দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতদের মধ্যে রাঙ্গামাটিতে তিনজন, বান্দরবানে ছয়জন, কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন ও মৌলভীবাজারে একজন রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৩৯ জন। তাদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৪ জন ও চট্টগ্রামে ১২ জন।
আজ রোববার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বন্যাকবলিত সাতটি জেলা হলো—খাগড়াছচড়, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। ৫৯টি উপজেলা বন্যা ও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন ও পৌরসভার সংখ্যা যথাক্রমে ৩৮৬টি ও ১২টি।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মোট ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
চট্টগ্রামে বন্যার পানি নামছে, এখনও পানিবন্দি ৬ লাখের বেশি মানুষ
চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে রোববারও ছয় লাখের বেশি মানুষের পানিবন্দি থাকার তথ্য দিয়েছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
৫ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালীর অনেক জায়গা প্লাবিত হয়। এ বন্যায় চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা।
রোববার সন্ধ্যায় সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিভিন্ন স্থানে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে তা পুরোপুরি কোথাও নামেনি।
উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ নাঈমুর রহমান রাফি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শনিবার থেকে পানি নামা শুরু করেছে।“মানুষজনের বাড়ি থেকে পানি নামলেও এখনও সড়কে-উঠানে রয়ে গেছে।”
এদিকে সাঙ্গু নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে। পানি নেমে গেছে সাতকানিয়া-বান্দরবান সড়ক থেকেও।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় সাঙ্গু নদীর দোহাজারি অংশের পানি বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ও মহানগরে ৬ লাখ ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। শনিবারের প্রতিবেদনে ছিল ৬ লাখ ৬২ হাজার।
ঢাকায় বৃষ্টির তীব্রতা কমে এলেও বাড়বে উত্তরবঙ্গে
রাজধানী ঢাকায় গতকাল শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে, আগামীকাল থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে।
আজ রোববার বিকেলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে এমন তথ্য জানান।
তবে আগামীকাল সোমবার দেশের ৬ বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
দুপুরে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমানের সই করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats