দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই নিজেরদের পূর্ণাঙ্গ ও ঐতিহাসিক বিজয় দাবি করেছে। তবে ইরান সতর্ক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। বুধবার দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বলেছে, যুদ্ধ ‘ঐতিহাসিক’ জয় পেয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তারা ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রকে।
এই ১০ দফা প্রস্তাবের মধ্যে আসলেই এমন সব প্রস্তাব আছে যা ইরানের বিজয় নিশ্চিত করে। এর মধ্যে আছে কোনো আগ্রাসন চালানো হবে না ইরানের বিরুদ্ধে এর নিশ্চয়তা দিতে হবে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতে। সব নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব বাহিনীকে প্রত্যাহার করে প্রত্যবর্তন করতে হবে। এই দাবিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মেনে নেয়া কঠিন। যদি যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি মেনে নেয়, তাহলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে, যুদ্ধে তারা হেরে গেছে। এমনিতেই নৈতিকভাবে বলা যায়, এ যুদ্ধে তারা বড় কিছু অর্জন করতে পারেনি।
পক্ষান্তরে মধ্যপ্রাচ্য সহ সারাবিশ্ব উত্তাল, এলোমেলো হয়ে পড়েছে। তবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ বিজয়’ অর্জনের দাবি করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘পূর্ণাঙ্গ এবং পরিপূর্ণ বিজয়। শতভাগ। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।’ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ওদিকে হোয়াইট হাউসে তার প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় দাবি করেছেন। ইরান তার ১০ দফা প্রস্তাবে লেবানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। কিন্তু ওই প্রস্তাবে লেবাননের উপস্থিতি মানছে না ইসরাইল। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের পরিকল্পনা পাঠায়। সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে এসব নীতিকে মেনে নেয় ওয়াশিংটন।
তারা জানায়, এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ১৫ দিন আলোচনা হবে। এর সময় বাড়তেও পারে। তারা আরও বলেছে, কোনো চুক্তি হতে হলে তা হতে হবে আন্তর্জাতিক মেকানিজমের মধ্য দিয়ে। এর অর্থ এই নয় যে, যুদ্ধ শেষ। যদি দাবি পুরোপুরি মেনে নেয়া না হয়, তাহলে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে ইরান। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি বাহিনী এবং তাদের মিত্র গ্রুপগুলো ওই অঞ্চলে শত্রুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। তার ফলে তাদেরকে যুদ্ধবিরতিতে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। তারা সমঝোতা প্রক্রিয়ার এই সময়টাতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে। যদি এ সময়ে কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেয় শত্রুপক্ষ তাহলে তার জবাব দেয়া হবে শক্তি ব্যবহার করে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছে, তিনি ইরানে বোমা হামলা স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন। একে তিনি দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বলে অভিহিত করেন। পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য দকার্যকর ভিত্তি' হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এই বিরতি চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য সময় দেবে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে, এবং তাদের অনুরোধে- যাতে মঙ্গলবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে পাঠানো ধ্বংসাত্মক শক্তি থামিয়ে রাখা হয় এবং শর্ত থাকে যে ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে খুলে দেবে- আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমাবর্ষণ ও হামলা স্থগিত করতে সম্মত হচ্ছি। এটি হবে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি! ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় সব বিরোধপূর্ণ বিষয়েই সমঝোতা হয়েছে। তিনি যোগ করেন, আমরা ইতিমধ্যে আমাদের সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছি এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি। আমরা ইরানের কাছ থেকে ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছি, যা আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি। এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত বিজয়’ অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, ১০০ শতাংশ বিজয়। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ইরান চুক্তি ভঙ্গ করলে তিনি আগের মতো বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। ওদিকে যুদ্ধবিরতি হওয়ায় নিজেদের বিজয় দাবি করে ইরানের রাজধানী তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে উল্লাসে ফেটে পড়ছেন ইরানিরা। তাদের হাতে দেশের জাতীয় পতাকা। শরীর মোড়ানো জাতীয় পতাকা।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats