Sunday, 30 November 2025
The News Diplomats
ডিপ্লোমেটস্‌ প্রতিবেদক :
Publish : 09:08 AM, 21 November 2025.
Digital Solutions Ltd

সেনাকুঞ্জে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে খালেদা জিয়ার সৌজন্য সাক্ষাৎ

একাত্তরের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা

একাত্তরের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা

সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির চেয়ারপাসন খা

Publish : 09:08 AM, 21 November 2025.
ডিপ্লোমেটস্‌ প্রতিবেদক :

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার রাজধানীর সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর আগে বিকেলে গুলশানের বাসা থেকে সেনাকুঞ্জে পৌঁছান খালেদা জিয়া। গাড়ি থেকে নেমে হুইলচেয়ারে বসে অনুষ্ঠানস্থলে যান তিনি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম ১৯৭১ সালের রণক্ষেত্রে। ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনীর সঙ্গে নৌ ও বিমানবাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিল বলে ২১ নভেম্বরকে মুক্তিযুদ্ধের একটি মাইলফলক হিসেবে গৌরবের সঙ্গে পালন করা হয়। তবে মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সংগ্রামের সূচনা ঘটে ২৫ মার্চের রাত থেকেই। যদি বিজয় অর্জন না হতো, তাহলে এই বীর সেনাদের মৃত্যুদণ্ড ছিল অনিবার্য। অসহনীয় হয়ে যেত তাঁদের পরিবারের সব সদস্যের জীবন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ’৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযান ১৬ ডিসেম্বরে স্বাধীনতাসংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় এনে দিয়েছিল। ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অভিযান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।


খালেদা জিয়া সেনাকুঞ্জে পৌঁছানোর পর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্তে কয়েক মিনিট কথা বলেন। পরে তাঁরা মূল অনুষ্ঠানস্থলে যান। সেখানে পাশাপাশি আসনে বসে প্রধান উপদেষ্টা এবং খালেদা জিয়াকে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়। এক বছর পর আবারও সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে গেলেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
প্রধান উপদেষ্টা সাক্ষাৎকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর সুস্থতা কামনা করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহধর্মিণী আফরোজা ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। এ সময় খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ সময় সরকারের উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।


একাত্তরের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা
সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনায় অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশ গঠন ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী সর্বদাই জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। সেনাকুঞ্জের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আজকের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আপনাদের সকলকে স্বাগত জানাই। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, যুদ্ধাহত এবং অন্যান্য সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। একইসাথে আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সকল শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের মানুষের প্রতি, যাদের দুঃসাহসিক আত্মত্যাগ আমাদের জন্য দেশ পুনর্গঠনের একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।
ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম ১৯৭১ সালের রণক্ষেত্রে। ১৯৭১ সালের ২১ই নভেম্বর সেনাবাহিনীর সাথে নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিল বলে ২১ই নভেম্বরকে মুক্তিযুদ্ধের একটি মাইলফলক হিসেবে গৌরবের সাথে পালন করা হয়। তবে মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সংগ্রামের সূচনা ঘটে ২৫শে মার্চের রাত থেকেই। আমরা যদি বিজয় অর্জন না করতাম তাহলে এই বীর সেনাদের মৃত্যুদন্ড ছিল অনিবার্য, অসহনীয় হয়ে যেত তাদের পরিবারের সকল সদস্যের জীবন।


তিনি বলেন, মুক্তিকামী সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানীরা জীবনের পরোয়া না করে, পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তারাই এদেশের আপামর জনসাধারণকে সাহস জুগিয়েছেন, মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জল-স্থল ও আকাশপথে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলে দেশমাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খলা থেকে মুক্ত করে এনেছেন। যুদ্ধ বেগবান ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তখন বাংলাদেশ ফোর্সেস গঠন করা হয়েছিল। যার অধীনে ১১টি সেক্টরে দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এরই চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখি ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে। পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে এই যৌথ অভিযানই ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় এনে দিয়েছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।


তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশ গঠন ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় আপনারা সর্বদাই জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০২৪ এর ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান ও চলমান দেশ পুনর্গঠন ও সংস্কারের কাজেও সশস্ত্র বাহিনী বরাবরের মতোই মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অব্যাহতভাবে দেশের মানুষের আস্থার প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি- গণতান্ত্রিক এবং নিয়মতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতি অনুগত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী তাদের পেশাগত দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে দেশের জন্য ত্যাগ ও তৎপরতার এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখবে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আসন্ন নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। একটি নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে আমি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরকে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।


একটি শান্তি প্রিয় জাতি হিসেবে আমরা সকল বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে সম্মানজনক সহাবস্থানে বিশ্বাসী জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তথাপি, যেকোন আগ্রাসী বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদেরকে সদা প্রস্তুত এবং সংকল্পবদ্ধ থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাহিনীগুলোতে যুগোপযোগী প্রযুক্তি সংযোজনের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।
বিগত ৩৭ বছরে জাতিসংঘে আমাদের শান্তিরক্ষীরা সফলতার সাথে ৪৩ টি দেশে ৬৩টি মিশন সম্পন্ন করেছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, বর্তমানেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে আমাদের শান্তিরক্ষীরা নিয়োজিত আছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যতম বৃহৎ নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবেও বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ একটি দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য নাম। এজন্য আমি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীগণ যাতে বিশ্বের চ্যালেঞ্জিং এবং বিপদজনক অঞ্চলসমূহে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে সেজন্য তাদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

BANGLADESH বিভাগের অন্যান্য খবর

শিরোনাম খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’, উদ্বিগ্ন নেতা-কর্মীরা শিরোনাম শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বড় বাধা ভারত, প্রত্যর্পণ অনিশ্চিত শিরোনাম সংবিধানের পর এবার রাজনীতির গতিপথে ঠিক করবেন আলী রীয়াজ! শিরোনাম একাত্তরের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা শিরোনাম বাংলাদেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১০, আহত কয়েক শতাধিক, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শিরোনাম শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে