বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার
অবশেষে রাজনৈতিক প্রবল সংকটের মধ্যে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যাচ্ছেন স্যার কিয়ার স্টারমার। তার ঘনিষ্ঠ মহলের বরাত দিয়ে শনিবার (১৬ মে) ডেইলি মেইল এমন চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্টারমার তার কাছের বন্ধুদের জানিয়েছেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। তবে এক্ষেত্রে তিনি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন।বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদক ড্যান হজেস দাবি করেছেন, গত শুক্রবার বিকেলে স্টারমারের মন্ত্রিসভার এক সদস্য তাকে বলেছেন, কিয়ার স্টারমার তার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে পারছেন। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, চলমান এই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা বেশিদিন চলতে দেয়া যায় না। তবে পদত্যাগের ক্ষেত্রে তিনি মর্যাদার সঙ্গে নিজের ইচ্ছেমতো সরে যেতে চান।
মন্ত্রিসভার ওই সদস্য দাবি করেছেন, স্টারমার কবে নাগাদ পদত্যাগ করবেন তা নিয়ে একটি সময়সূচিও ঘোষণা করবেন। আরেক সূত্র দাবি করেছে, কিয়ার স্টারমারের এই ঘোষণা কবে আসবে- সেটির এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তার কিছু প্রবীণ সহযোগীর মতে, মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের প্রাথমিক ভোট সমীক্ষা ও প্রচারের গতিপ্রকৃতি সামনে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিৎ।
স্টারমারের সাবেক চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি আপাতত তাকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে নিষেধ করেছেন। তার যুক্তি, স্টারমারের টিকে থাকার সম্ভাবনা এখনো আছে যদি নেতৃত্ব বাছাইয়ের লড়াই অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয় বা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম'র হারার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
তবে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী এক সমর্থক ডেইলি মেইলের প্রতিবেদককে বলেন, স্টারমার উপ-নির্বাচনের ফল প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করার ঝুঁকি নেবেন না। এটি তার ব্যক্তিগত সম্মানে আঘাত করতে পারে।
মন্ত্রিসভায় ওই সমর্থক বলেছেন, স্টারমার যদি অপেক্ষা করেন এবং শেষমেশ তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জিতে যান তাহলে মনে হবে বার্নহ্যামের চাপেই তিনি পদ ছাড়তে বাধ্য হলেন।
আরেকটি সূত্র ডেইলি মেইলের এই প্রতিবেদককে জানান, দুই প্রবীণ মন্ত্রী বাইরে থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্য যে সমর্থন জোগাচ্ছেন, তারাই পর্দার আড়ালে নিজেদের উপদেষ্টাদের পাঠাচ্ছেন এমপিদের কাছে, যাতে তারা স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন।
সূত্রটি আরও জানায়, নতুন নেতার অধীনে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে অন্য কয়েকজন প্রবীণ মন্ত্রী ইতিমধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের সঙ্গে গোপনে দর কষাকষি শুরু করেছেন।
স্টারমারের এক বন্ধুর কাছে গত সপ্তাহে এই প্রতিবেদক জানতে চায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কি লড়াই চালিয়ে যাবেন? এর জবাবে তিনি বলেছিলেন, স্টারমার ভীষণ একগুঁয়ে। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো কিছুই শেষ কথা নয়। ওর কই মাছের প্রাণ—বড় শক্ত।
তবে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি আর তেমন নেই। স্টারমারও সম্ভবত বুঝে গেছেন, তার কই মাছের প্রাণও আর তাকে ক্ষমতায় রাখতে পারবে না।
দেশটিতে সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনে স্টারমারের লেবার পার্টির ব্যাপক ভরাডুবি হয়। এরপরেই স্টারমারের মন্ত্রিসভার অন্তত পাঁচজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া লেবারের অন্তত ১০০ জন এমপি স্টারমারের পদত্যাগ বা এই পদ ছেড়ে দেয়ার সময়সীমা ঘোষণা দেয়ার দাবি করেছেন।
প্রথমদিক থেকে স্টারমার বলে আসছেন, তিনি কোনোভাবেই পদ ছাড়বেন না এবং লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে অবশেষে স্টারমার তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাচ্ছেন বলে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হলো।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats