Sunday, 14 June 2026
The News Diplomats
ডিপ্লোমেটস প্রতিবেদক :
Publish : 09:45 AM, 14 June 2026.
Digital Solutions Ltd

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার, ফিরিয়ে আনার ঘোষণা

অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছিলেন মহাপ্রতাপশালী বেনজীর

অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছিলেন মহাপ্রতাপশালী বেনজীর

Publish : 09:45 AM, 14 June 2026.
ডিপ্লোমেটস প্রতিবেদক :

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের পাশাপাশি দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, হিন্দুদের জমি দখল, অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় পড়া বেনজীরের কীর্তিকলাপের মধ্যে, পাসপোর্ট কেলেঙ্কারি ও ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসেন আজ রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানিয়েছেন, বেনজির আহমদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ১২ জুন একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ। তবে বেনজীর আহমেদকে কোন মামলার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে কিংবা তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।

এর আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ এবং তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।

বেনজীর আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়, বেনজীর ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। তাঁদের বড় মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার এবং মেজ মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীর ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১২ জুন বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা ৮টি ফ্ল্যাট এবং ২৫ একর (১ একর সমান ৬০ দশমিক ৫ কাঠা) ২৭ কাঠা জমি জব্দ করার (ক্রোক) আদেশ দেন আদালত। এসব ফ্ল্যাট ঢাকার বাড্ডা ও আদাবরে এবং জমি নারায়ণগঞ্জ, বান্দরবান ও উত্তরায়। এ ছাড়া দুই দফায় বেনজীর ও তাঁর পরিবারের নামে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে ৬২১ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। এ ছাড়া ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং ৩টি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত।

বেনজীরকে শিগগির দেশে আনা হবে

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন। আজ রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধির আওতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

পুলিশ সদরদপ্তর জানায়, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১২ জুন একটি চিঠি দিয়ে দুবাই পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'গত ১২ জুন আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমদকে আমিরাত পুলিশ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।'

মন্ত্রী জানান, এর আগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সেই নোটিশের ভিত্তিতেই ইন্টারপোল আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আটক করার অনুরোধ জানায়।

'তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন। আমি এই মহান সংসদকে আরও জানাচ্ছি যে এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে, ইউএই ফেডারেল ল অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে,' বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার আইনের মামলা বিচারাধীন। এ বিষয়ে এনসিবি ঢাকা ইন্টারপোল চ্যানেলের মাধ্যমে রেড নোটিশ প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয়, বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও গ্রেপ্তার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।'

'তাকে প্রত্যার্পনের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্সট্রাডিশনাল প্রপোজাল প্রস্তুত ও অনুমোদন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে,' বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, 'এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব। পাশাপাশি এর মাধ্যমে আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালী হোক না কেন আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এ ঘটনা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।'

বেনজীর কাহিনি: সাবেক এক আইজিপির আমলনামা

এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ তখন ক্ষমতায়, প্রবল প্রতাপ নিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের বেনজীর আহমেদ। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের পর র‍্যাবের মহাপরিচালক হয়েছিলেন, পুলিশের শীর্ষ পদেও বসানো হয়েছিল তাঁকে। অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ গড়ার খবর তখনই উঠেছিল। একপর্যায়ে যখন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই দেশ ছাড়েন তিনি সপরিবার।

তার কয়েক মাসের মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির অনুসন্ধানে গতি পায়। তাঁর আরও দুর্নীতির খবর বেরিয়ে আসে। বেশ কয়েকটি মামলার পর আদালত থেকে আসে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তাঁকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার পেরিয়ে বিএনপি সরকার আসার চার মাসের মাথায় পুলিশের সাবেক এই মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) গ্রেপ্তারের খবর এল। ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশের মাধ্যমে ১২ জুন সে দেশে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে আজ রোববার সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

১৯৮৮ সালে পুলিশে যোগ দেওয়া বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি পদে ছিলেন। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‍্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বেনজীরকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশে ফিরলে নানা মামলায় বিচার অপেক্ষা করছে বেনজীরের জন্য। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের পাশাপাশি দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, জমি দখল, অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় পড়া বেনজীরের কীর্তিকলাপের মধ্যে ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার একজন আসামি বেনজীর আহমেদ। এই ঘটনার সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জন হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারসহ অনেকে এই মামলার আসামি।

অর্থ পাচারের অভিযোগ

বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। দুদক ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুদকের কর্মকর্তারা বলেন, ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণের পর কোথাও বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া যায়নি। এই টাকা তুলে নেওয়ার পরপরই তিনি বিদেশ চলে যান। দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর দুদকের অনুসন্ধান শুরু হলে ২০২৪ সালের ৪ মে দেশ ছেড়েছিলেন বেনজীর।

ভয় দেখিয়ে সংখ্যালঘুদের জমি কিনে নেওয়া

নিজের এলাকা গোপালগঞ্জের বিশাল এলাকাজুড়ে রিসোর্ট গড়ে তুলেছিলেন বেনজীর। নিজের ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে কয়েক শ বিঘা জমি কেনেন তিনি। এসব জমির প্রায় সবই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাঁরা বলছেন, জমি বিক্রি ছাড়া তাঁদের কোনো উপায় ছিল না। ভয় দেখিয়ে, জোর করে এবং নানা কৌশলে তাঁদের কাছ থেকে জমিগুলো কেনা হয়।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৈরাগীটোল গ্রামে ৬০০ বিঘার বেশি জমির ওপর তিনি গড়ে তোলেন সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক। পরে আদালত পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা জব্দের নির্দেশ দেন। ২০২৪ সালের জুনেই সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডেমরা-ইছাপুরা সড়কের পাশে ২৪ কাঠা জায়গাজুড়ে একটি বাড়ি করেন বেনজীর আহমেদ। নিজের মেয়ের মালিকানাধীন বাড়িটির নাম দেওয়া হয় সাভানা ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড। এর আগে আনন্দ হাউজিং সোসাইটির নামে স্থানীয় প্রেমানন্দ সরকারের মালিকানাধীন একটি ৫৫ শতাংশের জলাশয় জোর করে ভরাট করা হয়। পরে ভরাট করা ওই জমি ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় কিনে নেন বেনজীর আহমেদ।

ভুয়া পিএইচডি অর্জন

আইজিপি হয়ে বেনজীর আহমেদ ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি নেন। এর পর থেকে তিনি নামের আগে ‘ডক্টর’ শব্দটি ব্যবহার করা শুরু করেন। তবে ডক্টরেট ডিগ্রি নেওয়ার প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতাই তাঁর ছিল না। শর্ত শিথিল করে তাঁকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

বেনজীর আহমেদ ডক্টরেট ডিগ্রি নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) প্রোগ্রাম থেকে। সেখানে ভর্তির জন্য স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হয়। শিক্ষাজীবনের সব পাবলিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হয়। বেনজীরের তা ছিল না। পরে বেনজীর আহমেদের ডক্টরেট ডিগ্রি স্থগিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পাসপোর্ট কেলেঙ্কারি

সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় সেই তথ্য গোপন করে বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে পাসপোর্ট নিয়েছিলেন বেনজীর আহমেদ। এই কাজটি তিনি করেছিলেন ২০১৬ সালে, তখন তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক।

বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন তিনি করলে তখন আপত্তি জানিয়েছিল পাসপোর্ট অধিদপ্তর। র‌্যাব সদর দপ্তরে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। জবাবে র‌্যাব সদর দপ্তরের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) আবদুল জলিল মণ্ডল অবিলম্বে বেনজীরের পাসপোর্ট প্রতিস্থাপনের অনুরোধ করে চিঠি দেন। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেনজীরকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়। ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় তাঁর বাসায় গিয়ে।

এটা সরকারি চাকরিবিধি ও পাসপোর্ট আইনে অপরাধ হলেও বেনজীরের কিছুই হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন, যদিও তখন র‍্যাবে দায়িত্ব পালন শেষে আইজিপি পদে ছিলেন তিনি। তিনি র‍্যাবের প্রধান ছিলেন ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ২০২২ সালের আগস্টে বেনজীর আহমেদ জাতিসংঘের পুলিশপ্রধান সম্মেলনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। তবে সম্মেলনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বাইরে ওই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোথাও তিনি যেতে পারেননি।

বেনজীর যেভাবে দেশ ছেড়েছিলেন

সম্পদ অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবার দেশ ছাড়েন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তখন অভিযোগ উঠেছিল, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে ‘সিগন্যাল’ পেয়েই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। বিমানবন্দরে তাঁকে আটকানো হয়নি।

বেনজীর আহমেদের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের দিকে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একের পর অভিযোগ আসতে থাকে সংবাদমাধ্যমে।

২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদ অনুসন্ধানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সংস্থাটির অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিপুল সম্পদ। কিন্তু অনুসন্ধান চলার মধ্যেই সপরিবার দেশ ছাড়েন বেনজীর।

তখন ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি (ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা) ফুটেজের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ৪ মে রাতে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন বেনজীর আহমেদ। তখন তাঁর পেছনে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকেও দেখা যায়। তখন প্রশ্ন উঠেছিল, দুদক, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থাকে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে বেনজীর বিদেশে চলে গেলেন? নাকি তাঁদের বিদেশ চলে যাওয়ার সুযোগ

BANGLADESH বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম প্রকাশ্যে মাঠেই চুমু, যুগলবন্দী হয়ে খেলা দেখলেন কেটি পেরি–ট্রুডো শিরোনাম ভারত ‘অনুমোদন’দেয়নি, নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আসছে না বাংলাদেশে শিরোনাম আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল নিয়ে বাংলাদেশে কাঁপছে সমর্থকদের উন্মাদনায় শিরোনাম মরক্কোর ফুটবলার হাকিমির প্রেমে মজেছেন নোরা ফাতেহি? শিরোনাম ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করেছেন শিবির নেতা জিসান, আপত্তি জামায়াতের শিরোনাম ২০০৬ থেকে ২০২৬, অবিশ্বাস্য পথচলায় আবেগাপ্লুত মেসি