ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নিজেকে সফল ও জয়ী হিসেবে দাবি করে আসছেন। কিন্তু সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘুরে ফিরে এই প্রশ্নই আসছে যে, তিনি কি এই যুদ্ধে আসলেও জয়ী হয়েছেন নাকি হেরে যাচ্ছেন?
হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ নিয়ে আপস না করা এবং তাদের বহু শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার পরেও দেশের নেতৃত্বে সবার অবিচল অবস্থান ও এক্যের কারণে এই সন্দেহ ক্রমশ বাড়ছে যে, ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সাফল্যগুলোকে এমন কোনো ফলাফলে রূপান্তরিত করতে পারবেন কি না, যাকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ভূ-রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, তার বারবার করা পূর্ণ বিজয়ের দাবি অন্তঃসারশূন্য মনে হচ্ছে, কারণ দুই পক্ষই অনিশ্চিত কূটনীতি এবং হামলা পুনরায় শুরু করার হুমকির মধ্যে দোদুল্যমান, যা নিশ্চিতভাবেই এই অঞ্চলজুড়ে ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের কারণ হবে।
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিলো ইরান
ট্রাম্পের জন্য এখন এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে যে, এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় আরব মিত্ররা আরও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসবে। অন্যদিকে ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পরেও আরও বেশি সুবিধা পেতে পারে, কারণ তারা দেখিয়েছে যে, তারা বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম। তারা হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপের কারণে সারাবিশ্বেই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধে বড় সংকটে বিশ্ব
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। উপসাগরীয় দেশগুলো বিশ্বে ব্যবহৃত ইউরিয়ার ৪১ শতাংশ রপ্তানি করে। এছাড়া তারা অ্যামোনিয়া, ফসফেট শিলা ও সালফারেরও বড় অংশ সরবরাহ করে, যা কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ট্রাম্প কি ইরান যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন?
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে নাইট্রোজেন ইউরিয়ার দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এত বেশি দাম আর দেখা যায়নি। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, এই সরবরাহ ব্যাহত অবস্থা চলতে থাকলে আরও প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতির মুখে থাকা মানুষের সংখ্যা রেকর্ড ৩৬ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাজ্য সতর্ক করেছে যে, ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধ বৈশ্বিক খাদ্য সংকট তৈরি করতে পারে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুপার বলেছেন, বিশ্ব ধীরে ধীরে একটি বড় সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ অনেকেই তা বুঝতে পারছে না। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সারবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে।
কৌশলগত ব্যর্থতা
সংকট এখনো শেষ হয়নি এবং কিছু বিশেষজ্ঞ এই সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন যে, আলোচনা যদি ট্রাম্পের অনুকূলে যায়, তবে তিনি হয়তো এখনো সম্মানজনক কোনো পথ খুঁজে নিতে পারেন।
কিন্তু অন্যরা ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ-পরবর্তী এক ভয়াবহ পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিচ্ছেন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, তিন মাস কেটে গেছে এবং মনে হচ্ছে যে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদী বিজয় হিসেবে পরিকল্পিত হয়েছিল কিন্তু তা একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হচ্ছে।
ট্রাম্পের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ তিনি পরাজয় মেনে নিতে অভ্যস্ত নন এবং তিনি সব সময় তার বিরোধিদেরই পরাজিত বলে উল্লেখ করতে পছন্দ করেন। ইরান সংকটে তিনি নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে এমন এক দ্বিতীয় সারির শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে দেখছেন, যারা নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উভয়সংকট ট্রাম্পকে এমন যেকোনো আপসের বিরোধিতা করতে আরও বেশি উৎসাহিত করতে পারে, যা তার চরমপন্থি অবস্থান থেকে পিছু হটা বা ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তির মতো মনে হতে পারে। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ওই চুক্তি বাতিল করেছিলেন। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে তাদের সব সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছে বা ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব ক্ষমতা এবং তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে সব বিকল্প খোলা রেখেছেন।
চাপ ও হতাশা
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রচারণায় অপ্রয়োজনীয় সামরিক হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক জটিলতায় জড়িয়ে ফেলেছেন যা তার পররাষ্ট্রনীতির রেকর্ড এবং বিদেশে তার বিশ্বাসযোগ্যতার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অজনপ্রিয় যুদ্ধে নামার পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের উচ্চ মূল্য এবং নিম্ন জনসমর্থন নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়ার মধ্যেই এই চলমান অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তার রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
ফলস্বরূপ যুদ্ধবিরতির ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় পর কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ট্রাম্প একটি কঠিন পছন্দের মুখোমুখি: একটি সম্ভাব্য ত্রুটিপূর্ণ চুক্তিকে পরিত্রাণের পথ হিসেবে গ্রহণ করা অথবা সামরিকভাবে পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে দিয়ে আরও দীর্ঘ সংকটের ঝুঁকি নেওয়া। কূটনীতি ব্যর্থ হলে তার হাতে থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে, কয়েকটি তীব্র কিন্তু সীমিত হামলা চালানো, সেটিকে চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে তুলে ধরা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আরেকটি সম্ভাবনা হলো ট্রাম্প আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে এবং তুলনামূলকভাবে সহজ একটি জয় ছিনিয়ে নেওয়ার আশায় যেমনটা তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কিউবার দিকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করতে পারেন।
যদি তাই হয়, তাহলে হাভানার সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো তিনি ভুলভাবে বিচার করতে পারেন; ঠিক যেমন ট্রাম্পের কিছু সহযোগী ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেন যে, তিনি ভুল করে ভেবেছিলেন ইরান অভিযানটি ৩ জানুয়ারির সেই অভিযানের মতো হবে, যে অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল। তারপরেও ট্রাম্পের সমর্থকের অভাব নেই।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সিনিয়র উপদেষ্টা এবং বর্তমানে আমেরিকান গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেকজান্ডার গ্রে এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, প্রেসিডেন্টের ইরান অভিযান কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর এই মারাত্মক আঘাতটি নিজেই একটি ‘কৌশলগত সাফল্য’, এই যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোকে চীনের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কাছে নিয়ে এসেছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভাগ্য এখনো নির্ধারিত হয়নি।
তবে ঘটনার বিবরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার কারণে ট্রাম্পের হতাশার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি তার সমালোচকদের তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন এবং সংবাদমাধ্যমকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার সময় ট্রাম্প যে সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন, এই সংঘাত তার দ্বিগুণ সময় ধরে চলেছে। তারপর থেকে যদিও তার রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠী এই যুদ্ধে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে তার একসময়ের প্রায় সর্বসম্মত সমর্থনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
শুরুতে একের পর এক বিমান হামলা দ্রুত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত হ্রাস করে, দেশটির নৌবাহিনীর বেশিরভাগ অংশ ডুবিয়ে দেয় এবং অনেক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু তেহরান এর জবাবে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে। ফলে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায় এবং ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালায়।
এরপর ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের নির্দেশ দেন, কিন্তু সেটাও তেহরানকে তার ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করাতে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসপূর্ণ দাবির জবাবে ইরানের নেতারাও তাদের নিজস্ব প্রচারণায় তার অভিযানকে একটি ‘চরম পরাজয়’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন।
পরিবর্তনশীল লক্ষ্য এখনো অপূর্ণ
ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করে দেওয়া, এই অঞ্চল ও মার্কিন স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা শেষ করা এবং ইরানিদের জন্য তাদের শাসকদের উৎখাত করা সহজ করে দেওয়া।
এই পরিবর্তনশীল লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়েছে এমন কোনো লক্ষণ নেই এবং অনেক বিশ্লেষক বলছেন, সেগুলো অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনাও কম।
মধ্যপ্রাচ্যের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন প্যানিকফ বলেছেন, যদিও ইরান মারাত্মক আঘাত পেয়েছে, দেশটির শাসকরা মার্কিন হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এবং উপসাগরীয় নৌপরিবহনের ওপর তারা কতটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে তা জানতে পারাকেই একটি সাফল্য বলে মনে করে।
বর্তমানে আটলান্টিক কাউন্সিল থিঙ্ক ট্যাঙ্কে কর্মরত প্যানিকফ বলেন, তারা যা আবিষ্কার করেছে তা হলো, তারা সেই প্রভাব খাটাতে পারে এবং এর জন্য তাদের তেমন কোনো পরিণতির সম্মুখীন হতে হয় না। তিনি আরও যোগ করেনছেন যে, ইরান আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হচ্ছে। কারণ তারা ট্রাম্পের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক যন্ত্রণা সহ্য করতে এবং তার পরেও টিকে থাকতে পারবে। ট্রাম্পের ঘোষিত প্রধান যুদ্ধ লক্ষ্য—ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে এবং তেহরান এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আগ্রহ দেখায়নি।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিরোধ প্রকাশ্যে
ইরান যুদ্ধ কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সম্প্রতি উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। এর আগে ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারেন।
তবে সেই কথোপকথনের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করা হচ্ছে। এরপর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো হোয়াইট হাউজ ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে কূটনৈতিক আলোচনার একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তি।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ইরান ইস্যুর একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি। কী হয়, দেখা যাক। সে সময় তিনি আরও বলেন, হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো, নয়তো কিছুটা কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে আশা করি, সেটা করতে হবে না।
চলমান আলোচনা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে হতাশ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি সূত্রগুলোর মতে, নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে ছিলেন। তার মতে, দেরি হলে লাভবান হবে কেবল ইরানই।
ট্রাম্পকে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, পরিকল্পিত হামলা পিছিয়ে দেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রেসিডেন্টের উচিত আগের পরিকল্পনামতো এগিয়ে যাওয়া। প্রায় এক ঘণ্টার ওই ফোনালাপে নেতানিয়াহু সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর পক্ষে জোর দেন বলে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি ইসরায়েলি সূত্র। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট ছিল। ট্রাম্প দেখতে চান চুক্তি সম্ভব কি না, কিন্তু নেতানিয়াহু ভিন্ন কিছু প্রত্যাশা করেছেন।
ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা কমাতে সিনেটে উদ্যোগ
সম্প্রতি মার্কিন সিনেট এমন একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলেশন’ এগিয়ে নিয়েছে, যা পাস হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবেন না।
প্রস্তাবটি এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াগত ভোটে ৫০-৪৭ ব্যবধানে অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বিরল রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সংঘাত না থামায় রিপাবলিকানদের একটি অংশ ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।
ভোটের আগে ডেমোক্র্যাট সিনেট নেতা চাক শুমার বলেন, এই প্রেসিডেন্ট যেন লোড করা বন্দুক হাতে থাকা এক শিশুর মতো আচরণ করছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে আমাদের প্রস্তাব সমর্থনের এটাই সঠিক সময়।
এই ভোটকে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতার পক্ষে একটি জয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণা ও সেনা পাঠানোর ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকার কথা। তবে এটি এখনো কেবল প্রাথমিক বা প্রক্রিয়াগত ভোট। প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।
১০০ সদস্যের সিনেটে চূড়ান্ত ভোটে পাস হলেও এটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পেতে হবে। এরপর ট্রাম্প ভেটো দিলে সেই ভেটো বাতিল করতে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে। এর আগে চলতি বছর একই ধরনের সাতটি প্রস্তাব সিনেটে আটকে দিয়েছিল ট্রাম্পের রিপাবলিকান। প্রতিনিধি পরিষদেও তিনটি প্রস্তাব অল্প ব্যবধানে নাকচ হয়।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের জন্য ‘আমাদের পক্ষ থেকে সব পথ খোলা আছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জোরপূর্বক ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা একটি অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ইরানের নতুন পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘তত্ত্বাবধান এলাকা’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে যাতায়াতের জন্য অনুমতিপত্র প্রয়োজন হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া যাতায়াত অবৈধ বলে গণ্য হবে।
সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, আল জাজিরা
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats