দীর্ঘ বিবৃতিতে কোচ জর্জে জেসুসের ‘বলার কথা ছিল’ এমন আটটি পয়েন্ট প্রকাশ করেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা
সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ ও কৌতুহল জাগানিয়া এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের আলোচনা উড়িয়ে দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের ভক্ত ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এই মহাতারকা। সংবাদ সম্মেলনে কোচ জর্জে জেসুসের বলার কথা ছিল এমন আটটি পয়েন্ট প্রকাশ করেছেন তিনি।
নরওয়ের মাঠে ওয়ার্মআপ করানোর পরও রোনালদোকে মাঠে নামাননি পর্তুগালের নতুন কোচ। অধিনায়কের দাবি, কিছু দিনের মধ্যে দুইবার তার বিশ্বাসভঙ্গ করেন জেসুস। সে কারণেই ক্যাম্প থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন রোনালদো।
এর জন্য পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) আইনে যে শাস্তি প্রযোজ্য সেটা মাথা পেতে মেনে নিতে প্রস্তুত রোনালদো। পর্তুগিজ গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বেচ্ছায় ক্যাম্প থেকে সরে গেলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক শাস্তির বিধান রয়েছে এফপিএফের নিয়মে।
প্রাথমিকভাবে এই দীর্ঘ বিবৃতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি কোচ জেসুস। পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-২১ দলের খেলা দেখছিলেন অভিজ্ঞ এই কোচ। বিবৃতি পড়ার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর কথা বলেছেন তিনি। এফপিএফও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
রোনালদোর বিবৃতির অনেক দিক নিয়েই আলোচনা চলছে, জেসুসের বিপক্ষে তার অভিযোগ, ক্ষমা চাওয়া, খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, সম্ভাব্য শাস্তি মেনে নেওয়া। তবে এগুলোকে ছাপিয়ে গেছে আটটি নোট, সেগুলোর অনুমোদন দিয়েছিলেন রোনালদো। সংবাদ সম্মেলনে সেগুলো বলার কথা ছিল পর্তুগাল কোচের।
১. অন্য কেউ নয়, আমি নিজেই জাতীয় দল নিয়ে ক্রিশ্চিয়ানোকে তার জন্য এই ক্রীড়া মৌসুমের জন্য একটি পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এটা ছিল দীর্ঘ ও খুব ভালো আলোচনা।
২. আমি জানি, সে জাতীয় দলকে কতটা গভীরভাবে ধারন করে ও ভালোবাসে। বিশ্বজুড়ে তার যে গুরুত্ব রয়েছে, এরচেয়েও অনেক বেশি গুরুত্ব এবং ইতিবাচক প্রভাব সে টানা ২৪ বছর ধরে জাতীয় দলে রেখে চলেছে।
৩. আমার পরিকল্পনা ক্রিশ্চিয়ানো গ্রহণ করেছিল।
৪. সে আমার মত নিয়ে কখনও প্রশ্ন তোলেনি। সে সবার জন্য উদাহরণযোগ্য, অনুগত ও পেশাদার।
৫. তার জন্য আমি যে পরিকল্পনা তৈরি করেছিলাম এর অংশ ছিল না নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ। তবুও, আমার মনে হয়েছিল যে সে শারীরিকভাবে প্রথম ম্যাচের ধকল সামলে নিতে পেরেছে। আমি তাকে সতর্ক করেছিলাম যে, তাকে মাঠে নামানোর প্রয়োজন হতে পারে। ক্রিশ্চিয়ানো এতে রাজি হয়।
৬. পেলে বা মারাদোনার মাপের একজনকে ওয়ার্মআপ করিয়ে এবং তাকে মাঠে না নামিয়ে আমি ভুল করেছি। যদি এটা আজ হতো, আমি সেটা করতাম না।
৭. এই প্রসঙ্গের ইতি টানতে- আমি ক্রিশ্চিয়ানোকে জাতীয় দলে চাই। সত্যি বলতে, আমি তাকে অল্প নয়, অনেক বেশি চাই। সৌভাগ্যবশত, সেও আমার উপর আস্থা রাখে। সে আল নাস্রের উপর আস্থা রাখে এবং সে এখানেও আস্থা রাখে।
৮. সমর্থকদের শুভেচ্ছা না জানানোর বিষয়ে আমরা এরইমধ্যে কথা বলেছি। জাতীয় দলের হয়ে ২৩০টির বেশি ম্যাচ খেলেছে এমন একজনের পর্তুগালের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে আমার কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটা ছিল হতাশার একটি মুহূর্ত যা কোনো কিছুই মুছে দেয়নি। খেলোয়াড়দের মধ্যে সে-ই সবচেয়ে বেশি অটোগ্রাফ দেয়, সবচেয়ে বেশি সেলফি তুলতে দেয় এবং ভক্তদের প্রতি সবচেয়ে বেশি আন্তরিকতা দেখায়। যেখানে সমস্যা নেই, সেখানে জোর করে সমস্যা তৈরি করা উচিত নয়। যখন আমরা খুশি থাকি না, তখন আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাই। ব্যাস, এইটুকুই।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats