07 October 2026
The News Diplomats
রাজশাহী প্রতিনিধি :
Publish : 09:53 AM, 07 October 2026.
Digital Solutions Ltd

রাবি ক্যাম্পাসে সহিংসতা চলছেই, থামাতে ‘পুরোপুরি’ ব্যর্থ প্রশাসন

রাবি ক্যাম্পাসে সহিংসতা চলছেই, থামাতে ‘পুরোপুরি’ ব্যর্থ প্রশাসন

Publish : 09:53 AM, 07 October 2026.
রাজশাহী প্রতিনিধি :

২০২৪ সালের আগস্টে দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে ঘটেছে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা। প্রক্টোরিয়াল বডি বা শিক্ষকদের সামনে হওয়া এসব আলোচিত সহিংসতা ঠেকাতে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে রাবি প্রশাসন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা।

সবশেষ গত ৪ অক্টোবর রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে রাবি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলায় ৪ সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহত সাংবাদিকরা হলেন—দ্য ডেইলি স্টারের রাবি প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফুজ্জামান কোরবান ও সমকালের মাইনুল ইসলাম রাজু।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। কিন্তু তিনি ছাত্রদলকে থামাতে পারেননি। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি। আমরা পুলিশ ডেকেছিলাম। কিন্তু পুলিশও ভয়ে চলে যায়।’

শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে পরদিন রাতে ওই হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহবুবার রহমানকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একইসঙ্গে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাদের ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন নিয়ে সিন্ডিকেটে আলোচনা হতে পারে।

ওই হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আহসান হাবিব, শরিফুল ইসলাম, তাকবীর আহমেদ ইমন, হাসিবুল ইসলাম হাসিব, শাহরিয়ার আলম অথৈ, সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও বিশাল চক্রবর্তী সাংবাদিকদের মারধর করছেন।

২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের আহসান হাবিব রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি, হাসিব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অন্যরাও বিভিন্ন পদে আছেন। তবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী আগে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। ফুটেজে দেখা যায়, মৃদুলকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন বিশাল।

 

হামলায় জড়িতে সবাইকে শনাক্ত করা গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতদের। ৫ অক্টোবর রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল রাবি শাখার ৩ সদস্যকে বহিষ্কার ও ৬ জনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়।

রাবি সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন।

দ্য ডেইলি স্টারের পর্যালোচনায় ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আরও ৪টি এমন ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা বা শিক্ষকরা উপস্থিত বা মধ্যস্থতার চেষ্টা করা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী বা সাংবাদিকরা হামলা থেকে বাঁচতে পারেননি।

নিয়মিত বিরতিতে এসব সহিংস পরিস্থিতির জন্য জবাবদিহির অভাব, জড়িতদের শাস্তি না দেওয়া এবং প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করেছেন রাবি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

যোগাযোগ করা হলে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, '২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের "ঢেউ" এখনো তরুণদের প্রভাবিত করছে। প্রয়োজনের সময় পুলিশ পাওয়া গেলেও তারা ততটা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারছেন না।'

‘পুলিশ শুধু ঘটনাস্থলে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। এসব চ্যালেঞ্জের কারণেই বারবার এসব ঘটনা ঘটছে,’ বলেন তিনি।

গত ২৭ জুলাই রাকসু সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক এস এম সালমান সাব্বির প্রক্টর কার্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ কর্মী 'আখ্যা' দিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালান।

প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর সেখানে হস্তক্ষেপ করেন। মো. আনাস, মাহমুদুল হাসান মাহিন ও আরেক শিক্ষার্থীকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পৌঁছে দিতে যান তিনি। তখন রাকসু নেতা ও ছাত্রশিবির কর্মীরা তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে তাদের মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে।

সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক যখন মাহিনকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তার ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। পুলিশ হস্তক্ষেপ করার আগে তাকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করা হয়।

গত ১৮ জুন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের কাছে র‌্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন, জুবায়ের জিসান ও আবু বকর অনিক এবং রাকসু নেতা এস এম সালমান সাব্বির ও ইমরান লস্কর লাঞ্ছিত হন।

 

বিষয়টি মিটমাট করে দিতে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. বোরাক আলী ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু প্রক্টর কার্যালয়ে যাওয়ার পথেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

গত বছরের ২৭ মে পরিবহন চত্বরে প্রক্টোরিয়াল বডির উপস্থিতিতে ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্যের’ সদস্যরা বামপন্থী দলের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। শাহবাগবিরোধী ঐক্যের সদস্যদের পরে রাবি শিবিরের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই ঘটনা সম্পর্কে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘প্রক্টোরিয়াল বডি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা আওতার বাইরে চলে যায়।’

২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আইন ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে শিক্ষক মাহফুজুর রহমান ও সাংবাদিক আবু সালেহ শোয়েবসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

শোয়েবের অভিযোগ, ভিডিও ধারণের সময় মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা থামাতে গেলেও পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন না হওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষ চলতে থাকে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন এসব ঘটনা ঘটছে, তখন সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার সার্বিক চিত্রও এমনই।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫২৯টি। একই সময়ে ৩৮৩ সাংবাদিকের ওপর হামলা বা লাঞ্ছিতের ২০০ ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আগের বছর ১৫২ ঘটনায় ২৫৭ সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছিল।

ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স রাবি শাখার সদস্য শামিন ত্রিপুরা ডেইলি স্টারকে বলেন, ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।

‘জড়িতরা যেহেতু বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে, তাই কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান হচ্ছে না। এ কারণেই শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

রাবি সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ পরান বলেন, ‘প্রশাসন যদি দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করত, তবে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। এদিক থেকে প্রশাসন ও প্রক্টোরিয়াল বডি সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ আল মামুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডানপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশ ছাত্র-সংগঠনগুলোকে শাস্তি না দিয়ে মদদ দিচ্ছে। প্রক্টরিয়াল বডিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্য দেখা হচ্ছে এবং এ কারণে পক্ষপাতিত্ব হতে পারে।’

‘দলান্ধ হওয়া উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজনৈতিক আনুগত্য ও স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে,’ বলেন তিনি।

সহিংসতার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির কাজ দীর্ঘায়িত হয়েছে। রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে কেন্দ্র করে ৩টি আলাদা ঘটনার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব হয়েছে। ডেইলি স্টারে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, গত ১ আগস্টের মধ্যে দুটি ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি, যেগুলো ঘটেছিল তার এক বছরের বেশি সময় আগে। এই বিলম্বের পেছনে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকে দায়ী করেছে প্রশাসন।

এসব বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আবদুল আলিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কার্যালয়ে গিয়েও তার সঙ্গে দেখা হয়নি।

BANGLADESH বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম বিদায় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক, মেসির সময় কাটবে কীভাবে? শিরোনাম সমকামী সেজে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের আশ্রয়, সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ শিরোনাম পেলে-মারাদোনার সঙ্গে নিজের তুলনা করলেন রোনালদো শিরোনাম জ্ঞান ফিরেছে, কথাও বলছেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় বেঁচে যাওয়া মার্কিন নারী শিরোনাম ভারতে যুব আন্দোলনে জ্বালাময়ী স্লোগান, নতুন মুখ কে এই নেহা বোরা শিরোনাম পরিচিতি ও পুরস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এই সময়ের ধনী লেখক যারা