প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের বৈঠক রাজনৈতিক ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। বৈঠকে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
আজ সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে সেখানে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিএনপির মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ভাসানী জনশক্তি পার্টির নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এবং দলটির নেতা ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকসহ কয়েকটি দলের নেতারা অংশ নেন।
বৈঠকের বিষয়ে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান’ ঘটে এবং দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ১৫–১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে যেসব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে আন্দোলন করেছে, তাদের নেতাদের প্রধানমন্ত্রী আজ আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানান। দীর্ঘ সময়ের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা, কারাবরণ, মামলা, গুম ও হত্যার স্মৃতি ঘিরে বৈঠকে একটি আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল।
বিএনপির মহাসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেন। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী যেসব কার্যক্রম শুরু করেছেন, সেগুলোর বিষয়ে বিভিন্ন দলের নেতারা ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উল্লেখ করেছেন যে দায়িত্ব গ্রহণের পর অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। তবে সরকার জনগণের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। কৃষিঋণ, পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় নেতাদের ভাতা, খেলোয়াড়দের ভাতা, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, একটি ‘ধ্বংসস্তূপ’ থেকে সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে এবং ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আরও ঘন ঘন বৈঠক ও মতবিনিময়ের আশ্বাস দিয়েছেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একই সঙ্গে আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
জুলাই আন্দোলনে নিহত, আহত ও দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপির মহাসচিব। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিদ্যমান আইনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিত্র দলগুলোর নেতাদের বৈঠক নিয়ে মান্না যা বললেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। আজ সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। আজ সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনেছবি: মীর হোসেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, তিনি উপলব্ধি করেছেন, এ বৈঠকের একটি দিক ছিল প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন, যুগপৎ আন্দোলনের যারা শরীর দল ছিল, তারা যাতে দূরে চলে না যায়।

আজ সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাটিটিউডটা এ রকম ছিল...যেহেতু উনি ক্ষমতায় আছেন, যারা ক্ষমতায় নেই বা দূরে আছে, কাছের লোকগুলো তারা যাতে দূরে না চলে যায়।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকতাটা ভালো হয়েছে; কিন্তু আলোচনার প্রশ্ন যদি বলেন, কোনো এজেন্ডা ছিল না। কেউ বক্তৃতা করেছেন, কেউ কেউ সরকারের অংশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ রকম বলেছেন যে আমরা অংশীদার হতে চাই ক্ষমতার। কেউ কেউ এ রকম বলেছেন যে যাঁরা যাঁরা যেভাবে চালাচ্ছেন সেগুলো আমরা কিছুই জানি না। আমরা অংশ নিতে পারছি না।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বিগত কয়েক মাসে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভালোমন্দের বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান মাহমুদুর রহমান মান্না।
বিরোধী দলের কঠোর আন্দোলন ও ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বিএনপির শরিকদের নিয়ে সামনের কর্মসূচি বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এটা আমি সবার পক্ষ থেকে বলতে পারব না। নিজের পক্ষ থেকে বলি যে বিরোধী দল যে কর্মসূচি দিচ্ছে বা দেবে, সেটা দেখব। তাদের প্রধান অভিযোগ যে বিএনপি বা ক্ষমতাসীন যারা আছে তারা সংস্কার করছে না, তারা জুলাই সনদ মানে না এবং তারা এখন একেবারে নতুন একটা পথে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে, সচিবালয় নিয়ে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে, বিচারকদের নিয়োগের বিষয় নিয়ে...বহু ব্যাপারে প্রশ্ন করার মতো আছে। আমাদের যে ঐক্যবদ্ধ সংস্কার প্রস্তাব ছিল, বিএনপির প্রস্তাব বর্তমানে বা তার কার্যকলাপ তার সঙ্গে যায় না। কিন্তু এগুলো এখানে আলোচনা হয়নি। সে আলোচনা করার সুযোগ নেই।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি, কিন্তু আমরা এই সরকারের সাফল্য চাই। সরকার যেন তার যোগ্যতা দিয়ে সফলতা অর্জন করে। এটা নয় যে ওনারা ক্রাইসিসে পড়ে আমাদের ডাকলেন আর আমরা তাঁদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে গেলাম। এ রকম কোনো সভা এটা হয়নি।’
সামনের দিনে বিএনপির শরিকদের নিয়ে আরও ঘন ঘন বৈঠক হবে, বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, ‘সেটা বলেছেন উনি, দেখা যাক যদি করে তারা আমরা বৈঠকে আসব, নিশ্চয়ই আসব। কিন্তু ঘন ঘন বৈঠক হবে, এটা একটা মুখের কথা যেন না হয়ে থাকে।’
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats