যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নতুন বৈধ পথ চালুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে, কানাডার আদলে কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মাধ্যমে শরণার্থীদের স্পনসর করার সুযোগ চালুর কথা ভাবছে দেশটি। যুক্তরাজ্য সময় শুক্রবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, এ বছরই নতুন এই ব্যবস্থা চালু হবে।
নতুন নিয়মের আওতায় বিভিন্ন সংগঠন ও কিছু ‘বিশ্বস্ত’ বিশ্ববিদ্যালয় শরণার্থীদের স্পনসর করতে পারবে। ২০২৭ সালের শরৎ মৌসুমে প্রথম দফায় শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আসার কথা রয়েছে। এছাড়া আগামী বছর থেকে নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে শরণার্থীদের স্পনসর করার ব্যবস্থাও চালু হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
দেশটিতে অভিবাসন ও আশ্রয় ইস্যুগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। অভিবাসনবিরোধী জনমতকে পুঁজি করে কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
দুই বছর আগে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তবে চলতি সপ্তাহে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। অবশ্য নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন।
আগামী সপ্তাহে ব্রিটিশ সংসদে আশ্রয়-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার প্রস্তাব উত্থাপনের কথা রয়েছে স্টারমার সরকারের। এতে আবেদন বাতিল হওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। এছাড়া শরণার্থীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক পুর্নমিলনের সুযোগ কেবল ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সীমিত রাখা হবে।
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসতে পারেন অ্যান্ডি বার্নাম। তার অভিবাসননীতি কেমন হবে, তা স্পষ্ট না হলেও ভোটের প্রচারণার সময় অভিবাসন ইস্যুতে জনসাধারণের উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন বার্নাম।
স্টারমারের কঠোর অভিবাসন নীতির অন্যতম সমর্থক হিসেবে পরিচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর অধীনেও একই পদে থাকবেন কি না, সেটিও এখনো অনিশ্চিত।
এক বিবৃতিতে শাবানা মাহমুদ বলেন, ‘আমি প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য নতুন বৈধ পথ উন্মুক্ত করব। একই সঙ্গে যেসব ফাঁকফোকর বারবার অপব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দেব।’
তিনি বলেন, ‘নতুন স্পনসরশিপ কর্মসূচি ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিম-এর তুলনায় অনেক বড় পরিসরে পরিচালিত হবে।’
ওই কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে প্রায় ৮০০ জনকে যুক্তরাজ্যে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। তবে নতুন এই কর্মসূচির আওতায় কী পরিমাণ শরণার্থী সুবিধা পেতে পারেন, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগেও সিরিয়া ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ স্পনসরশিপ কর্মসূচি চালু করেছিল যুক্তরাজ্য।
চলতি বছরের শুরুতে শরণার্থী মর্যাদাকে সাময়িক করা এবং আফগানিস্তান, মিয়ানমার ও সুদানসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য শিক্ষা ভিসা নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপের কারণে নিজের দলসহ বেশকিছু দাতব্য সংস্থার সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন শাবানা মাহমুদ।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats