Sunday, 30 November 2025
The News Diplomats
সাকিনা কাইউম, ঢাকা :
Publish : 08:44 AM, 21 November 2025.
Digital Solutions Ltd

উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী

বাংলাদেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১০, আহত কয়েক শতাধিক, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

বাংলাদেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে  নিহত ১০, আহত কয়েক শতাধিক, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে নিহত আবদুর রহিমের স্বজনের আহাজারি। ছবি : সংগৃ�

Publish : 08:44 AM, 21 November 2025.
সাকিনা কাইউম, ঢাকা :

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি

শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে বাংলাদেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকা, গভীরতা প্রায় ১০ কিলোমিটার। দেশজুড়ে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ভবন দুলতে থাকায় মানুষ ঘর-বাড়ি ও অফিস থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসে।
ভূমিকম্পে এখবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। পুরান ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুই শিশুসহ ৫ জন ও ভুমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুরে আহত হয়েছেন কয়েক শতাধিক মানুষ। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক ভবনের দেয়ালে দৃশ্যমান ফাটল তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত ও পরিস্থিতি মূল্যায়নে জরুরি প্রতিক্রিয়া দল মাঠে নেমেছে।
আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা GFZ Potsdam প্রথম কম্পনটি রেকর্ড করে এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় সব প্রধান সংবাদমাধ্যম—BBC, Reuters, AP News, Al Jazeera, Times of India—হেডলাইন হিসেবে খবরটি প্রচার করে।
পুরান ঢাকায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন, রাফিউল ইসলাম (আনুমানিক ২০ বছর) , আবদুর রহিম (৪৮) ও তাঁর ছেলে মেহরাব হোসেন (১২)। রূপগঞ্জে ফাতেমা নামে ১০ মাসের এক শিশু মারা গেছে। নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় মাটির ঘরের ধসে পড়া দেয়ালের চাপায় কাজম আলী ভূঁইয়া (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রাফিউল ইসলাম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের শিক্ষার্থী বলে পরিবার জানিয়েছে। আবদুর রহিমের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে। তিনি সুরিটোলা স্কুলের পেছনে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নরসিংদীতে নিহতরা হলেন- দেলোয়ার হোসেন (৩৭), তার ছেলে ওমর ফারুক (৮), কাজম আলী ভূইয়া (৭০), নাসির উদ্দিন (৫০ ও ফুরকান মিয়া (৪২)। তাদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামে। তারা নরসিংদীর গাবতলী এলাকায় ভাড়া থাকেন। এছাড়া কাজম আলী পলাশ উপজেলায় ও ফুরকান মিয়া শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সকালে বলেন, ভূমিকম্পের সময় পুরান ঢাকার কসাইটুলী এলাকার একটি ভবনের রেলিং ধসে পড়ে তিনজন নিহত হন। তাঁরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান জানান, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে তিনজন মারা গেছেন। মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার সাজ্জাদ প্রথম আলোকে বলেন, ভূমিকম্পের পর তিনজনের মরদেহ আনা হয়েছে। পুরান ঢাকা থেকে তাঁদের মরদেহ আনা হয়।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের ১০ মাসের একটি শিশু নিহত হয়েছে। এ সময় শিশুটির মা কুলসুম বেগমসহ (৩০) দুজন আহত হন। সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ইসলামবাগ ৫ নম্বর ক্যানেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভূমিকম্পে ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুরে কয়েক শতাধিক আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন আহত হয়েছেন। গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত হয়েছেন ১০ জন।
ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ভবন থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত চার শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালে আহত ৪৫ জনের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। নরসিংদী ১০০ শয্যা হাসপাতালে আহত হয়েছেন ১০ জন। টেলিফোনে হতাহতের এসব খবর জানা গেছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।
৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলে সবকিছু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা
গাজীপুরের শ্রীপুরে ভূমিকম্পের সময় কেওয়া পূর্বখণ্ড গারোপাড়া এলাকায় বহুতল ভবনে ডেনিমেক নামের একটি পোশাক কারখানায় থেকে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে দেড় শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
নরসিংদীতে ভূমিকম্পের সময় একটি একতলা ভবনের ছাদ ধসে দুই শিশুসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সকালে সদরের চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসাসংলগ্ন বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া আরও ৫৯ জন ব্যক্তি সামান্য আহত হয়ে, অজ্ঞান হয়ে ও প্যানিক অ্যাটাকের কারণে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে এসেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
এ ছাড়া রূপগঞ্জে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে কুলসুম বেগম তাঁর মেয়ে ফাতেমাকে কোলে নিয়ে বাড়ির বাইরে দৌড়ে আসেন। এ সময় প্রতিবেশী জেসমিন বেগমও (৩৫) ঘর থেকে বের হয়ে সড়কে এসে আশ্রয় নেন। ঠিক তখনই সড়কের পাশে থাকা একটি সীমানাপ্রাচীর ধসে তাঁদের ওপর পড়ে। ইটের চাপায় ঘটনাস্থলেই শিশু ফাতেমা নিহত হয়। আশপাশের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় কুলসুম বেগম ও জেসমিন বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭। উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী। ভূমিকম্পটিকে মাঝারি মাত্রার বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
• নরসিংদী জেলায় একাই ১০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছে, যার অধিকাংশই আতঙ্কে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আহত হন।
• গাজীপুরে ২০০-এর বেশি গার্মেন্টস কর্মী কম্পনের সময় কারখানা থেকে বের হতে গিয়ে আহত হয়েছেন।
• রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ১৮ জন আহতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (DMCH) ভর্তি করা হয়েছে।
• গাজীপুরের তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ১০ জন আহতকে নেওয়া হয়েছে।
Reuters ও AP News–এর খবরে জানা যায়—
নরসিংদী, গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দেয়াল/রেলিং ভেঙে পড়া, নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট বা কংক্রিট খসে পড়ার ঘটনায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।
BSS (বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা) জানিয়েছে, মাধবদী, পলাশ, শিবপুর ও রূপগঞ্জে বহু ভবনে ফাটল দেখা গেছে; বেশ কিছু ভবনে জরুরি পরিদর্শন চলছে।
দেশজুড়ে আতঙ্ক—কলকাতাতেও অনুভূত হয় কম্পন। ভূমিকম্পের তীব্র দোলা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় অনুভূত হয়।
ভারতের কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া—সব জায়গায়ও দোলা অনুভূত হয়।
BBC ও Times of India জানিয়েছে, কলকাতার বহু মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, স্কুল-কলেজে ক্লাস কয়েক মিনিটের জন্য বন্ধ থাকে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন—
“আজকের ভূমিকম্প ছোট হলেও এটি বড় দুর্যোগের সম্ভাবনার দিকটি আবার সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে, যেখানে সাবডাকশন জোনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।”
কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে—
ভারতীয় প্লেট পূর্বদিকে ঠেলছে, বার্মা প্লেট পশ্চিমে এগোচ্ছে, প্রতি বছর ১–১.৫ মিটার সংকোচন তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ৮.২–৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারণা করা হচ্ছে—
ঢাকার কমপক্ষে ২০% ভবন ঝুঁকিপূর্ণ; মাত্র ১% ভবন ধসে পড়লেও ২ লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা, ৫–৭ লাখ মানুষ ধসে পড়া ভবনে আটকা পড়তে পারে।
তিনি আরও সতর্ক করেন—
“এ ধরনের ছোট কম্পনগুলো কখনও কখনও বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হয় না, তবে এগুলো প্লেট মুভমেন্ট সক্রিয় থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত।”
সরকারি প্রস্তুতি ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ভূমিকম্পের পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জরুরি বৈঠক ডাকে। ফায়ার সার্ভিস ঢাকার বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শন শুরু করে এবং রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫টি ভবন তালিকাভুক্ত করে। হাসপাতালগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়। গণমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
১. বাড়ি ও অফিসে ভূমিকম্প মহড়া বাড়ানো।
২. পুরোনো ভবনগুলোতে রেট্রোফিটিং বাধ্যতামূলক করা।
৩. বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।
৪. দোতলা-তলা বাড়ি নির্মাণে অনুমতি ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা।
৫. মানুষকে নিরাপদে বের হওয়ার নিয়ম শেখানো।
আজকের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প বাংলাদেশকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছে—
দেশটি বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বহন করছে, এবং নগরায়ণ—বিশেষ করে ঢাকার—অপরিকল্পিত কাঠামো এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
দুর্ঘটনা বড় হয়নি—কিন্তু এটি একটি সতর্কসংকেত। এখনই যথাযথ প্রস্তুতি না নিলে ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
নরসিংদীতে ভূমিকম্পে বাবা-ছেলেসহ নিহত ৫, আহত দেড় শতাধিক
নরসিংদীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে পাঁচজন নিহত ও দেড় শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী ও ঘোড়াশালের মধ্যবর্তী এলাকায় এ ভূকম্পনের উৎপত্তি হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালের ভূমিকম্পে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি তৈরি হয়। এতে ঘর-বাড়ি কেঁপে ওঠে। এ সময় লোকজনকে ঘর থেকে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। প্রায় ২৬ সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে নরসিংদীর সদর উপজেলার গাবতলী এলাকার একটি নির্মাণাধীন সাত তলা ভবনের ছাদ থেকে ইট পড়ে দেলোয়ার হোসেন (৩৭), তার ছেলে ওমর ফারুক (৮) ও অজ্ঞাত আরেকজন আহত হন। গুরুতর আহত ওমর ফারুক ও দেলোয়ার হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়।
অপরদিকে পলাশ উপজেলার মাটির ঘরের নিচে চাপা পড়ে মালিতা গ্রামের কাজম আলী ভূইয়া (৭০) মারা যান। পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিন (৫০) ও শিবপুর উপজেলার আজকিতলা গ্রামের ফুরকান মিয়া (৪২) ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে মারাত্মক আহত হন। তাকে প্রথমে নরসিংদীর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হলে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়।
শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ফারজানা ইয়াছমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নরসিংদীর সদর হাসপাতাল ও নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালেল জরুরি বিভাগের তথ্যমতে, কমপক্ষে দেড়শতাধিক মানুষ আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতের মধ্যে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ৫৭ জন এবং নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ভূমিকম্পে জেলার প্রায় সব উপজেলায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গুরুতর আহতরা হলেন- তাসপিয়া (১৮), শামীম (২০), রাকিব (২৪), আতিকুর (৭), ওমর (১০), সাইফুল (৩৬), মেহেরউন (২০), আবির (৬), নাসরিন (৩৭), ইয়ামিন (২২), মিথিলা (২০), তামিম (৬), হনুফা (৪০), বিল্লাল (৫০), জাকির (৩৫), মান্নান (১৬), ইমানুল (১৯), হিরা (৫), মাধবী (৫০), রাব্বী (২০), সাইদুর রহমান (১০), হালিমা (৪৫), দেলোয়ার (৪৫), বিন্দু (২৮), শামীম (৩৫), সূরভী (২০), জিহাদ (১৬), সাথী (২২), সোহেল (২২), মিনা (২৮), শাহাদাত (৩৫), রফিক (৩ মাস), সুমাইয়া (২০) প্রমুখ।
জেলা প্রসাশন বলছে, নরসিংদী শহরের অনেক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার নতুন বাজার গ্রামের ইশাক মিয়ার বাড়ি ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ভূমিকম্পে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাব-স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাতীয় গ্রিডের সাবস্টেশনে যন্ত্রাংশ আগুনে পুড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় ভূমিকম্পের কারণে বেশ কয়েকটি ভবনে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর পুরাতন রেল ব্রিজে ফাটল দেখা দিয়েছে।
পলাশ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুস শহীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের চেষ্টায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, ভূমিকম্পে জেলায় বিভিন্ন জায়গায় আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। যেকোনো দুর্যোগে জেলা পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে।
নরসিংদীর সিভিল সার্জন ড. সৈয়দ আমিরুল হক শামীম জানান, ভূমিকম্পের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। এছাড়া কম-বেশী ৫৫ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। তাদেরকে নরসিংদী জেলা হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান চারজনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় আমি অবগত নই। তবে আমি শুনেছি, দেলোয়ার হোসেন আইসিইউতে রয়েছেন।
গাজীপুরে ভূমিকম্পের সময় আহত ২৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি, বেশির ভাগ শ্রমিক
আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত কয়েক সেকেন্ডের শক্তিশালী ভূমিকম্পে গাজীপুরে মুহূর্তের মধ্যে সৃষ্টি হয় ব্যাপক আতঙ্ক। উঁচু ভবন দুলতে শুরু করলে ঘরবাড়ি, অফিস, শিল্পকারখানা, দোকানপাট থেকে মানুষ দ্রুত খোলা জায়গায় ছুটে আসে। গাজীপুরে বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানায় আতঙ্কে নামতে গিয়ে অনেক শ্রমিক আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পে আহত হয়ে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোয় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ২৫২ জন মানুষ ভর্তি আছেন, তাঁদের বেশির ভাগই পোশাকশ্রমিক।

মহানগরীর টঙ্গী এলাকায় ভূমিকম্পের সময় পিনাকী গার্মেন্টস এবং ফ্যাশন প্লাস গার্মেন্টসের শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। শ্রমিকেরা দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে গেট এবং সিঁড়িতে প্রচণ্ড ভিড় ও হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। এ সময় অনেক শ্রমিক পদদলিত হন। এ ঘটনায় শ্রমিকেরা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং আতঙ্কে অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিদের টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওহেদুজ্জামান বলেন, আতঙ্ক বের হতে গিয়ে অনেক শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মহানগরীর বাসন থানাধীন কোজিমা লিরিক কারখানা, লীবাস টেক্সটাইল লিমিডেট, হাসান তানভীর নামক কারখানা, ডে ফ্যাশন কারখানা কোস্ট টু কোস্টু নামক কারখানা এবং জেলার শ্রীপুর থানাধীন ডেনিম্যাক ডেনিম লিমিডেট কারখানার শ্রমিকেরা ভূমিকম্পের সময় তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা ইশরাত জাহান (এনি) বলেন, ‘ভূমিকম্প হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা প্রচুর পেশেন্ট (রোগী) পাই, এদের অধিকাংশ কারখানা শ্রমিক। এদের মধ্যে অনেকেই ভয়ে অসুস্থ হয়েছে। আমরা অন্তত শতাধিক মানুষকে চিকিৎসা দিয়েছি এবং যাঁদের অবস্থা গুরুতর তাঁদের অন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’
এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুরের ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে বহুতল ভবন থেকে তাড়াহুড়া করে ন�

BANGLADESH বিভাগের অন্যান্য খবর

শিরোনাম খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’, উদ্বিগ্ন নেতা-কর্মীরা শিরোনাম শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বড় বাধা ভারত, প্রত্যর্পণ অনিশ্চিত শিরোনাম সংবিধানের পর এবার রাজনীতির গতিপথে ঠিক করবেন আলী রীয়াজ! শিরোনাম একাত্তরের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা শিরোনাম বাংলাদেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১০, আহত কয়েক শতাধিক, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শিরোনাম শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে