধ করেন। ছবি: পেক্সেলস
যাঁদের বাড়িতে পোষা প্রাণী আছে, তাঁরা বেশির ভাগ সময় সেই প্রাণীগুলোকে আলিঙ্গন করে আদর করেন। এমনকি অনেক সময় তাদের নিয়েই ঘুমাতে ভালোবাসেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের ক্ষেত্রে একজন পুরুষ সঙ্গীর চেয়ে একটি কুকুর অনেক বেশি কার্যকর ‘স্লিপ পার্টনার’ বা ঘুমের সঙ্গী হতে পারে। নিউইয়র্কের বাফেলোর ক্যানিসিয়াস কলেজের গবেষক ক্রিস্টি হফম্যানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় প্রায় এক হাজার মার্কিন নারীর ঘুমের ধরন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একটি ভালো রাতের ঘুম মানুষের সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই রাতে ভালো ঘুমের জন্য সঠিক সঙ্গী বেছে নিতে হবে।
পুরুষ সঙ্গীর চেয়েও শান্ত সঙ্গী
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ সঙ্গীরা ঘুমানোর সময় বিঘ্ন ঘটান। অন্যদিকে কুকুর তার চেয়ে অনেক কম বিরক্ত করে। পুরুষ সঙ্গীর নাক ডাকা বা ঘুমের মধ্যে নড়াচড়ার কারণে নারীদের গভীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। এটি কুকুরের ক্ষেত্রে অনেক কম হয়। ৫৬ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তাঁদের কুকুর সারা রাত বিছানায় স্থির থাকে। এই স্থিরতা তাঁদের ঘুমের নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখে।
নিরাপত্তা ও মানসিক প্রশান্তি
নারীরা তাঁদের পুরুষ সঙ্গীর চেয়ে কুকুরের পাশে ঘুমানোর সময় বেশি নিরাপদ বোধ করেন। এর পেছনে কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে? কুকুরের ডাক বা সতর্ক থাকার ক্ষমতা মালিককে একধরনের মানসিক নিশ্চয়তা দেয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আগেভাগে টের পাওয়ার ক্ষমতা কুকুরের আছে। আর সেটা ভেবেই একজন নারী নিজেকে নিরাপদ ভেবে ঘুমিয়ে থাকতে পারেন। আবার যাদের বিষণ্নতা বা উদ্বেগ রয়েছে, তাদের জন্য কুকুরের পাশে ঘুমানো অত্যন্ত উপকারী। এটি একধরনের আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি করে, যা ঘুমের মান বাড়ায়। অর্থাৎ ভালো ঘুম হয় সারা রাত।
সুশৃঙ্খল রুটিন
কুকুরের মালিকদের ঘুমানোর সময়সূচি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি সুশৃঙ্খল থাকে। কারণ, কুকুরকে প্রতিদিন সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাইরে নিতে হয়। এই অভ্যাস মালিককে সময়মতো ঘুম থেকে উঠতে বাধ্য করে। এর ফলে কুকুরের মালিকদের ঘুমের একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি হয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার এই অভ্যাস শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম উন্নত করে। এর ফলে অনিদ্রার সমস্যা কমে যায়।
বিড়াল বনাম কুকুর
গবেষণায় বিড়াল এবং কুকুরের তুলনাও করা হয়েছে। দেখা গেছে, বিড়াল নিশাচর প্রাণী হওয়ায় মাঝরাতে পায়ের ওপর লাফিয়ে পড়া বা বিছানা থেকে বারবার আসা-যাওয়া করার মাধ্যমে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই ঘুমের সঙ্গী হিসেবে বিড়াল বা মানুষ উভয়ের চেয়েই কুকুর এগিয়ে।
কুকুরের সঙ্গে ঘুমানোর কিছু স্বাস্থ্য পরামর্শ
যদি অ্যালার্জি, অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকে, তবে পশমযুক্ত প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো এড়িয়ে চলা ভালো। যদি আপনি আপনার পোষা কুকুরকে বিছানায় সঙ্গে নিয়ে ঘুমাতে চান, তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি; যেমন আপনার এবং কুকুরের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা আছে, এমন বড় তোশক বা ম্যাট্রেস ব্যবহার করুন।
বাইরে থেকে ফেরার পর কুকুরের থাবা বা লোম পরিষ্কার করে নিন, যাতে ময়লা বা অ্যালার্জি বিছানায় না ছড়ায়। নিয়মিত চাদর পরিষ্কার করুন।
কুকুরের টিকা এবং পোকামাকড় দমনের ওষুধ সময়মতো নিশ্চিত করুন।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে, সিএনএন, হেলথলাইন
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats