07 August 2026
The News Diplomats
ডিপ্লোমেটস ডেস্ক :
Publish : 09:22 PM, 06 August 2026.
Digital Solutions Ltd

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জামায়াত কেন রাখতে চায়?

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জামায়াত কেন রাখতে চায়?

Publish : 09:22 PM, 06 August 2026.
ডিপ্লোমেটস ডেস্ক :

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নেওয়া আইনি সংশোধনের উদ্যোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও শিক্ষকদের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও তাদের ভোটের বাইরে রাখতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব স্তরের আইনে সংশোধনের জন্য খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।

ইসির এই উদ্যোগের ঘোর বিরোধিতা করছে সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও এর বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা বলছেন, শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্য থেকে এখন স্থানীয় সরকারে জনপ্রতিনিধি রয়েছে, সংসদেও রয়েছে। দীর্ঘদিনের রেওয়াজে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে তাদের ভোটের সুযোগ না দেওয়া হবে ‘অন্যায়’।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কেন ইসি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটের বাইরে রাখতে চায়? জামায়াতই বা কেন তাদের নির্বাচনে রাখার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে? এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানই বা কী?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে সরকারি দলের মধ্যে নানা প্রশ্ন আছে। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি অনুসরণের বিষয়টি ‘প্রবল’।

আর নির্বাচন কমিশন যে বিরোধীদের মতামত বা শিক্ষকদের আপত্তি আমলে নিচ্ছে না, সেটি নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের কথায় স্পষ্ট।

তিনি বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক চাকরি করে শিক্ষক বা কর্মচারী, তারা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সরকারের কাছে ইসির একগুচ্ছ প্রস্তাব পাঠানোর কথা রয়েছে। সার্বিক সুপারিশে সায় মিললে সংসদে আইনের সংশোধনী বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। সংসদ অনুমোদন করলেই তা সংশোধন হবে।”

কেন জামায়াতের বিরোধিতা

এই উদ্যোগে আপত্তি জানিয়ে গত ২৯ জুলাই ইসির সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াতে ইসলামী। সেখানে তারা বলেছে, স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশ নেওয়ার সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

ফলে ইসির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভোটে অংশগ্রহণের অধিকার থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ‘বঞ্চিত’ করা হবে বলে মনে করে দলটি।

সেদিন বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য করার ইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বৈষম্যমূলক। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই, তাহলে স্থানীয় নির্বাচনে বাধা কেন?”

সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি তুলে ইসিতে দেওয়া জামায়াতের চিঠিতে বলা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান কার্যকর হলে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন; যা সংবিধানের সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতির সঙ্গে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’।

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “এমপিওভুক্তদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখতে আমাদের যুক্তি ইসির কাছে তুলে ধরেছি। একটা যুক্তি হচ্ছে, কয়েক লাখ এমপিভুক্ত শিক্ষক রয়েছে, এটা সাংবিধানিক অধিকার। উনারা যেখানে জাতীয় সংসদের সদস্য হতে পারেন, নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন। তারা স্থানীয় সরকার হতে পারবেন না? এক দেশে তো দুই আইন চলে না।

“ইসি যুক্তি দেখিয়েছে যে উনারা (এমপিওভুক্তরা) তো সরকার থেকে কিছু সুযোগ সুবিধা পান। সুযোগ সুবিধা পেলে তো জাতীয় সংসদে নিষেধ করা উচিত ছিল; এমপিওভুক্ত অনেকে তো সংসদে রযেছেন। এমপিভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে প্রার্থী ছিলেন আবার প্রার্থী হবেন। তো এখানে এ ক্ষেত্রে এটা কেন করবেন? ইসি দেখার আশ্বাস দিয়েছে।”

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের যে সমতার কথা বলা হয়েছে, তার সাথে এটা সাংঘর্ষিক। এই সমস্ত বিষয় করলে (এমপিওভুক্তদের ভোটে অংশ নিতে না দিলে) হয়ত আইনের মুখোমুখি হবে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনটা সমস্যায় পড়তে পারে। কেউ একজন রিট করলে তখন এটা সমস্যা।”

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ‘আলোচনা না করে’ ইসির এ ধরনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি।

সরকারি দলের কেউ কেউ মনে করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের একটি বড় অংশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সেটা মনে করুক, মনে করার ওপর তো ট্যাক্স নাই। মনে তো আমরাও অনেক কিছু করি। এই সিদ্ধান্ত বড় সিদ্ধান্ত। শিক্ষকদের রাজনীতি তো নিষিদ্ধ নেই।”

কী বলছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব দেলাওয়ার হোসেন আজীজী বলেন, তারা ভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার পক্ষে। তাদের মতে, শিক্ষকদের ভোটের বাইরে রাখা ‘অন্যায়’ হবে।

“সরকার যদি আমাদের দাবি মেনে নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি করে, আমাদের চাকরিও সরকারি করে, তাহলে সরকারি কর্মচারী হিসাবে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব না। সেটা সরকার করতেই পারে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মত করলে আমাদেরও আপত্তি থাকবে না।”

এক প্রশ্নের উত্তরে আজীজী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মত করে এর মোকাবেলা করছে। তবে জোটের তরফে আইনি কোনো পদেক্ষেপে যেতে চান না তারা।

এমপিভুক্তরা ভোটে কবে থেকে

ইসি সচিবালয়ে তিন দশক ধরে চাকরি করেছেন মিহির সারওয়ার মোর্শেদ। ১৯৮৮ সালের ইউপি নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

ইসির এবারের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভারত ও পাকিস্তানে এখনো এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। বাংলাদেশেও আগে পারত না। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ আমলে উচ্চ আদালতের এক আদেশের পর সেই সুযোগ তৈরি হয়।

বিষয়টি ব্যাখ্য করে ইসির সাবেক এই উপসচিব বলেন, ‘দ্য ইন্টারমেডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্ডিনেন্স, ১৯৬১’ অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। স্বাধীনতার পরও সেটা বহাল ছিল।

ফলে এমপিওভুক্তরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না। স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে যারা রাজস্বভুক্ত, তারাও অংশ নিতে পারতেন না।

“২০১২ সালে পরিপত্রের মাধ্যমে এটা পরিষ্কাভাবে বলে দিয়েছিলাম- তারা অংশ নিতে পারবে না। ওই সার্কুলারের পর তারা মামলা করল। স্থানীয় এমপিওভুক্তদের ভোটে বারণ ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলে সংক্ষুব্ধরা আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ নিয়ে এসে ভোটে অংশ নিচ্ছে। ২০১২ সালের পরে সব স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।”

কেন নতুন উদ্যোগ ইসির, কী সংশোধন হবে

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “বেসরকারি শিক্ষকরা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। পদে থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এখন। তবে এমপিওভুক্তরা যেহেতু ফুলটাইম চাকরি করেন, তাদের চেয়ারম্যান-মেয়র না হওয়াই ভালো।

“এমপিওভুক্তরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না-এ বিষয়টি নতুন করে আইনে যুক্ত করতে হবে। এটা স্পেসিফিক থাকা দরকার। তারা (ভোটে অংশ নিতে) পারবে না মর্মে আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। তারা পদত্যাগ ছাড়া নির্বাচন করতে পারবে না। আইন সংশোধন হলে পদত্যাগ করেই এমপিওভুক্তরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।”

আদালতের বরাত দিয়ে রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমার জানা মতে (১৯৯৬ সালে প্রকাশিত ৪৮তম খণ্ড ডিএলআর-এ) আপিল বিভাগ বলেছে, স্থানীয় সরকারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সংজ্ঞায় স্কুল আসে না। কাজেই স্কুলের কোনো সার্বক্ষণিক শিক্ষক নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে-এটা আপিল বিভাগ রায় দিয়েছে।

“আমরা বলেছি, এখন যদি তাদেরকে বারিত করা হয়, তাহলে নতুন করে আইনের প্রয়োজন। সেজন্য আমরা স্পেসিফিক করছি, তারা যেন না আসতে পারে। খসড়ায় আমাদের অলরেডি অনুমোদন হয়ে গেছে। মনে করি, সেটা ঠিকই থাকবে।”

খবর: বিডি নিউজ

BANGLADESH বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম ১১ দলের পদযাত্রায় পুলিশের বাধা, ৪ বিভাগে লংমার্চের ঘোষণা শিরোনাম বারিধারার বাসায় আগুন, আইসিইউতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার শিরোনাম স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জামায়াত কেন রাখতে চায়? শিরোনাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট: প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা কী? শিরোনাম জাফর ইকবাল ও মাকসুদ কামালের বিরুদ্ধে চার্জশীট হচ্ছে শিরোনাম নেপথ্যের গল্প: ৫-৮ আগস্ট ক্যান্টনমেন্ট ও বঙ্গভবনে যা যা ঘটেছিল