ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ কাভার করা সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক আনিস আলমগীর আদালত থেকে জামিন পাওয়ার দুদিন পর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আনিস আলমগীরকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর জেল সুপার মো. আল মামুন। তিনি বলেন, গতকাল শুক্রবার তাঁর জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছায়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে তাঁর স্ত্রীসহ স্বজনেরা কারাগারে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ১১ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি নিয়ে আনিস আলমগীরের জামিন মঞ্জুর করেন।

অন্তর্বর্ত্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে জিজ্ঞাসাবাদের নামে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) নেওয়া হয়। পরদিন তাঁকে উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায মামলা সাজিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাঁকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৫ মার্চ আনিস আলমগীরকে জামিন দেন উচ্চ আদালত।
গত ১৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে। মামলায় আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। ২৫ জানুয়ারি এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে দুদক। তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। সেই মামলায়ও জামিন পান তিনি।
আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে চাই, রাজনৈতিক বাধা আমাকে থামাতে পারবে না
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে আনিস আলমগীর আদালতকে অত্যন্ত সাহসীকতার সঙ্গে আদালতকে বলেন, আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে চাই, রাজনৈতিক বাধা আমাকে থামাতে পারবে না। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে আদালতে তোলা হয়। এসময় শুনানিতে সরকারের নীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেন তিনি।
আদালতে আনিস আলমগীর বলেন, তালেবানরা আমাকে এরেস্ট করেছিল। তখনই মৃত্যুভয় দূর হয়ে গিয়েছিল। মাননীয় আদালত, আমি সাংবাদিক। আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি। গত দুই যুগ ধরে আমি এটা করে এসেছি।
তিনি বলেন, আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে চাই। আগে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সরকারকে প্রশ্ন করেছি। বর্তমানে ইউনূস সরকারকে করছি। ভবিষ্যতে যারা আসবে তাদেরও আমি প্রশ্ন করবো। আমি হালুয়া-রুটি খাওয়া সাংবাদিক হতে চাই না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইউনূসের বাড়ি আক্রান্ত হবে, কেন বলেছি। ৩২-এর ভাঙার প্রতিহিংসা তো বহন করতে হবে।
‘ড. ইউনূস যদি চান সারাদেশকে কারাগার বানাবেন, বানাতে পারেন। যদি চান সারাদেশকে দোজখ বানাবেন, বানাতে পারেন।’
সাংবাদিক আনিস আলমগীর আদালতে আরও বলেন, প্যারিস ও নিউইয়র্কে বসে দুজন নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তারা আমাকে ফেসবুকে পোস্ট করতে নিষেধ করেছে, টেলিভিশনে যেতে দেয়নি। বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, আমার জব (কাজ) কারও কাছে নতজানু হওয়া না। আমাকে যারা নির্দিষ্ট দলের গোলাম বানাতে চায়, এটি তাদের সমস্যা।
এই বক্তব্যের পরও সেদিন আদালত তাকে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলো।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats