Thursday, 19 March 2026
The News Diplomats
ডিপ্লোমেটস প্রতিবেদক :
Publish : 01:41 AM, 19 March 2026.
Digital Solutions Ltd

দীর্ঘ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ, গ্যাস মজুদ নিয়ে টেনশন বাংলাদেশের

দীর্ঘ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ, গ্যাস মজুদ নিয়ে টেনশন বাংলাদেশের

Publish : 01:41 AM, 19 March 2026.
ডিপ্লোমেটস প্রতিবেদক :

কোনো কোনো গোষ্ঠী অতি মুনাফার আশায় এমন পরিস্থিতি (কৃত্রিম সংকট) তৈরির চেষ্টা করতে পারে, সেটি ঠেকানো সরকারের দায়িত্ব

ইরান যুদ্ধ ভীতি জাগালেও এখনও বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে পড়েনি বাংলাদেশ; তবে শুরুতেই ধাক্কা লেগেছে আমদানিনির্ভর এ খাতে বিশেষ করে চাপে পড়েছে গ্যাসের মজুদ। যুদ্ধের দামামা বাড়তে থাকলে বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বাংলাদেশের গ্যাস ও তেল আমদানির প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আসা সরবরাহ ব্যবস্থায় ছেদ পড়েছে।

শুরুতেই কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গো আসার কথা ছিল তা মিলছে না। এতে মার্চ মাসের চাহিদা মেটাতে সরকারকে উচ্চ দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। প্রথম ধাক্কাতেই এ গ্যাস কেনার খরচ বেড়ে গেছে প্রায় তিনগুন।

অপরদিকে প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি আমদানিনির্ভর এলপিজি সরবরাহের ব্যবস্থার কী হবে তা ভাবিয়ে তুলছে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারি নীতি নির্ধারকদেরও।

তবে ইরান যুদ্ধের কারণে এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে খুব বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। কেননা মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আনা বন্ধ হলেও ভারতসহ অন্য দেশ থেকে পরিশোধিত তেল আনার পথ খোলা থাকছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার যুদ্ধের শুরুতে রেশনিংয়ের ঘোষণা দিলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল নিতে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। এতে তেলের সংকট না থাকলেও দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে গিয়ে সেখানে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের। পরে রেশনিং তুলে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

যুদ্ধ দীর্ঘ হচ্ছে, দুশ্চিন্তা বাড়ছে

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে শুরু করেছে। পাল্টা হামলায় ইরান দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির নিশ্চিত সরবরাহ নিয়ে বিশ্বের অন্য দেশের মত বাংলাদেশেও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি ঝুঁকি এখন তিন খাতে স্পষ্ট। গ্যাস মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও সার খাত সরাসরি এর ওপর নির্ভরশীল। কিছুদিনের জন্য প্রয়োজনীয় তেল মজুদ থাকলেও আতঙ্কের প্রভাব দেখা গেছে বাজারে।

এলএনজির মত এলপিজি আমদানির মূল উৎস মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে আনতে উচ্চ ব্যয় নিয়ে ভাবনায় পড়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে আরও কিছু জটিলতা মিলিয়ে সামনের দিনে চাহিদা কীভাবে পূরণ হবে তা নিয়ে নতুন অস্থিরতার ভিত্তি তৈরির কথা বলছেন তারা।

তারা বলছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এলপিজির কয়েকটি বড় চালান বাংলাদেশের পথে ছিল। চট্টগ্রাম, মোংলা ও সীতাকুণ্ডমুখী আরও কয়েকটি ট্যাংকারে প্রায় ১০ হাজার টন এলপিজি ছিল। অর্থাৎ মার্চে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা কিছুটা কমলেও এপ্রিলের পরিস্থিতি নির্ভর করছে যুদ্ধ, জাহাজ চলাচল, বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ এবং ব্যাংকিং সহায়তার ওপর।

করণীয় কি?

বর্তমান পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের করণীয় বিষয়ে তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের প্রথম দায়িত্ব হবে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে না দেওয়া এবং সীমিত জ্বালানি সম্পদের ব্যবহারে স্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা।

“কোনো কোনো গোষ্ঠী অতি মুনাফার আশায় এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে পারে, সেটি ঠেকানো সরকারের দায়িত্ব।”

একই সঙ্গে সীমিত জ্বালানিকে সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার আগে ঠিক করার তাগিদ দেন তিনি।

আনু মুহাম্মদের মতে, গত দুই দশকে জ্বালানি খাতকে আমদানি নির্ভর, বিদেশি কোম্পানিমুখী এবং বিদেশি ঋণনির্ভর করে তোলা হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক কোনো অস্থিরতা হলেই বাংলাদেশ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

শুরুতেই ধাক্কা গ্যাস আমদানিতে

ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে এলএনজিতে। মার্চে সরবরাহ সচল রাখতে পেট্রোবাংলাকে স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত চারটি কার্গো কিনতে হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, মার্চের জন্য বাংলাদেশ যে স্পট কার্গোগুলো নিয়েছে সেগুলোর মধ্যে একটি কার্গোর দাম পড়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ দশমিক ২৮ ডলার, আরেকটির ২৩ দশমিক ০৮ ডলার। পরে আরও কার্গো নেওয়া হয়েছে ২০ দশমিক ৭৬ ডলার ও ২১ দশমিক ৫৮ ডলারে। জানুয়ারিতে একই ধরনের স্পট কার্গো বাংলাদেশ প্রায় ১০ ডলারের আশপাশে পেয়েছিল। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি ব্যয়ের এই উল্লম্ফনই এখন সবচেয়ে বড় চাপ।

দেশে এখন দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আগে থেকে সরবরাহে দৈনিক বড় একটি অংশ ঘাটতি থাকত। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এরমধ্যে প্রায় ৯০০ থেকে ৯৮০ মিলিয়ন ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। বাকিটা নিজেদের গ্যাস ক্ষেত্র থেকে পাওয়া যায়। দেশে উৎপাদন কমে আসায় গ্যাস খাতে আমদানিনির্ভরতা এখন স্থায়ী বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক বলেন, গ্যাসের ঘাটতি স্বাভাব্কি সময়ের চেয়ে বেশি হলে সাধারণত বিদ্যুৎ ও সার খাতে রেশনিং করে সমন্বয় করা হয়। এ কারণে চারটি সার কারখানা বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ ও জরুরি খাতে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে আমদানি করা এলএনজি দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে জাতীয় পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি টার্মিনালে প্রায় ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট সমপরিমাণ গ্যাসধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে এই গ্যাস দীর্ঘদিন মজুদ করে রাখার সুযোগ নেই।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একটি সাধারণ এলএনজি কার্গো রিগ্যাসিফাই করার পর প্রায় ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিতে পারে। অর্থাৎ একটি পূর্ণ কার্গো প্রায় একটি টার্মিনালের ধারণক্ষমতার সমান।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের দৈনিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারিতে টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ হয়েছে অনেক বেশি। ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাসটিতে সরবরাহ হয়েছে ৪৬ হাজার ৪৩০ দশমিক ৬২ এমএমএসসিএফ। পরের দিনগুলোতে তা আবার বেড়েছে। ওই সময় দৈনিক সরবরাহ ৮৪৮ থেকে ৯৩১ এমএমএসসিএফের মধ্যে ওঠানামা করে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, মার্চের জন্য আগে থেকে মোট নয়টি কার্গো ঠিক করা ছিল। এর মধ্যে সাতটি কার্গো পাওয়া গেছে। বাকি দুটি স্পট মার্কেট থেকে কেনা হয়েছে। তাৎক্ষণিক বড় সংকটের আশঙ্কা তিনি দেখছেন না। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।

ইরান যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে ওঠায় এ চাপ যে মার্চে থামছে না, সেটিও স্পষ্ট।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টোটালএনার্জিসের একটি কার্গো ৫ থেকে ৬ এপ্রিল সরবরাহ পাওয়ার কথা। পসকো ইন্টারন্যাশনালের দুটি কার্গো ৯ থেকে ১৩ এপ্রিল সরবরাহের জন্য নির্ধারিত করা আছে। ফলে মার্চের তাৎক্ষণিক চাপ সামাল দিলেও এপ্রিলের সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে সরকারকে স্পট মার্কেটে সক্রিয় থাকতে হচ্ছে।

ভাবাচ্ছে এলপিজিও

যুদ্ধের মধ্যে বেশি জটিলতা তৈরি হয়েছে এলপিজি সরবরাহ পাওয়া নিয়ে। এ খাতের চিত্র গ্যাস ও তেলের চেয়ে আলাদা। এই বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি আমদানিনির্ভর। দেশে প্রতিদিন এলপিজির চাহিদা প্রায় ৫ হাজার টন।

আমদানি, সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ, পরিবহন ও ডিলার নেটওয়ার্ক সবই মূলত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর হাতে। ফলে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের চাপ, ব্যাংকিং জটিলতা বা বাজারে আতঙ্ক, যেকোন ধাক্কা সরাসরি খুচরা সিলিন্ডারের দামে ও সরবরাহে গিয়ে পড়ে।

এলপিজি আমদানির সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, জানুয়ারিতে দেশে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ টন এলপিজি আমদানির কথা থাকলেও বাস্তবে আসে ১ লাখ ৫ হাজার টন। ফেব্রুয়ারিতে আসে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টন।

আমদানিকারকদের আশা, মার্চে দেশে আসতে পারে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টন এলপিজি। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট আমদানি হয়েছিল ১৭ লাখ ৫৪ হাজার টন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মার্চের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৩৪১ টাকা অপরিবর্তিত রেখেছে। এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যাট কাঠামোর পরিবর্তনের পর দাম ১ হাজার ৩৫৬ টাকা থেকে ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

নভেম্বর-ডিসেম্বরে সংকট তৈরি হওয়া এ খাতে এখনও সব ধরনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নেওয়া হচ্ছে বেশি। এরমধ্যে যুদ্ধ শুরুর খবরে বাজার অস্থির না হলেও সামনের দিনের সরবরাহ পরিস্থিতি ভাবাচ্ছে আমদানিকারক ও খাত সংশ্লিষ্টদের।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান বলেন, এলপিজির বাজার খুব অস্বাভাবিক হয়নি। পেট্রোল ডিজেলের মতো মজুদের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে না।

তবে ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকার তথ্য দেন তিনি।

সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সেলিম খান বলেন, “ডিলারদের কাছ থেকেও স্বাভাবিকভাবে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজন যদি ৫০০ হয়, সেখানে ২০০টি দেওয়া হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে কোম্পানিগুলো রেশনিং করে সরবরাহ দিচ্ছে।”

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “কোম্পানিগুলো বলছে পরিস্থিতি খারাপ। এখন কিছু সরবরাহ দিচ্ছে, কিন্তু সামনে কতটা দেওয়া যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।”

 

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি ও ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা সরাসরি এলপিজি আমদানির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তার ভাষায়, “এলপিজি আসলে পেট্রোলিয়াম পণ্যেরই অংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানির যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, এলপিজির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি আছে।”

তিনি বলেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে এলপিজি আমদানির সূচি ছিল। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে পরিবহন ও বীমা ব্যয় বাড়তে পারে।

“আগে যেখানে এলপিজি কার্গোর প্রিমিয়াম ছিল প্রায় ১০০ ডলার, গত মাসে সেটি প্রায় ১৬০ ডলারে উঠেছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে এটি আরও বাড়তে পারে।”

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, বাংলাদেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতে চলে এবং নিয়মিত আমদানি করে মাত্র ৬ থেকে ৭টি কোম্পানি। লাইসেন্সধারী কোম্পানি বেশি থাকলেও অনেকেই ব্যাংকিং জটিলতা, অর্থায়ন সংকট ও চলতি মূলধনের অভাবে সক্রিয় হতে পারছে না।

বর্তমান মূল্য নির্ধারণে যে ১২০ ডলার প্রিমিয়াম ধরা হয়, বাস্তবে বাজারে তা ২৮০ ডলারে গিয়ে ঠেকার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত মূল্য কাঠামো সমন্বয় না করা হলে সরবরাহে চাপ বাড়বে।

এলপিজি ব্যবসা কীভাবে চলে, সে প্রশ্নের উত্তরে লোয়াবের সহসভাপতি ও এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশীদ বলেন, বড় আমদানিকারক কোম্পানিগুলো ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের উৎস থেকে আমদানি করে। পরে তা বোতলজাত করে ডিলার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হয়।

তিনি বলেন, নিয়মিত উৎসের বাইরে ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, আর্জেন্টিনা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সরবরাহ আনার উদ্যোগ নেওয়া যায়। তবে সেসব ক্ষেত্রে পরিবহন সময় ও খরচ দুটোই বেশি।

হুমায়ন রশীদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত এলপিজিকে অগ্রাধিকারভিত্তিক জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করা, যাতে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি না হয়।

“যাদের টার্মিনাল আছে, সিলিন্ডার আছে, অবকাঠামো আছে, বিনিয়োগ আছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যাংকিং জটিলতায় আটকে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত এই জায়গায় ছাড় দিলে স্থানীয় বেসরকারি খাত বিকল্প উৎস থেকেও এলপিজি আনতে পারবে।”

তার ভাষায়, “কেউ আর্জেন্টিনা থেকে আনবে, কেউ হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর থেকে আনবে। এটাকে অগ্রাধিকার দিলে বাংলাদেশের বাজারে শর্টেজ হবে না।”

BANGLADESH বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম দীর্ঘ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ, গ্যাস মজুদ নিয়ে টেনশন বাংলাদেশের শিরোনাম ইরান যুদ্ধ: মহাবিপাকে কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিরা শিরোনাম ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে কাঁপল সৌদি-কাতার-কুয়েত-বাহরাইন শিরোনাম ভয়েস অফ আমেরিকা পুনরায় চালুর নির্দেশ আদালতের শিরোনাম ঈদ উৎসবের ছুটি, নীড়ে ফেরা পাখি শিরোনাম ড. ইউনূস জুলাই হত্যাকাণ্ডের শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন