সাবেক সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আলোচিত সেনা কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে কারাগার থেকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, তাকে আকস্মিক কোনো অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়নি, বরং এটি ছিল ‘পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই’।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে কেরাণীগঞ্জের বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাড়ে ৫টার দিকে তাকে মেডিসিন বিভাগের ৭০১ নম্বর ওয়ার্ডের ১০৬ নম্বর কেবিনে ভর্তি দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কারা অধিদপ্তরের জেলার মাসুদ হাসান বলেছেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ‘একেআই ও হাইপারক্যালেমিয়ায়’ আক্রান্ত। তিনি আগে থেকেই এই রোগের জন্য চিকিৎসাধীন ছিলেন বলেও জানান তিনি। ‘অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি (একেআই)’ হল-হঠাৎ কিডনি বিকল হওয়া আর রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়াকে ‘হাইপারক্যালেমিয়া’ বলা হয়।
অর্থাৎ কিডনি জটিলতার কারণে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
জেলার মাসুদ বলেন, “তার এই অসুস্থতার জন্য এখানকার চিকিৎসকরা দেখেছেন, প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। আগে থেকেই বুধবার তাকে বাইরের হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ছিল। সে মোতাবেক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
জেনারেল মাসুদের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখন এটার চিকিৎসা চলবে, তিনি আগে থেকেই এই রোগে আক্রান্ত, এটার চিকিৎসা চলছিল।”
গত ২৩ মার্চ বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত তিন তারকা জেনারেল মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বেশ কয়েকটি মামলায় তাকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ৭ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর ফেনীতে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল৷
গত ১১ মে বনানী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ১৮ মে তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল মাসুদ এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর পদোন্নতি পেয়ে লেফটেনেন্ট জেনারেল হন। সে সময় আলোচিত ‘গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক ছিলেন তিনি।
ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন। তবে জরুরি অবস্থার ওই সময়ে পর্দার আড়ালে থেকে জেনারেল মাসুদই যৌথবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হত।
সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন ওই বাহিনী শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করত এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দেওয়া হত।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats