শেখ হাসিনা: ছবি- রয়টার্স
বিএনপির সঙ্গে ‘গোপন আলোচনা’ চলছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কারও কাছে ‘দয়া ভিক্ষা করে না’; তবে তিনি ‘রাজনৈতিক সমাধানের’ পক্ষে
মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরই দেশে ফেরার কথা বলেছেন, যিনি আদালতের দৃষ্টিতে একজন পলাতক আসামি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে সম্প্রতি দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে নিজের দেশে ফেরা ছাড়াও বাংলাদেশে তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।
রোববার ‘এক্সক্লুসিভ’ আখ্যা দিয়ে তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি।
এনডিটিভি বলছে, “পাকিস্তানের হাত থেকে যে দেশকে শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন করেছিলেন, সেখান থেকে তিনি বিতাড়িত হওয়ার পর প্রায় দুই বছর কেটে গেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি এবং তার দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জন্য এর চেয়ে খারাপ আর পরিস্থিতি হতে পারত না।”
প্রায়ই ইঙ্গিত দেন দ্রুত দেশে ফিরতে পারেন। এতে সমর্থকরাও বেশ উজ্জীবিত। কিন্তু আপনার বিরুদ্ধে যেখানে মৃত্যুদণ্ড রয়েছে, সেখানে দ্রুত দেশে ফেরার সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত- এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, “আমার দেশে ফেরাটা কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার নয়; এটি অনেক বড় বিষয় যেমন- বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে জড়িত।
“আমার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা কোনো বিচার নয়। এটি একটি অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে। এ ধরনের চেষ্টা আগেও হয়েছে। তারা তখনও ব্যর্থ হয়েছিল, এবারও ব্যর্থ হবে।”

১৯৭৫ সালে বাবা-মা, ভাইসহ প্রায় পুরো পরিবারকে হারানোসহ নিজের ওপর বিভিন্ন সময় হামলা ও হত্যা চেষ্টার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার প্রায় সারা জীবনই বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগ, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সব বাধা এবং ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমি এ বছরই দেশে ফিরব।”
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দেশটির রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন।
২০২৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলাতে।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করা হয় তাদের। এ দলটি এর আগে তিন দশক ধরে ক্ষমতায় ছিল।
দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়- বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কিছু ‘সীমাবদ্ধতার’ সুযোগে আওয়ামী লীগ আবার খানিকটা জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সমর্থনকে রাজনৈতিক সাফল্যে রূপ দেওয়ার মত সাংগঠনিক শক্তি আওয়ামী লীগের আছে কি না?
জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়, বরং এই দল বাংলার মাটিতে, বাংলার মানুষের মধ্যে, বাংলার ইতিহাসে এবং বাঙালি জাতির পরিচয়ের গভীরে প্রোথিত একটি রাজনৈতিক শক্তি। এ দলের ৭৭ বছরের যাত্রায় আওয়ামী লীগ বহুবার আক্রান্ত হয়েছে, বহুবার রক্ত দিয়েছে এবং বহুবার নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ভর করে আবার জেগে উঠেছে।
“আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন অন্য কারও ব্যর্থতা বা দুর্বলতার ওপর নির্ভর করে না। আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিজের পথ নিজেই তৈরি করে। জনসমর্থন সবসময়ই আমাদের সঙ্গে ছিল। বাংলাদেশবিরোধী শক্তিগুলো জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ষড়যন্ত্রমূলক এবং নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তাদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও তারা মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারেনি।”
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘অবৈধ, অসাংবিধানিক ও দখলদার’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা দাবি করেন, “এখন একটি সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অধীনে মানুষ নিজেদের চোখে বাস্তব পরিস্থিতি দেখছে। সেখানে (বাংলাদেশে) কোনো গণতন্ত্র নেই। আইনের শাসন নেই। কোনো নিরাপত্তা নেই। অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংখ্যালঘুরা আক্রমণের শিকার হচ্ছে। চরমপন্থার বিস্তার ঘটছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অকল্পনীয় রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছে।
“মানুষ এখন তুলনা করতে জানে। তারা বোঝে, আওয়ামী লীগ যখন সরকারে থাকে, তখন দেশে স্থিতিশীলতা থাকে, উন্নয়ন হয় এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা থাকে।”
দলের সাংগঠনিক শক্তির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিটি অলিগলি নিজের হাতের তালুর মত চেনে। আমরা দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছি। জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার ক্ষমতা আওয়ামী লীগের ডিএনএতেই রয়েছে। সোনা যেমন আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়, তেমনি শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন আওয়ামী লীগকে প্রতিদিন আরও শক্তিশালী করে তুলছে।”
দলের ৭৭তম বছরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি তার বার্তা খুবই স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের নেতাকর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে এবং জনগণের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানান তিনি।
চব্বিশের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনার মত তার সরকারের মন্ত্রী ও নীতি নির্ধারক এবং দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলন দমাতে হত্যা, হামলার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা চলমান। রাজধানীতে প্লটে অনিয়মসহ দুর্নীতির মামলাও হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
তাকে পলাতক দেখয়ে এসব মামলায় বিচার শুরু হয়েছে। তাকে ফেরাতে ভারত সরকারকে চিঠিও দিয়েছে সরকার। তবে দিল্লি এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেনি।
আওয়ামী লীগের ওপর বাংলাদেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতে দলের রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো বা পুনরুদ্ধার কতটা সম্ভব এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান বা ঘুরে দাঁড়ানো কোনো সরকারের অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করে না। এটি নির্ভর করে জনগণের ওপর।
“একটি অবৈধ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তারা হয়ত আওয়ামী লীগকে সাজানো নির্বাচন থেকে দূরে রেখেছে। তারা দলীয় কার্যালয়গুলো বন্ধ করে দিয়ে থাকতে পারে। সাময়িকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্তব্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে তারা আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারেনি। এ কারণেই আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই আবারও জেগে উঠতে শুরু করেছে।”
তার ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘অত্যাচার ও নিপীড়ন’ সত্ত্বেও বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং লোকালয়ে প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে। আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফুর্তভাবে এসব মিছিলে যোগ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “সরকারের আচরণই প্রমাণ করে, তারা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তিকে কতটা ভয় পায়। এ কারণেই আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিগুলো বন্ধ করতে তারা সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করেছিল। এটি আসলে তাদের নিজেদের দুর্বলতারই লক্ষণ। শক্তি প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগকে দমানো যাবে না।

“বাংলাদেশে একটি যথাযথ গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু এখন যারা ক্ষমতা দখল করে আছে, তারা যদি এই ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পথটিও বন্ধ করে রাখে, তবে মানুষের মনে ক্ষোভ, বেদনা এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাই আওয়ামী লীগের জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করে দেবে।”
তার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ তার ‘আদর্শিক চরিত্র’ হারিয়েছে এবং পাকিস্তানের মত একটি মডেলের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে বারবার দাবি করেছেন শেখ হাসিনা। এই রূপান্তরের মাধ্যমে আসলে কী বোঝাতে চান- এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনার উত্তর, “আমি কখনোই কোনো দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিরোধিতা করিনি। জনগণের কল্যাণের জন্য বাংলাদেশ সবার সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সবসময়ই স্পষ্ট, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়। তবে সেই সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুন্ন রেখে।
“জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা যে রাষ্ট্রটি গড়ে তুলেছিলাম, তার ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সেই ভিত্তিকে দুর্বল করা মানে বাংলাদেশের মূল পরিচয়ের ওপর আঘাত হানা।”
নিজের সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর যেভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রাকে ‘ধ্বংস’ করা হয়েছে এবং যেভাবে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে, সেই পরিস্থিতি থেকে কেবল আওয়ামী লীগই দেশকে মুক্ত করতে পারে। জনগণ এটি বুঝতে পেরেছে।
তিনি বলছেন, “অবৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জেনেশুনে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে, তাকে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে ধ্বংস করেছে। ৫ অগাস্টের পর বাংলাদেশে মূলত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের মডেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।”
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের বিষয়ে বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো গোপন আলোচনা চলছে বলে কিছু খবর পাওয়া যাচ্ছে দাবি করে এনডিটিভি এসব দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করে।
তবে শেখ হাসিনার ভাষ্য, “ষড়যন্ত্রকারীরা প্রায়ই জনগণকে বিভ্রান্ত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালায়। আমার অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং ন্যায়বিচার কোনো গোপন দরকষাকষির বিষয় নয়; এগুলো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।
“আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটি একটি ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা। ন্যায়বিচার কোনো দান-খয়রাত নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। কোনো নাগরিক, রাজনৈতিক নেতা বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে যদি কোনো মামলা থাকে, তবে তা অবশ্যই একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং আইনসম্মত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত ট্রাইব্যুনাল, সাজানো মামলা, ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা জোরপূর্বক জবানবন্দি কিংবা বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায় না।”
তবে সবসময়ই তিনি একটি ‘রাজনৈতিক সমাধানের’ পক্ষে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, “সেই সমাধানকে উন্মুক্ত, নীতিভিত্তিক এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে; কোনো গোপন চুক্তির ভিত্তিতে নয়। আওয়ামী লীগ কারও কাছে রাজনৈতিক দয়া ভিক্ষা করে না। আওয়ামী লীগ তার সাংবিধানিক অধিকার, জনসমর্থন এবং জনগণের শক্তির ওপর ভিত্তি করেই রাজনীতি করবে।”
সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নির্যাতন নিয়ে প্রশ্নে গোটা বিষয়কে বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য ‘ক্ষমতাদখলকারী’ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দায়ি করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে বাংলাদেশে সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, আহমদিয়া ও সুফি মাজারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অনিরাপদ হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি তার।
ভারতে অবস্থানকালে কীভাবে সময় পার করছেন, ছেলে-মেয়ের সঙ্গে প্রায়ই দেখা হয় কি না সে প্রশ্নেরও জবাব দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমার স্বাভাবিক যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু আমার মন সবসময় বাংলাদেশে পড়ে থাকে; যে মাটিতে আমার বাবা শায়িত আছেন। নিজের দেশের মানুষ থেকে দূরে থাকা, নিজের মাটির গন্ধ থেকে দূরে থাকা এবং প্রতিদিন আমার নেতাকর্মীদের কষ্টের কথা শোনা অত্যন্ত কষ্টের।
“দূর থেকে হলেও আমি প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি। নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখি। নির্যাতিত পরিবারগুলোর কষ্টের কথা শুনি। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আমার সংগ্রাম থেমে যায়নি।”
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats