নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) এবং পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা।
ইতালির রাজধানী রোমে এক বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া আমির হোসেন আয়ান পুলিশকে বলেছেন, তিনজনকে মারার পর খুনি তাকে হত্যার জন্য বাসার ভেতরে অপেক্ষা করছিল।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই শাহাদাত হোসেনও বাংলাদেশি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ইতালিজুড়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির পুলিশ। তার ছবি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে ইতালির সংবাদমাধ্যম ইল মেসাজ্জেরো লিখেছে, গত সপ্তাহে শাহাদাতের সঙ্গে ঝগড়া হওয়ার কথা বলেছেন আয়ান। তবে ঠিক কী কারণে শাহাদাত ওই পরিবারের সবাইকে হত্যা করতে চাইরেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শুক্রবার রাতে রোমের কাসালোত্তি এলাকায় একটি আবাসিক ফ্লাটে আয়নের বাবা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), মা আরজু আক্তার (৩৮) এবং পাঁচ বছর বয়সি বোন আরোয়া ইসলাম আরিশাকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়।
২০ বছর বয়সী অয়নকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাবা কামাল উদ্দিন বাবুলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। এক বছর আগে সেই বাড়ির ফটকে হুমকি দিয়ে চিঠিতে পাঠানো হয়েছিল বলে স্বজনদের ভাষ্য।

ইল মেসাজ্জেরো লিখেছে, বাবুলের ছেলে আহত আয়ানের সঙ্গে কথা বলেছে স্থানীয় প্রশাসন। তিনি তদন্তকারীদের বলেছেন, তাকে হত্যার জন্য শাহাদাত আগে থেকেই বাসায় অপেক্ষা করছিলেন।
আয়ানের ভাষ্য, সেদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরেই তিনি দেখেন, শাহাদাৎ বাসায় বসে আছেন। বাসায় ঢোকার পর প্রথমে তিনি অস্বাভাবিক কিছু বুঝতে পারেননি, কারণ শাহাদাৎ তিনজনকে খুন করে লাশ লুকিয়ে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের রক্তের দাগ পরিষ্কার করে ফেলেছিল।
পরে বাবা-মায়ের কক্ষের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় খাটের নিচ থেকে ছোট বোনের একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখে আয়ান বুঝতে পারেন, ভয়াবহ কিছু ঘটেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে শাহাদাৎ ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে তার ভাষ্য।
তবে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন এবং চিৎকার করে আশপাশের লোকজনদের ডাকেন।
আয়ান তদন্তকারীদের বলেন, "সে আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছে। আমি বাসায় ফিরে তাকে দেখেছি। সে আমাকেও হত্যার জন্য অপেক্ষা করছিল। গত সপ্তাহে আমাদের ঝগড়া হয়েছিল।"
তিনি দাবি করেন, তার বাবা শাহাদাৎকে বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
ইল মেসাজ্জেরো লিখেছে, তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত বা প্রেমঘটিত বিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। হামলায় মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হওয়অ আয়ান রোমের জেমেল্লি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার মাথার খুলিতে আঘাত ও রক্তজমাটের কারণে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats