Wednesday, 04 February 2026
The News Diplomats
আল–জাজিরা :
Publish : 12:19 AM, 04 February 2026.
Digital Solutions Ltd

লিবিয়ায় সাবেক নেতা গাদ্দাফি পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত

লিবিয়ায় সাবেক নেতা গাদ্দাফি পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি, ২৩ আগস্ট ২০১১ তারিখে ত্রিপোলিতে ‘ভি’চিহ্ন দেখাচ্ছেন (রয়টার্স)

Publish : 12:19 AM, 04 February 2026.
আল–জাজিরা :

গাদ্দাফির রাজনৈতিক দলের দাবি, জিনতানে নিজ বাড়িতে চারজন মুখোশধারী ব্যক্তিরা তাকে হত্যা করেছে—এটিকে তারা ‘কাপুরুষোচিত ও বিশ্বাসঘাতক হত্যাকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

সাবেক লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে পরিচিত পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি লিবিয়ায় নিহত হয়েছেন—এমনটাই জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যম।

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান মঙ্গলবার ফেসবুকে পৃথক পোস্টে ৫৩ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুর কথা জানান, তবে বিস্তারিত দেননি।

লিবিয়ার সংবাদমাধ্যম ফাওয়াসেল মিডিয়া ওসমানের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার (৮৫ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে জিনতান শহরে নিজের বাড়িতেই সশস্ত্র ব্যক্তিরা গাদ্দাফিকে হত্যা করে। পরে গাদ্দাফির রাজনৈতিক দল এক বিবৃতিতে জানায়, “চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি” তার বাড়িতে ঢুকে তাকে “কাপুরুষোচিত ও বিশ্বাসঘাতক হত্যাকাণ্ডে” হত্যা করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি হামলাকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন এবং তারা “নিজেদের জঘন্য অপরাধের চিহ্ন গোপন করতে মরিয়া প্রচেষ্টায়” বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে দেয়।

ত্রিপোলিভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্রীয় সংস্থা হাই স্টেট কাউন্সিলের সাবেক প্রধান খালেদ আল-মিশরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হত্যাকাণ্ডটির “জরুরি ও স্বচ্ছ তদন্ত” দাবি করেন।

গাদ্দাফির কখনোই লিবিয়ায় কোনো সরকারি পদ ছিল না; তবে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত—যখন লিবীয় বিরোধী বাহিনীর হাতে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হয়ে তার কয়েক দশকের শাসনের অবসান ঘটে—তাকে কার্যত তার বাবার ‘নম্বর টু’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

২০১১ সালে বিরোধীরা ত্রিপোলির দখল নেওয়ার পর উত্তর আফ্রিকার দেশটি ছাড়ার চেষ্টা করলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি জিনতানে ধরা পড়েন এবং কারাবন্দি হন। ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় তিনি মুক্তি পান এবং এরপর থেকে জিনতানেই বসবাস করছিলেন।

উত্তরাধিকারী হিসেবে আবির্ভাব

১৯৭২ সালের জুনে ত্রিপোলিতে জন্ম নেওয়া সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি ছিলেন লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসকের দ্বিতীয় সন্তান।

পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত ও সাবলীল বক্তা হিসেবে তিনি তার বাবার দমনমূলক সরকারের একটি প্রগতিশীল মুখ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবির ওপর প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বোমা হামলায় নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে দরকষাকষি করেন।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে শিক্ষিত ও ইংরেজিতে সাবলীল এই ব্যক্তি নিজেকে সংস্কারপন্থী হিসেবেও তুলে ধরতেন—সংবিধান প্রণয়ন ও মানবাধিকার সম্মানের আহ্বান জানাতেন। তার গবেষণাপত্রে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারে নাগরিক সমাজের ভূমিকা আলোচিত হয়।

তবে ২০১১ সালে গাদ্দাফির দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও গোত্রগত আনুগত্যকেই বেছে নেন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নৃশংস দমন-পীড়নের অন্যতম পরিকল্পনাকারীতে পরিণত হন; তিনি তাদের ‘ইঁদুর’ বলে আখ্যা দেন।

২০১১ সালে লিবিয়ায় গণঅভ্যুত্থানের সময় রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা লিবিয়াতেই লড়াই করি, লিবিয়াতেই মরব।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, রক্তের নদী বইবে এবং সরকার শেষ মানুষ, শেষ নারী ও শেষ গুলি পর্যন্ত লড়াই করবে।

“পুরো লিবিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশ কীভাবে চালানো হবে—সে বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে আমাদের ৪০ বছর লাগবে; কারণ আজ সবাই প্রেসিডেন্ট বা আমির হতে চাইবে, সবাই দেশ চালাতে চাইবে,” তিনি বলেন।

তার বিরুদ্ধে বাবার শাসনের বিরোধীদের ওপর নির্যাতন ও চরম সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পড়েন এবং ভ্রমণ নিষিদ্ধ হন। ২০১১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)ও তাকে খুঁজছিল।

বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলি দখল নেওয়ার পর তিনি বেদুইন গোত্রের পোশাক পরে প্রতিবেশী নাইজারে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মরুভূমির একটি সড়কে আবু বকর সাদিক ব্রিগেড মিলিশিয়ার হাতে ধরা পড়েন এবং তাকে উড়িয়ে জিনতানে নেওয়া হয়।

আইসিসির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর লিবীয় কর্তৃপক্ষ গাদ্দাফির বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচার করার ক্ষমতা পায়। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

২০১৭ সালে মুক্তির পর হত্যার আশঙ্কায় তিনি বছরের পর বছর জিনতানে আত্মগোপনে ছিলেন।

২০২১ সালের নভেম্বর মাসে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন—যা ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত এবং পশ্চিম ও পূর্ব লিবিয়ার গাদ্দাফিবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

ওই বছর নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো বাস্তব ঐকমত্যে পৌঁছানো না গেলে গাদ্দাফির প্রার্থিতা প্রধান বিরোধের এক কেন্দ্রে পরিণত হয়। ২০১৫ সালের দণ্ডের কারণে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়; তবে তিনি যখন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে যান, তখন সশস্ত্র যোদ্ধারা আদালত ঘিরে ফেলে।

এরপরের বিতর্কগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভেঙে পড়ায় ভূমিকা রাখে এবং লিবিয়া আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ফিরে যায়।

WORLD NEWS বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম ১২ ফেব্রুয়ারী পাতানো নির্বাচন : জালিয়াতির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি? শিরোনাম দাম্পত্য জীবনের বেদনাদায়ক সময়গুলো আবার মনে পড়ছে শিরোনাম কোনো প্রত্যাশা নেই : নির্বাচন ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর কাছে তেমন কিছুই নয় শিরোনাম আ. লীগ নেতারা ভারত বসে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা আঁকছেন শিরোনাম লিবিয়ায় সাবেক নেতা গাদ্দাফি পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত শিরোনাম জামায়াত, যুক্তরাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং নির্বাচনে কৌশল