টানা প্রায় ৩৯ দিনের যুদ্ধ শেষে গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য। যদিও হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে। এ নিয়ে ট্রাম্প পরবর্তীতে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি বিশাল লাইফ সাপোর্টে।
এদিকে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষই শান্তি চুক্তি করতে সম্মত হতে পারেনি এবং উভয় পক্ষই পুনরায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে তেহরান স্বীকার করে।
তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বিষয়ে অবগত দুইটি সূত্র সিএনএনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চারটি সূত্র সিএনএন’কে বলেছে যে, মার্কিন সংস্থা ইঙ্গিত দিয়েছে প্রাথমিকভাবে যা অনুমান করা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে পুনর্গঠিত হচ্ছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার ও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করছে ইরান। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও বোমা হামলার সিদ্ধান্ত নিলে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জন্য ইরান এখনো বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি। চারটি সূত্র জানায়, সামরিক অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণের মাধ্যমে তেহরান তাদের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পুনর্গঠন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যৎ সংঘাতের আশঙ্কা মাথায় রেখেই ইরান দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সেই দাবিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে, যেখানে বলা হয়েছিল দীর্ঘমেয়াদে হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দেয়া হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরান দ্রুত নিজেদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। মার্কিন এক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সিএনএন’কে জানিয়েছে, বিভিন্ন অস্ত্রের যন্ত্রাংশ উৎপাদন পুনরায় চালু করতে বিভিন্ন সময় লাগলে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কিছু মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তাদের ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে পারে।
সিএনএন’কে একটি সূত্র বলেছে, রাশিয়া ও চীনের সহায়তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় প্রত্যাশিত মাত্রায় ক্ষতি না হওয়ায় ইরান ধারণার চেয়েও দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পেরেছে।
ফলে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে তেহরান অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও অস্ত্র উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো সচল করার পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে। গত সপ্তাহে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সিবিএস নিউজকে বলেছেন, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির যন্ত্রাংশ দিচ্ছে, তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি।
তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মার্কিন গোয়েন্দার সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরান এখনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ধরে রেখেছে। ফলে সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ ইরানকে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে না। বরং বিদ্যমান অবকাঠামো ও সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই তারা দ্রুত পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats