Thursday, 09 April 2026
The News Diplomats
নিউইয়র্ক টাইমস :
Publish : 08:45 AM, 09 April 2026.
Digital Solutions Ltd

নেতানিয়াহুর গোপনীয় দলিল : ট্রাম্পকে যেভাবে জড়ালো ইরান যুদ্ধে

নেতানিয়াহুর গোপনীয় দলিল : ট্রাম্পকে যেভাবে জড়ালো ইরান যুদ্ধে

Publish : 08:45 AM, 09 April 2026.
নিউইয়র্ক টাইমস :

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলায় যোগ দেওয়ার যে সায় দেন, তার পেছনে প্রভাব রেখেছিল ফেব্রুয়ারিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি উপস্থাপনা। তা নিয়ে পরের কয়েক দিন ও সপ্তাহজুড়ে হোয়াইট হাউসের ভেতরে একের পর এক আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত কীভাবে ট্রাম্প সেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন, ইরানে যুদ্ধবিরতির পর নেপথ্যের সেই গল্পটি শুনিয়েছেন নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিক জোনাথন সোয়ান ও ম্যাগি হাবারম্যান।

দিনটি ছিল ১১ ফেব্রুয়ারি (২০২৬), বেলা ১১টা। কালো রঙের একটি গাড়ি ঢুকল হোয়াইট হাউসে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে। সাংবাদিকদের চোখের আড়াল করে খুব বেশি আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তাঁকে দ্রুত ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটির জন্য তখন প্রস্তুত ছিলেন নেতানিয়াহু, যিনি ইরানে হামলা করতে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে বহু মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

প্রথমে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ওভাল অফিসের পাশের কেবিনেট রুমে জড়ো হন। তারপর মূল বৈঠকের জন্য নিচের তলায় নেমে যান নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর কর্মকর্তাদের জন্য একটি অত্যন্ত গোপনীয় দলিল উপস্থাপনা করেন। এই উপস্থাপনা হয় হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে। বিদেশি নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের জন্য এই কক্ষ খুব কমই ব্যবহার করা হয়।

ট্রাম্প বসলেন, তবে কক্ষটির মেহগনি কাঠের টেবিলের মাথায় তাঁর চেনা জায়গায় নয়। বরং তিনি এক পাশে বসেন, দেয়ালে লাগানো বড় পর্দার দিকে মুখ করে। নেতানিয়াহু বসেন অন্য পাশে, ঠিক ট্রাম্পের বিপরীতে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর পেছনের পর্দায় দেখা যাচ্ছিল তাদের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান দাভিদ বার্নিয়াকে। সেখানে আরও ছিলেন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা। দৃশ্যত তাঁরা নেতানিয়াহুর পেছনে সারি বেঁধে ছিলেন। এতে এমন একটি পটভূমি তৈরি হয়, যেন তিনি সহযোগী পরিবেষ্টিত যুদ্ধকালীন এক নেতা।

হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি উইলিস বসেছিলেন টেবিলের দূর প্রান্তে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছিলেন, তাঁর নির্ধারিত আসনেই বসেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন, যাঁরা সাধারণত এমন পরিবেশে পাশাপাশি বসতেন, ছিলেন এক পাশে। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন সিআইএর পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ। প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও ছিলেন সেখানে। ইরানের সঙ্গে আলোচনা উইটকফই চালিয়ে নিচ্ছিলেন।

তথ্য ফাঁস ঠেকাতে ইচ্ছা করেই এই বৈঠকটির পরিসর রাখা হয়েছিল ছোট। ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার অন্য শীর্ষ সদস্যদের কেউই জানতেন না যে এমন একটি বৈঠক হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সেখানে ছিলেন না। তিনি তখন ছিলেন আজারবাইজানে। খুব অল্প সময়ের নোটিশে বৈঠক ঠিক হওয়ায় তিনি সময়মতো ফিরতে পারেননি।

পরের এক ঘণ্টায় নেতানিয়াহু যে উপস্থাপনা দেন, তা ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বিশ্বের সবচেয়ে অস্থির অঞ্চলগুলোর একটির মাঝখানে বড় এক সশস্ত্র সংঘাতের পথে এগিয়ে দেয়। এরপরের কয়েক দিন ও সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের ভেতরে একের পর এক আলোচনা হয়, যেগুলোর বিস্তারিত আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি। সেই আলোচনাগুলোয় ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলায় যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার আগে নিজের বিকল্পগুলো এবং ঝুঁকিগুলো ভেবে দেখার সুযোগ পান।

ট্রাম্প কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে নিয়ে গেলেন, তার এই বিবরণ নেওয়া হয়েছে আসন্ন একটি বইয়ের জন্য করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। বইটির নাম ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দি ইমপেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’। প্রশাসনের ভেতরের এই আলোচনা প্রেসিডেন্টের স্বভাবগত প্রবৃত্তি, তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের ভাঙন এবং তিনি কীভাবে হোয়াইট হাউস চালান, তা স্পষ্ট করে তুলে ধরে বইটি। ভেতরের আলোচনা ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো তুলে ধরতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নেওয়া বিস্তৃত সাক্ষাৎকারের ওপর দাঁড়িয়েছে এই বিবরণ।

এর প্রতিবেদনগুলো দেখায়, বহু মাস ধরে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানরে সঙ্গে কীভাবে নেতানিয়াহুর ভাবনার মিলমিশ হয়েছিল। এমনকি প্রেসিডেন্টের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টাও বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি। দুই প্রশাসনজুড়েই তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্য ছিল। আর এই সম্পর্ক, যদিও মাঝেমাঝে টানাপোড়েন ছিল, আমেরিকার রাজনীতির বাম ও ডান, দুই দিকেই তীব্র সমালোচনা ও সন্দেহ তৈরি করেছে।

এটি আরও দেখায়, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের যুদ্ধবিষয়ক পরামর্শকদের তুলনামূলক বেশি সংশয়ী সদস্যেরাও তাঁর প্রবৃত্তির কাছে নতি স্বীকার করেন। এর বড় ব্যতিক্রম ছিলেন ভ্যান্স। হোয়াইট হাউসের ভেতরে তিনিই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিরোধী ছিলেন। তবু শেষ পর্যন্ত অন্যরা প্রেসিডেন্টের কথাকেই মেনে নেন। বিশেষ করে, যুদ্ধ দ্রুত হবে এবং সিদ্ধান্তমূলক হবে, তাঁর এমন প্রবল আত্মবিশ্বাসকে।

হোয়াইট হাউস অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

 

১১ ফেব্রুয়ারি সিচুয়েশন রুমে নেতানিয়াহু নিজের প্রস্তাব তুলে ধরেন জোরালোভাবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানে শাসন পরিবর্তনের সুর্বণ সুযোগ এখনই। তিনি একথাও বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শেষ পর্যন্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটাতে পারে।

একপর্যায়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ছোট্ট একটি ভিডিও দেখান ট্রাম্পকে। সেখানে এমন কয়েকজন সম্ভাব্য নতুন নেতার ছবি একসঙ্গে দেখানো হয়, যাঁরা ইরানে গোঁড়া সরকার পড়ে গেলে দেশটির দায়িত্ব নিতে পারেন। যাঁদের দেখানো হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ছিলেন রেজা পাহলভি। তিনি ইরানের শেষ শাহ বা রাজার নির্বাসিত ছেলে। এখন তিনি থাকেন ওয়াশিংটনে। তিনি নিজেকে এমন এক ধর্মনিরপেক্ষ নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, যিনি ইরানকে ধর্মতান্ত্রিক শাসনের পরের এক নতুন ব্যবস্থার দিকে নিতে পারেন।

নেতানিয়াহু ও তাঁর কর্মকর্তারা কয়েকটি পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন, যেগুলোকে তাঁরা প্রায় নিশ্চিত জয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখান। তাঁদের মতে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধ্বংস করা সম্ভব। তখন সরকার এতটাই দুর্বল হয়ে পড়বে যে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারবে না। আর আশপাশের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ইরানের আঘাত হানার সম্ভাবনাও খুব কম। এমন মূল্যায়নই তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া মোসাদের গোয়েন্দা তথ্য বলছিল, ইরানের ভেতরে রাস্তায় আবার বিক্ষোভ শুরু হবে। একদিকে বোমা হামলা চলবে, অন্যদিকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা দাঙ্গা ও বিদ্রোহ উসকে দিতে সাহায্য করবে, তাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে যে ইরানের বিরোধী পক্ষই সরকারকে উৎখাত করে ফেলতে পারবে।

ইসরায়েলিরা এই সম্ভাবনার কথাও তোলে যে ইরানি কুর্দি যোদ্ধারা ইরাক থেকে সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে স্থলযুদ্ধের একটি নতুন ফ্রন্ট খুলতে পারে। এতে সরকারি বাহিনীকে আরও ছড়িয়ে পড়তে হবে এবং এতে সরকারের পতন ত্বরান্বিত হবে।

নেতানিয়াহু আত্মবিশ্বাসী হয়ে, তবে একঘেয়ে ভঙ্গিতে তাঁর উপস্থাপনা দেন। তখন মনে হচ্ছিল, কক্ষটিতে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অর্থাৎ আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে এটি ভালোই লেগেছে।

‘আমার কাছে তো ভালোই শোনাচ্ছে,’ ট্রাম্প এমনটাই বলেছিলেন নেতানিয়াহুকে। এটা নেতানিয়াহুকে এই ইঙ্গিতই দিচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের জন্য সবুজসংকেত পেয়েছে।

কেবল নেতানিয়াহুই নয়, বৈঠকে থাকা সবাই বুঝে নিয়েছিলেন যে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই ফেলেছেন। প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টারাও বুঝতে পেরেছিলেন, নেতানিয়াহুর সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করতে পারে, এই প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। যেমনটি হয়েছিল জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের আগে দুই নেতার কথা হওয়ার সময়ও।

১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউস সফরের আরও আগে কেবিনেট রুমে জড়ো হওয়া আমেরিকানদের মনোযোগ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির (চলমান যুদ্ধের শুরুতেই নিহত) কারণে তৈরি হওয়া অস্তিত্বগত হুমকির দিকে টানার চেষ্টা করেছিলেন নেতানিয়াহু।

কক্ষে অন্যরা যখন ইরান অভিযানের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করেন, নেতানিয়াহু সেগুলো স্বীকার করেন। কিন্তু তিনি একটি কথা বলেন, তা হলো—কিছু না করার ঝুঁকি, পদক্ষেপ নেওয়ার ঝুঁকির চেয়ে বেশি। তিনি যুক্তি দেন, তারা যদি হামলা পিছিয়ে দেয় এবং ইরানকে আরও সময় দেয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে এবং পারমাণবিক কর্মসূচির চারপাশে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলতে, তখন পদক্ষেপ নিতে গেলে আরও বড় মূল্য চুকাতে হবে।

কক্ষে থাকা সবাই এটা বুঝতেন, ইরান অনেক কম খরচে এবং অনেক দ্রুত নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত বাড়াতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অনেক বেশি ব্যয়বহুল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও সরবরাহ করা, যাতে অঞ্চলে আমেরিকার স্বার্থ ও মিত্রদের রক্ষা করা যায়, তা তুলনামূলকভাবে অনেক কঠিন।

নেতানিয়াহুর উপস্থাপনাগুলো এবং তা নিয়ে ট্রাম্পের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মার্কিন গোয়েন্দা মহলের জন্য জরুরি একটি কাজ তৈরি করে। তারা চুলচেরা বিশ্লেষণে বসেন, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা যা বলেছেন, তা কতটা বাস্তবসম্মত।

প্রহসনমূলক

মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণের ফলাফল জানানো হয় পরের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি, সেই সিচুয়েশন রুমে আরেকটি বৈঠকে। এই বৈঠকে শুধু আমেরিকান কর্মকর্তারা ছিলেন। ট্রাম্প আসার আগে জ্যেষ্ঠ দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠজনদের সারকথা তুলেও ধরেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে গভীর আস্থা ছিল। তাঁরা ইরানের ব্যবস্থাকে এবং এর ভেতরের খেলোয়াড়দেরও খুঁটিনাটি জানতেন। তাঁরা নেতানিয়াহুর উপস্থাপনাকে চার ভাগে ভাগ করেছিলেন। প্রথমটি ছিল নেতৃত্ব ছেঁটে ফেলা, অর্থাৎ আয়াতুল্লাহকে হত্যা করা। দ্বিতীয়টি ছিল ইরানের শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা পঙ্গু করে দেওয়া এবং প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি হয়ে ওঠার ক্ষমতা ভেঙে দেওয়া। তৃতীয়টি ছিল ইরানের ভেতরে গণ–অভ্যুত্থান। আর চতুর্থটি ছিল শাসন পরিবর্তন, যেখানে একজন ধর্মনিরপেক্ষ নেতাকে বসিয়ে দেশ চালানো হবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করেন, প্রথম দুটি লক্ষ্য আমেরিকার গোয়েন্দা ও সামরিক শক্তি দিয়ে অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু নেতানিয়াহুর প্রস্তাবের তৃতীয় ও চতুর্থ অংশ, যার মধ্যে কুর্দিদের ইরানে স্থল আক্রমণ চালানোর সম্ভাবনাও ছিল, বাস্তবতা বিবর্জিত।

ট্রাম্প বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর তাঁর সামনে গোয়েন্দা মূল্যায়ন তুলে ধরেন র‍্যাটক্লিফ। সিআইএর পরিচালক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর শাসন পরিবর্তনের সম্ভাব্য চিত্রগুলোর বর্ণনা দিতে একটিমাত্র শব্দ ব্যবহার করেন—‘প্রহসনমূলক।’ এই সময় মার্কো রুবিও বলে ওঠেন, ‘ফালতু’

র‍্যাটক্লিফ যোগ করেন, যেকোনো সংঘাতে ঘটনাপ্রবাহ অনিশ্চিত হয়। তাই শাসন পরিবর্তন ঘটতেই পারে। কিন্তু এটিকে অর্জিত হবে, এমনটা ধরে নেওয়া উচিত হবে না।

আরও কয়েকজনও এ নিয়ে কথা বলেন। তাঁদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সও ছিলেন, যিনি ততক্ষণে আজারবাইজান থেকে ফিরে আসেন। তিনিও শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেন। ট্রাম্প এরপর জেনারেল কেইনের দিকে ঘুরে বলেন, ‘জেনারেল, আপনি কী মনে করেন?’

কেইন জবাব দেন, ‘স্যার, আমার অভিজ্ঞতায়, ইসরায়েলিরা সাধারণত এমনটাই করে। তারা বেশি বাড়িয়ে বলে। আর তাদের পরিকল্পনা সব সময় খুব ভালোভাবে তৈরি করা থাকে না। তারা জানে, তাদের আমাদের দরকার। আর এ কারণেই তারা এত জোর দিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করছে।’

ট্রাম্প দ্রুত এই মূল্যায়ন ভেবে দেখেন। তিনি বলেন, শাসন পরিবর্তন ‘তাদের সমস্যা’। তবে তিনি ইসরায়েলিদের কথা বলছিলেন, নাকি ইরানের জনগণের কথা, তা স্পষ্ট হচ্ছিল না। তার মূল কথা ছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত তিনি নেতানিয়াহুর উপস্থাপনার ৩ ও ৪ নম্বর অংশের ভিত্তিতে নেবেন না।

মনে হচ্ছিল, ট্রাম্প এখনো উপস্থাপনার ১ ও ২ নম্বর অংশ অর্জনে খুবই আগ্রহী। অর্থাৎ আয়াতুল্লাহসহ ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা এবং ইরানের সামরিক বাহিনী ভেঙে ফেলা।

জেনারেল কেইন, যাঁকে ট্রাম্প ‘রেইজিন কেইন’ বলতে পছন্দ করতেন, কয়েক বছর আগেই প্রেসিডেন্টকে মুগ্ধ করেছিলেন। তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, অন্যরা যত সময়ের কথা বলছে, তার চেয়ে অনেক দ্রুত ইসলামিক স্টেটকে পরাজিত করা সম্ভব। এই আত্মবিশ্বাসের পুরস্কার হিসেবে ট্রাম্প ওই জেনারেলকে নিজের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা করেন। জেনারেল কেইন রাজনৈতিক আনুগত্যের লোক ছিলেন না। আর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে তাঁর গুরুতর উদ্বেগ ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্টের সামনে নিজের মতামত তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন খুব সতর্ক।

পরের কয়েক দিনে এই উপদেষ্টা দল যখন আলোচনা চালিয়ে যায়, ট্রাম্প ও অন্যদের সামনে উদ্বেগজনক সামরিক মূল্যায়ন তুলে ধরেন জেনারেল কেইন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালালে আমেরিকার অস্ত্রভান্ডার ভয়াবহভাবে কমে যাবে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী সমরাস্ত্রও রয়েছে, যার জোগান ইউক্রেন ও ইসরায়েলকে বছরের পর বছর সহায়তা দেওয়ার কারণে আগেই চাপে ছিল। জেনারেল কেইন দ্রুত এই মজুত আবার পূরণ করার কোনো পরিষ্কার পথ দেখছিলেন না।

জেনারেল কেইন হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখার বিশাল কঠিন কাজটির কথাও তোলেন এবং ইরানের দিক থেকে এটি বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকির কথাও বলেন। তবে ট্রাম্প এই সম্ভাবনাকে তেমন গুরুত্ব দেননি। তাঁর ধারণা ছিল, পরিস্থিতি এত দূর যাওয়ার আগেই ইরানের সরকার নতি স্বীকার করবে। প্রেসিডেন্টের মনে হচ্ছিল, যুদ্ধটি খুব দ্রুত শেষ হবে। জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমা হামলার পর তুলনামূলক দুর্বল প্রতিক্রিয়া তাঁর এই ধারণাকে জোরদার করেছিল।

যুদ্ধের আগে জেনারেল কেইনের ভূমিকা সামরিক পরামর্শ আর প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যে চিরাচরিত টানাপোড়েনকে সামনে আনে। কেইন এতটাই অনড় ছিলেন যে তিনি কোনো পক্ষ নেননি। তিনি বারবার বলছিলেন, প্রেসিডেন্টকে কী করতে হবে, তা বলা তাঁর কাজ নয়। বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের সম্ভাব্য পরিণতিসহ বিভিন্ন বিকল্প তুলে ধরা তাঁর কাজ। ফলে যাঁরা শুনছিলেন, তাঁদের কারও কারও কাছে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন একই সঙ্গে একটি বিষয়ের সব দিকেই যুক্তি দিচ্ছেন।

কেইন সব সময় জিজ্ঞাসা করতেন, ‘তারপর কী?’ কিন্তু ট্রাম্প অনেক সময়ই যেন কেবল সেটাই শুনতেন, যা তিনি শুনতে চাইতেন।

জেনারেল কেইন প্রায় সব দিক থেকেই আগের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক এ মিলির থেকে আলাদা ছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনে তাঁর সঙ্গে জোরালো তর্কে জড়িয়েছিলেন মিলি। তিনি নিজের ভূমিকা দেখতেন প্রেসিডেন্টকে বিপজ্জনক বা বেপরোয়া পদক্ষেপ নেওয়া থেকে থামানোর দায়িত্ব হিসেবে।

তাঁদের সম্পর্ক সম্পর্কে জানেন, এমন একজন বলেন, ট্রাম্পের একটি অভ্যাস ছিল: জেনারেল কেইনের কৌশলগত স্তরের পরামর্শকে তিনি প্রায়ই বৃহত্তর কৌশল নির্ধারণের পরামর্শের সঙ্

WORLD NEWS বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম পাকিস্তান বৈঠকে কারা থাকছেন, চীন কি চুক্তির ‘গ্যারান্টার’ হবে? শিরোনাম নেতানিয়াহুর গোপনীয় দলিল : ট্রাম্পকে যেভাবে জড়ালো ইরান যুদ্ধে শিরোনাম সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল শিরোনাম যুদ্ধবিরতি করে ইরান যুদ্ধ এড়ালেন ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূতি কি ফিরবে? শিরোনাম নিজেরা আংশিক, ৭১’র ভূমিকায় আল্লাহ পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী বললেন ডা. শফিক শিরোনাম নাখোশ সাঈদের মা-বাবা, বড়কর্তাদের বাঁচিয়ে ছোটদের সাজার অভিযোগ