নাহিদ রানার বুক সমান বলটা থেকে শরীর বাঁচাতে ব্যাট পেতে দিলেন শাহীন আফ্রিদি। বল তার গ্লাভসে জমা পড়ে আশ্রয় নিল ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে দাঁড়ানো ফিল্ডার মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে। পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করে 'জয়' ধরা দিল বাংলাদেশের। দুরন্ত স্পেলে পূর্ণতার আনন্দে নাহিদ তখন উন্মাতাল। শেষ উইকেটের দৃশ্য আর নাহিদ রানার ক্ষ্যাপাটে উল্লাস বলে দিল পুরো ম্যাচের ছবি।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জিতেছে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। এর আগে ২০২৪ সালে এই প্রতিপক্ষকে তাদের দেশে হোয়াইটওয়াশ করে এসেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

লাঞ্চের ঠিক আগে পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দুই সেশনেই প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিক দল। ৯.৫ ওভারে ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের নায়ক নাহিদ।
মিরপুর টেস্টে প্রথম দিন থেকেই দাপট দেখায় বাংলাদেশ। তবে বৃষ্টিতে চতুর্থ দিনে অনেকটা সময় ভেসে যাওয়ায় ম্যাচের ফল বের করা নিয়ে কিছুটা সংশয় জেগেছিল। নাজমুল হোসেন শান্তদের অবশ্য আত্মবিশ্বাস ছিল ৭৫ ওভারের মতো পেলে বোলাররা কাজটা সারতে পারবেন, সেটাই হয়েছে।
সুরটা বেঁধে দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। পেস-সুইংয়ের মিশেলে প্রতিপক্ষকে শুরুতেই চেপে ধরেছিলেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিয়েছেন উইকেট। নাহিদকে দিনের একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল কিছুটা বিবর্ণ, প্রথম ইনিংসেও খরুচে বল করে তেমন সাফল্য পাননি। তবে একদম ঠিক সময়ে জ্বলে ওঠেন বাংলাদেশের গতি তারকা। শেষ সেশনে পাকিস্তান ধসে যায় তার গতির ঝড়ে।
চা-বিরতির পর ফিরেই আব্দুল্লাহ ফজলকে শিকার ধরেছিলেন তাইজুল ইসলাম। তার বলে পেছনের পায়ে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ফজল। মাঠের আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ায় রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ।

খানিক পর সালমান আলি আঘাকে থামান তাসকিন। তাসকিনকে কাট করতে গিয়ে গালিতে ধরা দেন ২৬ রান করা ব্যাটার। ঠিক পরের বলেই মোহাম্মদ রিজওয়ানকে পরাস্ত করে উল্লাসে মেতেছিলেন তিনি। এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। তবে এবার রিভিউ নিয়ে রক্ষা পান রিজওয়ান, রিপ্লেতে দেখা যায় বল লেগ স্টাম্প মিস করে বেরিয়ে যেত।
সাউদ শাকিলকে নিয়ে এরপর প্রতিরোধ গড়েন রিজওয়ান। বাংলাদেশের বোলারদের হতাশা কিছুটা বাড়াচ্ছিলেন তারা। তবে ৭৩ বলে ৩১ রানের জুটির পর একদম ভীষণ প্রয়োজনে জোড়া ব্রেক থ্রু দেন নাহিদ। নাহিদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে বাঁহাতি ব্যাটার ধরা দেন কিপারের গ্লাভসে।
খানিক পর রিজওয়ানকে স্বপ্নের এক ডেলিভারিতে স্টাম্প উড়িয়ে দেন নাহিদ। ঘণ্টায় ১৪৭.২ কিলোমিটার গতির ডেলিভারি রিজওয়ান ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেই বল মুভ করে তার স্টাম্প উড়িয়ে দেয়। ম্যাচ জেতার রাস্তা তখনই যেন খুলে যায়। তাইজুলের বলে হাসান আলির বিদায়ে ১৫৪ রানে ৮ উইকেট হারায় সফরকারীরা। দিনের অনেকটা সময় বাকি থাকায় তখন জেতার আভাস হয়ে যায় প্রবল।
নাহিদ তার পরের ওভারেই ছেঁটে ফেলেন নোমান আলিকে। পেছনের পায়ে খেলতে গিয়ে পরাস্ত হলেও আম্পায়ার শুরুতে সাড়া দেননি। রিভিউ নিয়ে নবম উইকেট ফেলে বাংলাদেশ। নাহিদই মুড়ে দেন ইনিংস। শাহীনকে গতি আর বাউন্সে কাবু করে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি।
সকালে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে নেমে আরও ৮৮ রান যোগ করে স্বাগতিকরা। শান্তর ৮৭ রানের সৌজন্যে ৯ উইকেটে ২৪০ রান করে ইনিংস ঘোষণা দেয়। লাঞ্চের আগে চার ওভারের মধ্যেই তাসকিন পাইয়ে দেন উইকেট। লাঞ্চের পর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং পরিবর্তন, বোলারদের সময়মত সাড়া বাংলাদেশকে ধরে রাখে ম্যাচে। দারুণ স্পোর্টিং উইকেটের সব রসদ জমা থাকায় সেরাটা নিংড়ে কাজ সেরেছেন শান্তরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ২৪০/৯ (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬, মিরাজ ২৪, মুশফিক ২২, তাসকিন ১১; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬, শাহিন ২/৫৪)।
পাকিস্তান: ৩৮৬ ও ১৬৩ (ফজল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ২/২২)
ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats