সিলেটে সুধী সমাবেশে আজ দুপুরে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য শহরের মানুষ কিছুটা চিকিৎসাসেবা পেলেও গ্রামের মানুষের আমরা চিকিৎসা সুবিধা দিতে পারিনি। সে জন্য আমরা বলেছিলাম, আমরা একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাই। আমরা যদি মানুষকে সচেতন করতে পারি, সচেতনতার মাধ্যমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি, তাহলে অসুস্থতার হার কমে আসবে। তারপরও যারা অসুস্থ হবে, তারা বেটার চিকিৎসা পাবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যেখানে ৮০ ভাগ থাকবেন নারী। তাঁদের দায়িত্ব হলো গ্রামে গ্রামে মানুষের ঘরে যাওয়া। শহরেও তাঁরা থাকবেন, মানুষকে সচেতন করবেন। আমরা বেশি জোর দেব গ্রামের মানুষদের। তাঁরা গ্রামে গিয়ে মানুষকে বোঝাবেন কোন খাবার খেলে ডায়াবেটিস হবে, কোন খাবার খেলে হার্টে সমস্যা হবে না, সেসব বিষয়ে সচেতন করবেন, হাইজিন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করবেন। এতে অসুস্থ রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।’

শনিবার সকালে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর উভয় তীরে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
নদীদূষণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গার পানি ইতিমধ্যে বিষাক্ত হয়ে গেছে। অন্যান্য নদীর ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি হলে, তা ভয়াবহ সংকট তৈরি করবে। এ জন্য প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে শিক্ষা দিলে তারা পরিবারেও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারবে।
সড়ক যোগাযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের সময় যখন সিলেটে এসেছিলাম, তখন বলেছিলাম—সিলেট থেকে লন্ডন যেতে ৯ ঘণ্টা বা সাড়ে ৯ ঘণ্টা লাগে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবস্থা এতই খারাপ যে মনে হয় ১০ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। সেদিন বলেছিলাম, আমরা সরকার গঠন করার পরে এই কাজটিতে হাত দেব। সরকার গঠনের পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে বসেছি। তারা জানাল, ১১টি জায়গায় প্রশাসনিক জটিলতাসহ নানা কারণে কাজটি বন্ধ রয়েছে। রাস্তাটির সকল জটিলতা শেষে কাজটি শুরু হতে সময় লাগবে এবং শুরু হলে তো শেষ হবে ইনশা আল্লাহ। কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা শেষ করতে পারব, আর কাজটি হয়ে গেলে মানুষের যাতায়াতে এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়কের পাশাপাশি রেল যোগাযোগ উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ডাবল লাইন স্থাপনসহ রেলব্যবস্থা উন্নত করা হলে খরচ কমবে এবং সময় সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘সারা দেশের বন্ধ সব কলকারখানা চালু করা হবে। সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সিলেটে একটি আইটি পার্ক করা হয়েছে, যেটি সচল নেই। এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, খুব দ্রুতই এটি চালু করা হবে। যেখানে আমাদের তরুণেরা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারে, আইটির কাজ করতে পারে। যারা কাজ করতে পারছে আর যারা পারছে না, তাদের এখানে সুযোগ করে দেওয়া হবে। আমরা আইটি সেক্টরে এই কাজ করছি। বিভিন্ন জায়গায় আমরা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলো আপডেট করতে, মডারেট করতে, যাতে মানুষ যারা আছে, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী তারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখেন আড়াই মাস বয়সী শিশু কিন্তু হাঁটতে পারে না, তাকে হাঁটার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমান সরকারের বয়স আড়াই মাসের মতো। তবে এর ভেতরে দেশের মানুষকে আমরা যত কমিটমেন্ট দিয়েছিলাম, সেই কমিটমেন্টগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন বস্ত্র, পাট ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার প্রমুখ।
এর আগে নগরীর ক্বিন ব্রিজ এলাকায় বিভাগীয় নগরী সিলেটকে বন্যামুক্ত রাখতে সুরমা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছড়া-নালায় স্লুইসগেট ও নদীর দুই তীরের ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ—এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।
এর আগে বেলা ১১টায় চাঁদনী ঘাটে সুরমা নদীর দুই পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
প্রধানমন্ত্রী সিলেটে এসে প্রথমে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি সেখান থেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ খ্যাত লাল-সবুজ বাসে চড়ে চাঁদনী ঘাটে আসেন।

আমি কথা বললে শ্বশুরবাড়ির লোকদের শুনতে হবে
“আমি কথা বললে শ্বশুরবাড়ির লোকদের শুনতে হবে”, সিলেটের জনসভায় এমন বক্তব্য দিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে আয়োজিত জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।
বেলা ১২টার দিকে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এর আগে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের সময় সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা দুলাভাই বলে স্লোগান দিতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুলাভাইকে কথা বলতে না দিলে তো দুলাভাই চলে যাবে। যাব আমি? কথা বলব না যাব? কথা বলতে হলে চুপ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি কথা বললে শ্বশুরবাড়ির লোকদের শুনতে হবে।”
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে তাদের জবাবদিহিতা জনগণের কাছেই। মানুষের কল্যাণে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তা পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব যোগ্য পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ধর্মীয় নেতাদের ভাতা প্রদান ও খাল খনন কার্যক্রম শুরুর কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শিল্প খাতের উন্নয়নে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats