খুলনায় নিহত বিএনপি নেতা রফিক গাজী (বায়ে), ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ।
খুলনা নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে রফিক গাজী নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা কাজীপাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড হয়। লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। রফিকুল ইসলামের বাড়ি বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নে। তার বাবার নাম রতন গাজী। তবে তিনি মাথাভাঙ্গা এলাকায় বসবাস করতেন।
এদিকে রাজধানী ঢাকার রামপুরায় আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। একমাস আগে পলাশ কারাগার থেকে বের হন।
খুলনা পুলিশ জানিয়েছে, দুপুরে রফিক তার বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি দোকানে বসে ছিলেন। সে সময় এক যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে একটি গুলি তার পেটে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ওই যুবক হেলমেট পরে ছিলেন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সন্ত্রাস দমনে নগরীতে যৌথ অভিযান চললেও অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে মানুষ হত্যা করছে। বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আসাবুর রহমান হাওলাদার জানান, রফিক উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। মোশারেফ হোসেন বলেন, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান।
‘সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে,’ বলেন তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) অপরাধ শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত নগরীতে ৮৯টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি ঘটনায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
কারামুক্তির এক মাসের মধ্যে গুলিতে আহত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পলাশ
কারাগার থেকে বের হওয়ার এক মাসের মাথায় রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়েছেন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইয়াছিন খান পলাশ। রামপুরায় আজ শুক্রবার দিনদুপুরে তাঁকে গুলি করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াছিন খান পলাশ (৫০) ‘কাইল্লা পলাশ’ নামে পরিচিত। পুলিশের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’র তালিকায় একসময় তাঁর নাম ছিল।
রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুক্রবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন পলাশ। রামপুরা থানাধীন রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার মাথায় দুটি গুলি লাগে।
গুলিবিদ্ধ পলাশকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কারা, কেন পুলাশের ওপর হামলা করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।
পলাশের বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহিম মিয়া হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, এক যুবক পলাশের মাথায় গুলি করে কিছু দূরে থাকা একটি মোটরসাইকেলের পেছনে উঠে শূন্যে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যান। পলাশ এক মাস আগে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান বলে জানান ইব্রাহিম। পলাশের বাবার নাম ইউনুস খান। তাঁর বাড়ি রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায়। যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় দণ্ডিত ছিলেন ইয়াসিন খান।
২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় মিজানকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এ মামলায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন পলাশকে। পরে উচ্চ আদালত তাঁর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats