Sunday, 30 November 2025
The News Diplomats
ডিপ্লোমেটস্‌ প্রতিবেদক :
Publish : 07:45 AM, 17 November 2025.
Digital Solutions Ltd

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ, মামুনের ৫ বছর কারাদণ্ড

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ, মামুনের ৫ বছর কারাদণ্ড

Publish : 07:45 AM, 17 November 2025.
ডিপ্লোমেটস্‌ প্রতিবেদক :

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে এই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুন এই মামলার অ্যাপ্রুভার(রাজসাক্ষী) ছিলেন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ে ছয়টি অংশ রয়েছে। রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আমৃত্যু সাজা হওয়ার বিপরীতে অপরাধ সমূহ হচ্ছে- গত বছরের ১৪ই জুলাই সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলা এবং রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ। এদিকে মৃত্যুদন্ড প্রদানের বিপরীতে অভিযোগ গুলো হচ্ছে- প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ। এই নিদের্শনার কথা শেখ হাসিনা ঢাকা দক্ষিণ সিটির তৎকালীন মেয়র তাপস কে জানাচ্ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসির সঙ্গে ফোনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ফাসিঁ দেয়ার কথা জানাচ্ছিলেন শেখ হাসিনা। রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা।
এদিকে, শেখ হাসিনার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আরেক আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ও একই অভিযোগে একই রকমের সাজা দেয়া হয়েছে। শুধু ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে ফোনে কথোপকথনে শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ফাসিঁ দেয়ার কথা জানাচ্ছিলেন সেই অভিযোগটি আনা হয়নি।
এর আগে রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।


সোমবার রায় ঘোষণার আগে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি-১) আনা হয়। পুলিশের পাহারায় সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আনা হয়। তিনি এই মামলায় আটক থাকা একমাত্র আসামি, যিনি পরে রাজসাক্ষী হন। বাকি দুই আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে রয়েছেন।
শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচ অভিযোগ
শেখ হাসিনাসহ এ মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সেগুলো হলো- উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মামলায় আসামি ‘অ্যাপ্রুভার’(দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্য বিবরণ প্রকাশ) হয়েছেন। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ার আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
গত বছরের ১৭ই অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। শুরুতে এই মামলায় শেখ হাসিনাই একমাত্র আসামি ছিলেন। প্রসিকিউশনের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৬ই মার্চ এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি হিসেবে তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় গত ১২ই মে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে গত ১লা জুন আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। এতে শেখ হাসিনাকে জুলাই-আগস্টে নৃশংসতার ‘মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা ও সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে এই তিন আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো- গত বছরের ১৪ই জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান। হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা। রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর অভিযোগ। এই পাঁচ অভিযোগে তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ১০ই জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৩শে অক্টোবর মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষ হয়।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও ৩টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে দুটি মামলায় আওয়ামী লীগ শাসনামলের সাড়ে ১৫ বছরে গুম-খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অপরটি রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা।
জুলাই শহীদেরা ন্যায়বিচার পেয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল
জুলাই বিপ্লবের শহীদেরা ন্যায়বিচার পেয়েছে, রাষ্ট্র ন্যায়বিচার পেয়েছে। রায়ের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।


অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, এই মামলার দুইজন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজন আসামি, যিনি রাজসাক্ষী হিসেবে নিজেকে আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছেন, সার্বিক বিবেচনায় আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি শহীদদের প্রতি, দেশের প্রতি, এ দেশের মানুষের প্রতি, গণতন্ত্রের প্রতি, সংবিধানের প্রতি, আইনের শাসনের প্রতি এবং আগামী প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা পরিশোধের স্বার্থে এ রায় একটি যুগান্তকারী রায়। এই রায় প্রশান্তি আনবে। এ রায় ভবিষ্যতের জন্য একটি বার্তা। এ রায় বাংলাদেশের ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’ যেদিন থেকে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হবেন সেদিন থেকে সাজা কার্যকর হবে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সোমবার রায়ে এই আদেশ দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায়ে ট্রাইব্যুনাল শহীদদের পরিবারকে এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন।

BANGLADESH বিভাগের অন্যান্য খবর

শিরোনাম খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’, উদ্বিগ্ন নেতা-কর্মীরা শিরোনাম শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বড় বাধা ভারত, প্রত্যর্পণ অনিশ্চিত শিরোনাম সংবিধানের পর এবার রাজনীতির গতিপথে ঠিক করবেন আলী রীয়াজ! শিরোনাম একাত্তরের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা শিরোনাম বাংলাদেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১০, আহত কয়েক শতাধিক, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শিরোনাম শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে