সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান, ডিআইজি শফিকুল ইসলাম।
পল্টন থানার যে মামলায় মাসুদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেখানে ১০১ জন আসামির মধ্যে তিনি ৩ নম্বর আসামি
সাবেক সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রাজধানীর পল্টন থানার মানব পাচার আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করার কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান, ডিআইজি শফিকুল ইসলাম।
সোমবার গভীর রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম বলেন, সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে।
“এর মধ্যে ফেনী জেলায় তিনটি মামলা বিচারাধীন। বিচারাধীন থাকা অবস্থায় উনি পলাতক থাকায় উনার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে।”
ফেনীতে আরো তিনটি এবং ঢাকায় পাঁচটিসহ মোট আটটি মামলা তদন্তাধীন থাকার তথ্য দেন তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার মাসুদের বিরুদ্ধে দুদক ও সিআইডিতে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন।
ঢাকায় থাকা মামলাগুলো রয়েছে পল্টন, বনানী, কোতোয়ালি, মিরপুর ও হাতিঝিল থানায়। হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানব প্রচার প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলাগুলো হয়েছে। পল্টন থানার যে মামলায় মাসুদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেখানে ১০১ জন আসামির মধ্যে তিনি ৩ নম্বর আসামি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, “এগুলো অনেক আগেকার মামলা। এমন না যে, কোনটারই পুলিশ বাদী না, এগুলোর ম্যাক্সিমামের বাদীই পাবলিক।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিবি কর্মকর্তকা বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশ একটা পেশেদার অর্গানাইজেশন। আমরা কোনো ব্যক্তি বা কারো পজিশন দেখি না, আমাদের কাছে তার অপরাধের, তার কৃতকর্মটাই গুরুত্বপূর্ণ।”
২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল মাসুদ এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর পদোন্নতি পেয়ে লেফটেনেন্ট জেনারেল হন। সে সময় আলোচিত ‘গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন তিনি।
ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন। তবে জরুরি অবস্থার ওই সময়ে পর্দার আড়ালে থেকে জেনারেল মাসুদই যৌথবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হত।
সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন ওই বাহিনী শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করত এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দেওয়া হত।
বলা হয়, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সেনা কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পরে চার তারকা জেনারেল হন) মইন উ আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি কার্যত সেই প্রভাবশালী কমিটি (গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি) পরিচালনা করতেন, যাদের নির্দেশে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষ কয়েকজন ব্যবসায়ীকেও সে সময় আটক করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও সে সময় গ্রেপ্তার করে দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়েছিল। বন্দি অবস্থায় তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
২০০৮ সালের জুনে লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে বাংলাদেশের হাই কমিশনার করে পাঠানো হয় অস্ট্রেলিয়ায়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে সেই দায়িত্বে রাখে। অবসরের সময় হয়ে গেলে তার চাকরির মেয়াদ ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর ঢাকায় একটি পাঁচ তারকা মানের হোটেল খুলে ব্যবসা শুরু করেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। পাশাপাশি শুরু করেন জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা। ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির এমডি তিনি।
২০১৮ সালে তিনি এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির মনোনয়নে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের মার্চে দুদকের এক মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও আসামি করা হয়।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ‘সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়’ করে ১ হাজার ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ‘আত্মসাৎ ও পাচারের’ অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।
এছাড়া ১০০ কোটি টাকা ‘পাচারের’ অভিযোগে ২০২৫ সালের অগাস্টে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, তার স্ত্রী ও মেয়ের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats