লিন্ডসে গ্রাহাম, রজার উইকার এবং টেড ক্রুজের মতো প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটররা ট্রাম্পকে কোনো ধরণের আপস না করার আহ্বান জানিয়েছেন
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে এগোতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক উভয়সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। একদিকে হরমুজ প্রাণালি ফের উন্মুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর জন্য তার ওপর তীব্র চাপ রয়েছে, অন্যদিকে তেহরানকে কোনো ধরণের ছাড় দিলে নিজ দলের কট্টরপন্থীদের তোপের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি খসড়া চুক্তি বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি অনুমোদিত হলে তা চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের পর শান্তির দিকে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হবে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে স্বস্তি ফিরবে। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রাণালি খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। আর এখানেই চটেছেন ট্রাম্পের কট্টরপন্থী রিপাবলিকান সহযোগীরা।
লিন্ডসে গ্রাহাম, রজার উইকার এবং টেড ক্রুজের মতো প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটররা ট্রাম্পকে কোনো ধরণের আপস না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে ২০১৫ সালের ওবামা প্রশাসনের পরমাণু চুক্তির চেয়ে বেশি কিছু অর্জন হবে না, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বাতিল করেছিলেন।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট তার চূড়ান্ত সীমা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করেই কেবল চুক্তি করা হবে।”গণমাধ্যমের কাছে ফাঁস হওয়া খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ কিংবা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এখনো অস্পষ্ট। ফলে এই চুক্তিটি ট্রাম্পের আগের ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করার ঘোষণার চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকবে।
থিংক ট্যাংক ‘ইউনাইটেড অ্যাগেইন্সট নিউক্লিয়ার ইরান’-এর পলিসি ডিরেক্টর জেসন ব্রডস্কি এক্স-এ লিখেছেন, “শর্তগুলো যদি সঠিক হয় এবং শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি সম্পন্ন হয়, তবে এই সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানই বেশি সুবিধা পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আর পরমাণু আলোচনার প্রতিশ্রুতিতে সতর্ক থাকুন।”
সামনে নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন (মিডটার্ম ইলেকশন), কিন্তু উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে আইনসভায় রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গত বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প তার অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে চিন্তিত নন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানও আত্মবিশ্বাসী যে এই পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থান সুবিধাজনক, কারণ তারা মার্কিন সামরিক হামলা সামলে নিয়েও বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ পথ আটকে রাখতে পেরেছে।
থিংক ট্যাংক ‘কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্র’-এর জন অল্টারম্যান বলেন, “প্রেসিডেন্টের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তিনি দ্রুতই এই যুদ্ধের অবসান চান। আর এটাই ইরানিদের নিজেদের দাবিতে আরও অনড় হতে সাহায্য করছে।”
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats