মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান এবং দেশটির পরবর্তী নেতা নির্বাচনে তার ভূমিকা থাকার দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। তারা ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো নিয়ে 'উপহাস' করেছেন। সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আব্বাস আসলানি আল জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্পের এসব দাবি তেহরানের পক্ষ থেকে 'চরম অস্বীকৃতির' মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, 'ইরান বর্তমানে পরিবর্তনের বদলে তাদের শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়েই সংকেত দিচ্ছে।'
ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আসলানি আরও বলেন, 'নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়টি পুরোপুরি অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞ পরিষদ)-এর ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এসব প্রস্তাবকে গুরুত্বহীন মনে করে ইরানি কর্মকর্তারা বিদ্রূপ করছেন।'
তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, 'গত কয়েক দিনে কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমঝোতায় আসার বা বর্তমান অবস্থান বদলানোর কোনো সংকেত ইরান দিচ্ছে না।'
ইরান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত নন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, নতুন নেতা বেছে নেওয়া খুব সহজ হবে এবং এতে তারও ভূমিকা থাকা উচিত। তিনি বিষয়টিকে ভেনেজুয়েলার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব 'ক্ষমতাহীন হয়ে গেছে'। তিনি ইরানে এমন নতুন নেতৃত্ব চান যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভালো আচরণ করবে।
'গত সপ্তাহে ইরান যা ছিল, এখন আর তা নেই। এক সপ্তাহ আগে তারা শক্তিশালী ছিল, কিন্তু এখন তাদের ক্ষমতা কার্যত ভেঙে দেওয়া হয়েছে', বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নতুন নেতা বেছে নেওয়া খুব সহজ হবে এবং এতে তারও ভূমিকা থাকা উচিত। তিনি এই বিষয়কে ভেনেজুয়েলার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ৬ জানুয়ারি মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারিতে তিনি এখন দেশ পরিচালনা করছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, 'এটা খুব সহজেই কাজ করবে। ভেনেজুয়েলার মতোই হবে। সেখানে এখন আমাদের খুব ভালো একজন নেতা আছেন। তিনি দারুণ কাজ করছেন। ঠিক ভেনেজুয়েলার মতোই এখানে (ইরান) হবে।'
ট্রাম্প জানান, হোক ইরান গণতান্ত্রিক দেশ নয়, কিংবা কোনো ধর্মীয় নেতা দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এতে তার কোনো আপত্তি নেই।'..আমার ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সমস্যা নেই। আমি অনেক ধর্মীয় নেতার সঙ্গে কাজ করি এবং তারা অসাধারণ', তিনি বলেন।
ইরান অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হোক, সেটি তিনি চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'না, আমি বলছি এমন একজন নেতা দরকার যিনি ন্যায়বিচার করবেন, ভালো কাজ করবেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভালো আচরণ করবেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোকেও সম্মান করবেন—ওরা সবাই আমাদের অংশীদার।' তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক হয়েছে এবং তারা 'আমাদের জন্য লড়ছে'।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, '১০ এর মধ্যে এটা ১২ বা হয়তো ১৫।' তবে তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তিনি চিন্তিত নন বলে জানান। বলেন, 'সমস্যা নেই। এটা সাময়িক হবে। খুব দ্রুত দাম আবার কমে যাবে।' হরমুজ প্রণালীর বিষয়টাও 'ইতোমধ্যে সমাধান করে ফেলেছেন' বলে দাবি করেন তিনি।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats