রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি : স্পিকার
দায়িত্ব গ্রহণের সোয়া তিন বছরের মাথায় পদত্যাগ করলেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন। বঙ্গভবন থেকে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরকৃত পদত্যাগপত্র নিয়ে তিনি শুক্রবার বিকাল ৫টা ০১ মিনিটে জাতীয় সংসদে যোন। এদিকে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পর অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। এছাড়া প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ইস্যুতে শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে জরুরি ব্রিফিং করেন তিনি।
এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই তার পদত্যাগের বিষয়টি আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একটি ইংরেজি দৈনিককে নিশ্চিত করেছেন। পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত।’ তবে এ বিষয়ে এ মুহূর্তে তার আর তেমন কিছু বলার নেই বলে জানান তিনি। বঙ্গভবনের আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির জন্য সংসদে প্রটোকল গেছে।

মাফিয়া আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের সরকারের
প্রতি রাষ্ট্রপতির সমর্থন ছিল: স্পিকার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর জানাতে সংবাদ সম্মেলনে এসে তাঁকে নিয়ে নিজের একটি মূল্যায়ন তুলে ধরলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়া হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সব সময়। আমি তাঁর মঙ্গল কামনা করি।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরার পর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিকেলে তাঁর কাছে পদত্যাগপত্রটি এসেছে। সংবিধান অনুযায়ী এখন তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের মনোনীত প্রার্থী হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন অবসানের পর রাষ্ট্রপতি অপসারণের দাবি উঠলেও তিনি টিকেছিলেন। এরপর নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর তিনি পদত্যাগ করলেন; যদিও তাঁর মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর বাকি ছিল।
পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়েছেন জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকারের কাছে দাখিল করেন। রাষ্ট্রপতি লিখিতভাবে তাঁর পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি অসুস্থতার যে কারণগুলো দেখিয়েছেন, তা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতি হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি–সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তাঁর হৃদ্যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন।
স্পিকার বলেন, বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নথিতে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্পিকার।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’
এ প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই তিনি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নিয়েছিলেন। একইভাবে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন বলেও সাংবিধানিক বিধান রয়েছে।
খুব সংক্ষেপেই এই সংবাদ সম্মেলন সারেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্ন থাকলেও তিনি মাত্র দুটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কর্মসূচির ইতি টানেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে নানা ধরনের গুজবের বিষয়ের এক প্রশ্নে স্পিকার বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের নানা ধরনের কথাবার্তা আমি দুপুরে এসেই শুনছি। দেখা গেল যে, এটি প্রকৃত তিনি শারীরিক অসমর্থের কারণে পরিত্যাগ করেছেন। আমি তাঁর মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকেই স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি গুরুতর ঘটনা। এর সঙ্গে দেশের ভালো–মন্দও জড়িত। রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ, তিনি অসুস্থ হতেই পারেন এবং তিনি রোগেরও নাম প্রকাশ করেছেন। লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি কী কী রোগে ভুগছেন এবং মাঝেমধ্যে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ জন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নেই। যিনি যেখানে নিজেই এটি দাবি করেছেন।’
রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগ নিয়ে কোনো ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই পদত্যাগের ফলে সব ধোঁয়াশা পরিষ্কার হলো। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা কোনো ধরনের বিরূপ মনোভাব কিংবা কনফিউশন যাতে এসব ব্যাপারে না ঘটে ...আগেও রাষ্ট্রপতিরা পদত্যাগ করেছেন বিভিন্ন কারণে। রাষ্ট্রপতি দেশের একজন সম্মানিত মাননীয় রাষ্ট্রপতি, তিনি পদত্যাগ করতেই পারেন এবং এই চেয়ার কখনো শূন্য থাকে না এবং আমি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। এটি হলো বাস্তবতা। আশা করি, সব ধরনের কনফিউশন এখন থেকে দূর হয়ে যাবে।’
পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি বেশ আগেই জানিয়েছিলেন অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের ঘটনাও ঘটেছিল। তবে এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তারপর নতুন সরকার গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব পালন করে এসেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

আজ শুক্রবার বিকেলে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রটি হুবহু তুলে ধরা হলো,
সম্মানিত স্পীকার
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
বিষয়: রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ।
শ্রদ্ধাজনেষু,
জনাব, আসসালামু আলাইকুম।
আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।
নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।
আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝেমধ্যে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।
এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।
ধন্যবাদান্তে
মো. সাহাবুদ্দিন
রাষ্ট্রপতি
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সরানোর পথে যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল। তবে সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা শুরু হয়। কয়েক দিন ধরে আলোচনার মধ্যে গতকাল সচিবালয়ে এক বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। রাষ্ট্রপতি লন্ডনে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে প্রকাশিত খবর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কিছু জানা নেই।
পরে গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দেশে ফিরছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার তাঁর ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে আজ তিনি দেশে ফেরেন। দুপুর ১২টার দিকে ঢাকায় পৌঁছান স্পিকার। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কথা জানালেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats