ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। আজ সোমবার দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিরোধী দলগুলোর নেতারা। কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দিল্লির কনট প্লেসের বারাখাম্বা মোড় থেকে বেলা দেড়টায় পদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছয়টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকবে।
এদিকে, বিক্ষোভের স্থান হিসেবে পরিচিত যন্তর মন্তরকে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য নতুন তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক হয়নি রাহুলের
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। তবে রোববার সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বৈঠকে আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়গুলো সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া, আদালতের প্রশাসনিক শাখা সরকারের কার্যক্রম ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক না হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং বিরোধী জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন জমা দেবেন।
রাহুল বলেন, প্রধান বিচারপতি তাদের আবেদন জমা দিতে বলেছেন। ইন্ডিয়া জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আবেদনটি জমা দেবেন। তিনি বলেন, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই একটি জাতি গড়ে ওঠে। তারা ক্লান্ত হবেন না, পিছু হটবেন না।
‘পদত্যাগ করে পথ ছেড়ে দিন’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার ভুল করেছেন এবং ওই ভুলের পেছনে যারা রয়েছেন, বিরোধীরা তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে চান।
রাহুল বলেন, ‘আপনার জন্য বিষয়টি খুব সহজ। পদত্যাগ করুন এবং পথ ছেড়ে দিন।’
তার ভাষ্য, পদত্যাগ করলে জ্ঞানেশ কুমারকে ক্ষমা করার বিষয়টিও বিরোধীরা বিবেচনা করতে পারেন। কারণ, এতে দেশ ও সংবিধানের সেবা করা হবে।
রাহুল আরও বলেন, বিরোধীরা রাস্তায় লড়াই করছেন না, তারা ভারতের মানুষের হৃদয় জয় করার জন্য লড়ছেন। তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে বিরোধীদের পদযাত্রা বাধাগ্রস্ত করছেন। তার অভিযোগ, বিরোধীরা নির্বাচনে কারচুপি করেনি—এর প্রমাণ তুলে ধরতে চাওয়ায় সরকার তাদের পদযাত্রায় বাধা দিচ্ছে।
রাহুলের ভাষ্য, যত বেশি বাধা দেওয়া হবে, বিরোধীরা তত বেশি তাদের কৌশলে সফল হবেন। সংবিধান রক্ষা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।
বিক্ষোভে বাধা ও আটক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন
দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে আইনজীবীদের চলাচলে বাধা, আটকের ঘটনা এবং পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা পড়েছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এসব আবেদনের বিষয়ে শুনানি করতে সম্মত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিষয়টি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের (এসসিবিএ) সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রদীপ রাই আদালতকে জানান, বিক্ষোভের কারণে আইনজীবীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ইন্টারনেট সেবায় বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন বিষয়ও এ সময় তুলে ধরা হয়।
প্রধান বিচারপতি বলেন, গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চলতে হবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম কিংবা আইনজীবী, আদালতের কর্মী ও বিচারপ্রার্থীদের চলাচলে বাধা দেওয়া যাবে না।
অন্যদিকে, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতকে জানান, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন আইনজীবীকে আটক করা হয়েছে এবং পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, নির্ধারিত স্থানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অধিকার প্রত্যেক আইনজীবীর রয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার শুনানি হতে পারে।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে সোমবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান সিজেপির নেতারা। আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস পুলিশের কাছে বিক্ষোভের তারিখ নির্ধারণের অনুরোধ জানান।
থানার বাইরে সাংবাদিকদের তারা বলেন, পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনুমতি না পেলে তারা আবারও বিক্ষোভের ডাক দেবেন।
এদিকে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে করা ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের (আইওয়াইসি) আবেদনের জবাব দিতে দিল্লি পুলিশকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবং বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগে এ বিক্ষোভের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার, মুম্বাইয়েও আটক
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জেরে মুম্বাইয়েও কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দাদরের শিবাজি পার্কের কাছে পদত্যাগের দাবিতে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তারা কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই শিবাজি পার্কের বিভিন্ন প্রবেশপথে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।
সোমবার দিল্লিতে বিক্ষোভ ও বিধিনিষেধ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘এটি আমার বিষয় নয়।’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, সংবিধান রক্ষা, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তরুণেরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বিরোধী জোটের পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান রক্ষায় বিশ্বাসী যে কেউ, এমনকি বিজেপির সমর্থকেরাও চাইলে এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats