বিশ্বকাপ জমে উঠেছে, তবে বিতর্ক ছাড়ছে না। ভিসা জটিলতা বলা চলে অনেকটাই নিত্যদিনের সঙ্গী। রেফারি থেকে প্লেয়ার— কেউই বাদ যাচ্ছেন না ভিসা আতঙ্ক থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডাও জড়িয়ে গেছে বিতর্কে। অনেকে বৈধ কাগজপত্র নিয়েও ভিসা পাচ্ছেন না। বিমানবন্দর থেকে দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে। ইরানি প্লেয়াররা তো কড়া নজরদারির মধ্যেই রয়েছেন। ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধানকেও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা। এমন বিশ্বকাপ অবশ্য নজিরবিহীন। অনেকে টিকিট কেটেও ভিসা আতঙ্কে রয়েছেন। কেউ কেউ না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি বাংলাদেশেরও অন্তত চারজন টিকিটধারী ভিসা পাননি। ফিফা অ্যাক্রেডিটেশন পাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যেও বেশ কয়েকজনের ছাড়পত্র মেলেনি। এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। তবে এবারেরটা একটু বেশি। যে কারণে জৌলুসের কিছুটা ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাসস্থানের সমস্যা প্রকট। হোটেলগুলোতে ঠাঁই নেই। মূল্য অবশ্য চড়া। যাতায়াত সমস্যা তো ব্যয়বহুল। তারপরও বিশ্বকাপ এগিয়ে যাচ্ছে। শুরুটা মন্দ নয়। শাকিরার নাচ দেখে অনেকেই বিমোহিত। মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে জমজমাট আয়োজন বিশ্বকাপকে নতুন গতি দিয়েছে।
ওদিকে মেসিকে নিয়ে তেমন একটা হইচই নেই। তাহলে কি মেসি হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন! তা কিন্তু নয়। মেসি দল গোছাচ্ছেন। নীরবে ছক কষছেন। আবারও কাপ নিতে চান। গড়তে চান নতুন ইতিহাস। ফরাসি সুপারস্টার এমবাপ্পে এবার কিন্তু প্রতিশোধ নিতে চান।
কাতার বিশ্বকাপ তাদের হাতছাড়া হয়েছিল। জিততে জিততেও তারা হেরে গিয়েছিলেন। পেনাল্টি শুট আউট তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল। তাই এমবাপ্পে বলছেন, যে করেই হোক কাপ এবার তাদের চাই। সুপারস্টার রোনালদো অনেকটা আলোচনার বাইরে। তাকে নিয়ে নেই কোনো মাতামাতি। এটা তার শেষ বিশ্বকাপ। বয়স তার গতি থামিয়ে দিয়েছে। তবে শেষবারের মতো তিনিও কাপটার উপর ভাগ বসাতে চান। স্পেনের তারকা ইয়ামাল দূরে বসে কাপের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছেন। যদিও তাকে ঘিরে ফুটবল দুনিয়ায় এক ধরনের উন্মাদনা রয়েছে। বলা হচ্ছে, এবার তিনি হবেন তারকার তারকা। বৃটিশরা বরাবরই থাকেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শেষ পর্যন্ত তাদের শূন্য হাতেই ফিরতে হয়। ’৬৬ সনে কাপ জেতার পর আর তাদের ভাগ্যে জুটেনি।
’৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা তাদের কাছ থেকে কাপের স্বপ্ন ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন অলৌকিকভাবে। পায়ে নয়, মাথা বা শরীর দিয়ে নয়, জাদুমন্ত্রের মতো বলটা পৌঁছেছিল জালে। বৃটিশরা এখনও বিশ্বাস করেন রেফারিকে ফাঁকি দিয়ে ম্যারাডোনা বল ঠেলেছিলেন হাতে। এ নিয়ে অনেক তদন্ত হয়েছে। হয়েছে বিতর্ক। কোনো কূল-কিনারা হয়নি। কিংবদন্তি ফুটবলার ম্যারাডোনা বেঁচে থাকতেও বিতর্ক তার পিছু ছাড়েনি। তিনি অবশ্য এ নিয়ে হাসি-তামাশা করেছেন। পুরোপুরি খোলাসা করেননি কখনও।
ব্রাজিলিয়ান তারকার তারকা নেইমার বিশ্বকাপে আছেন, আবার নেই। কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলছেন, নেইমার এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। তাই তাকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। যে কারণে মরক্কোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রথম একাদশে তাকে দেখা যাবে না। এ নিয়ে ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের মধ্যে প্রচণ্ড হতাশা। যদিও নেইমার সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে আলোচনার কেন্দ্রে নেই। কাতার বিশ্বকাপেও নিষ্প্রভ ছিলেন। অনেকেই বলছেন, সুপারস্টারবিহীন ব্রাজিল টিম স্পিরিটি দিয়েই এবার চমকে দিতে পারে।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats