চিঠিটি বিরোধীদলীয় নেতার জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা এবং নিচে সাক্ষর করেছেন তিনি নিজেই # জামায়াতের আমির চাইলে চিঠিটি প্রকাশ করতে প্রস্তুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের উপদেষ্টাকে মন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগে চিঠি নিয়ে অনেকটা গ্যাড়াকলে পড়ে গেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর জামায়াত দাবি করেছে, আমিরের উপদেষ্টা নির্দেশনার বাইরে গিয়ে মন্ত্রী পদমর্যাদা-সংক্রান্ত অংশটি যুক্ত করেছেন। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুত্র জানিয়েছে, চিঠিটি বিরোধীদলীয় নেতার জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা ছিল এবং এর নিচে কেবল বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই সরকারের কাছে বিরোধীদলীয় নেতার লেখা প্রথম চিঠিতেই লেজে-গোবরে অবস্থা হয়ে গেছে।
ওই চিঠি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কিছু বিষয় স্পষ্ট করতে আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান চাইলে তাঁর আলোচিত চিঠিটি প্রকাশ করতে প্রস্তুত রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে বলেছে, জামায়াতের কারও সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনে কোনো কথা হয়নি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জামায়াত আমিরের কথিত পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান।
-------------------------------------------------------------
শফিকুর রহমান সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতার প্যাডে নিজের স্বাক্ষরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে একটি চিঠি দেন। সেই চিঠিতে শফিকুর তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় মন্ত্রণালয়ে পদায়নের জন্য অনুরোধ করেন। মন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগে একজন মন্ত্রীর কাছে বিরোধীদলীয় নেতার চিঠি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়, মন্ত্রী নিজেও অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। কারণ, উপদেষ্টা নিয়োগ কিংবা মর্যাদা দেয়ার ক্ষমতা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। জামায়াত আমির এই চিঠি প্রধানমন্ত্রীকে না দিয়ে মন্ত্রীকে দেয়ার সমালোচনাও করেন অনেকে। এ নিয়ে পেশাদার অনেক কূটনীতিক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এমন পদায়ন, বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের কোথায়ও শুনা যায়নি।
মঙ্গলবার ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের উপদেষ্টার পদায়ন চান বিরোধীদলীয় নেতা’ শিরোনামে ঢাকার একটি প্রভাবশালী দৈনিক সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়। এরপর জামায়াত এক ব্যাখ্যায় জানায়, উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান জামায়াতের আমিরের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে চিঠিতে মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত অংশটি যুক্ত করেছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর মাহমুদুল হাসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াতের ফোনালাপের বিষয় আসায় তার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ আদৌ সংঘটিত হয়নি। যে চিঠি নিয়ে এই আলোচনা, সেটির প্রেক্ষাপট ও বিষয়বস্তু সম্পর্কেও বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠান। প্রথমে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এবং পরে সরাসরি তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন। চিঠিটি বিরোধীদলীয় নেতার জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা ছিল এবং এর নিচে কেবল বিরোধীদলীয় নেতারই স্বাক্ষর রয়েছে।

চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়, মাহমুদুল হাসানকে ‘বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা’ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে সেখানে। চিঠিতে বিরোধীদলীয় নেতা ড. হাসানের দক্ষতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন। দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে একত্রে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাঁকে উল্লিখিত পদে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বিরোধীদলীয় নেতা লিখিতভাবে সম্মতি প্রদান করলে চিঠিটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
https://www.newsdiplomats.com/details.php?newsid=1322
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats