সামরিক বাজেট বাড়ানো নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন বৃটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্রমবর্ধমান হুমকি থেকে দেশকে নিরাপদ রাখার জন্য যে পরিমাণ সম্পদের প্রয়োজন, তার অনুমোদন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। হিলির এই আকস্মিক পদত্যাগ স্টারমারের নেতৃত্বকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বেশ কয়েক মাস ধরেই সামরিক বাজেট বাড়ানো নিয়ে স্টারমার এবং অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছিলেন জন হিলি।ব্রেকিং নিউজ
এই বাজেট নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে বৃটেনের ‘ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ বা প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা আটকে ছিলো। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় স্টারমারকে দেওয়া চিঠিতে হিলি লেখেন, আপনি এবং ট্রেজারি (অর্থ মন্ত্রণালয়) দেশকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ দিতে অনিচ্ছুক। হিলির পদত্যাগের পর পরই জুনিয়র প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আল কার্নসও পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা আমাদের সামনে থাকা হুমকি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়।
তবে এই ধাক্কা সামলাতে স্টারমারের দ্রুত নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ড্যান জারভিসকে নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
নেতৃত্বের সংকটে স্টারমারের সরকার: মাত্র এক মাস আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছিল স্টারমারের লেবার পার্টি। দলের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ আইনপ্রণেতা ইতিমধ্যেই তাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে গত মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ক্ষোভ প্রকাশ করে পদত্যাগ করেন। ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামও মূল ধারার রাজনীতিতে ফিরে স্টার্মারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে হিলির পদত্যাগ স্টারমারের বিদায়কে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছেন দলের অনেক আইনপ্রণেতা।
সামরিক সক্ষমতা ও বাজেটের হিসাব: ঐতিহাসিকভাবে বৃটেন বড় সামরিক শক্তি হলেও সম্প্রতি বাজেট সংকটের কারণে তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত মার্চ মাসে সাইপ্রাসে অবস্থিত বৃটিশ বিমান ঘাঁটিতে ইরান-নির্মিত ড্রোন হামলার পর সেখানে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ব্যর্থ হয় দেশটিকে। ২০২৪ সালে সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে জার্মানির পেছনে পড়ে যায় বৃটেন। ন্যাটো জোটের মধ্যে বর্তমানে জার্মানির প্রতিরক্ষা বাজেট তাদের জিডিপির ৩.৭ ভাগে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে বৃটেনের পরিকল্পনা মাত্র ২.৬৮ ভাগ। হিলি সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়া থেকে আসা ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং আর্কটিক ও মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের চাহিদার তুলনায় এই বরাদ্দ খুবই সামান্য। মূলত স্থবির অর্থনীতি এবং ঋণের বোঝার কারণে স্টারমার সরকার এই বাড়তি অর্থ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের মাত্র এক মাস আগে হিলির এই চলে যাওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বৃটেনের অবস্থানকে দুর্বল করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats