ডিএনআই তুলসী গ্যাবার্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ মহামারি বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসি।
৩০টির বেশি দেশে ১২০টি বিপজ্জনক জৈব গবেষণাগারে অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: তুলসী গ্যাবার্ড
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ মহামারি বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসির বিরুদ্ধে করোনাভাইরাসের উৎপত্তির উৎস সংক্রান্ত ‘ল্যাব-লিক’(গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া) তত্ত্ব ধামাচাপা দেওয়া এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের বিদায়ী পরিচালক (ডিএনআই) তুলসী গ্যাবার্ড গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেশ কিছু নথিপত্র ও অভ্যন্তরীণ বার্তা প্রকাশ করে এই দাবি করেছেন।
ডিএনআই তুলসী গ্যাবার্ডের দাবি অনুযায়ী, করোনাকালীন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ক্যারিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ড. ফাউসি ভাইরাসের গবেষণাগার-ভিত্তিক উৎস এবং মার্কিন অর্থায়নে চীনে উহানে পরিচালিত বিতর্কিত ভাইরোলজি গবেষণার তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে ড. ফাউসি এর আগে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া শুনানিতে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনো আলোচনার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।
প্রকাশিত নথির বরাত দিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তর দাবি করেছে, কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার আগে ড. অ্যান্থনি ফাউসির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (এনআইএআইডি) চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে বাদুড়ের করোনাভাইরাস নিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘গেইন-অব-ফাংশন’ (ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা বাড়ানোর গবেষণা) প্রকল্পের জন্য লাখ লাখ মার্কিন ডলার তহবিল জুগিয়েছিলেন।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই অনিচ্ছাকৃত ও অনিয়ন্ত্রিত ল্যাব-লিক বা গবেষণাগার থেকেই মূলত বিশ্বজুড়ে মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল, যা লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়।
নতুন প্রকাশিত শত শত ই-মেইল ও নথির ভিত্তিতে তুলসী গ্যাবার্ড অভিযোগ করেছেন, ড. ফাউসি নিজের বিতর্কিত গবেষণাকে আড়াল করতে মহামারি চলাকালীন তিনটি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন, এর মধ্যে রয়েছে:
১. তহবিল সচল রাখা: ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক টিকা বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ করোনাভাইরাস গবেষণার পথ সুগম করা।
২. গোয়েন্দাদের প্রভাবিত করা: নিজের পছন্দের বিজ্ঞানীদের দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বোঝানো যে করোনার উৎপত্তি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বা প্রাণীবাহিত।
৩. তথ্য নিয়ন্ত্রণ: জনসমক্ষে মহামারির প্রধান মুখপাত্র বা ‘পণ্ডিত’ সেজে ল্যাব-লিক তত্ত্বের পক্ষে থাকা বিজ্ঞানীদের কণ্ঠ রোধ ও সেন্সর করা।
ডিএনআই তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, ‘আমেরিকান জনগণ বছরের পর বছর ধরে মিথ্যা, সেন্সরশিপ ও সত্য গোপনের শিকার হয়েছে। ফাউসির মতো অনির্বাচিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত আমলারা নিজেদের অপকর্ম লুকাতে গোয়েন্দা তথ্য ম্যানিপুলেট বা প্রভাবিত করেছেন, কংগ্রেসে মিথ্যা বলেছেন এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে বাধা দিয়েছেন।’
বর্তমানে প্রকাশিত নথিপত্রগুলো ২০২৪ সালে করোনার উৎস নির্ধারণে গঠিত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস সিলেক্ট সাব-কমিটি) শুনানিতে ড. ফাউসির দেওয়া জবানবন্দির সম্পূর্ণ বিরোধী বলে দাবি করছে গোয়েন্দা দপ্তর।
তৎকালীন শুনানিতে শপথ নিয়ে ফাউসি দাবি করেছিলেন, মহামারি চলাকালীন বা তার আগে-পরে ভাইরাসের গবেষণা নিয়ে সিআইএ, এফবিআই বা ডিআইএ-এর মতো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। কিন্তু বর্তমান নথিপত্রগুলো প্রমাণ করে যে ফাউসি এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে এই বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
তথ্য ফাঁসকারী বা হুইসেলব্লোয়ারদের ওপর প্রতিশোধ
ডিএনআই গ্যাবার্ডের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ তথ্য প্রকাশ ও স্বচ্ছতা’ নির্দেশনার অধীনে গত এক বছর ধরে মার্কিন গোয়েন্দা দলগুলো এই নথিগুলো নিয়ে কাজ করছিল। এই প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকজন হুইসেলব্লোয়ার বা তথ্য ফাঁসকারী কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তাঁরা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভেতর যারা প্রাকৃতিক উৎপত্তির বাইরে গিয়ে ল্যাব-লিক তত্ত্বের পক্ষে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণ তুলে ধরেছিলেন, তাঁদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি তাঁদের পদোন্নতি আটকে দেওয়া বা চাকরিচ্যুত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। গ্যাবার্ড এই প্রতিবেদনগুলো স্বাধীন তদন্তের জন্য গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিদর্শকের (আইজি) কাছে পাঠিয়েছেন।
এর আগে তুলসী গ্যাবার্ড জানিয়েছিলেন, বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে ১২০টির বেশি জৈব গবেষণাগারে (বায়োলজিক্যাল ল্যাবরেটরি) যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে অর্থায়ন করেছে। এর মধ্যে ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত ‘গেইন-অব-ফাংশন’ (ভাইরাস বা জীবাণুর কার্যক্ষমতা ও সংক্রমণ যোগ্যতা বৃদ্ধির কৃত্রিম গবেষণা) পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এই জটিল গবেষণাগুলো অত্যন্ত নামমাত্র বা সামান্য নজরদারির মধ্যে পরিচালিত হতো।
করোনার উৎস নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক মহলে চরম মেরুকরণ এবং বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বাইডেন প্রশাসনের সময়ে ল্যাব-লিক তত্ত্ব এবং প্রাকৃতিক উৎপত্তি তত্ত্ব উভয় দিকেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আংশিক সমর্থন ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের এই প্রকাশ্য অভিযোগ ও ডিক্লাসিফায়েড নথি প্রকাশ ড. ফাউসি এবং সাবেক স্বাস্থ্য প্রশাসনের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats