08 July 2026
The News Diplomats
ডিপ্লোমেটস ডেস্ক :
Publish : 10:53 AM, 08 July 2026.
Digital Solutions Ltd

মিসরের গোল কেন বাতিল হয়েছিল-আর্জেন্টিনার কেন নয়, যা বলছে মিশর

মিসরের গোল কেন বাতিল হয়েছিল-আর্জেন্টিনার কেন নয়, যা বলছে মিশর

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের শেষ দিকে মিসর কোচের সঙ্গে বাক্যবিনিময় হয় রেফারির -রয়টার্স

Publish : 10:53 AM, 08 July 2026.
ডিপ্লোমেটস ডেস্ক :

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর রেফারিং ও ভিএআরের দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে মিসর। দলটির কোচ হোসাম হাসানের দাবি ৬২ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোলটি অন্যায্যভাবে বাতিল করা হয়েছে, আবার আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে ফাউল হলেও সেটি আমলে নেওয়া হয়নি।

হয়তো আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই মিসরের সঙ্গে এ অন্যায় করা হয়েছে, এমন মন্তব্যও করেছেন মিসর কোচ। রেফারিকে ‘জালিম’ আখ্যা দিয়েছেন ফরোয়ার্ড জিকো।

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন। সেখানে সাবেক সিলেক্ট গ্রুপ রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস খুঁজে দেখেছেন কেন মিসরের গোল বাতিল করা হয়েছিল, কেন আর্জেন্টিনার গোল বহাল রাখা হয়েছে। দিয়েছেন নিজের ব্যাখ্যাও।

ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে এক যুগের বেশি সময় রেফারিং করা এবং ভিএআর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা ডেভিসের সেই বিশ্লেষণের অনুবাদ তুলে ধরা হলো।

মিসরের গোল কেন বাতিল হয়েছিল, কী হয়েছিল

৬২তম মিনিটে মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা একটি গোল করেছেন বলে মনে হচ্ছিল। সেই গোলে মিসর ২-০ ব্যবধানে এগিয়েও যায়। কিন্তু ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল করা হয়। কারণ, গোল হওয়ার আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিসরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বিরুদ্ধে ফাউল করেছিলেন।

ভিএআরের সিদ্ধান্ত

ভিএআর জানায়, গোল হওয়ার আগে ফাউল হয়েছিল। তাই রেফারিকে মনিটরে গিয়ে ঘটনাটি দেখতে বলা হয়। রিভিউ শেষে রেফারি গোল বাতিল করেন।

ভিএআরের মতে, আত্তিয়া একই সময়ে মার্তিনেজের জার্সি ধরে টানেন এবং তাঁর পায়ের ওপর পা রাখেন। এই দুটি ঘটনাই ফাউল হিসেবে বিবেচিত হয়। ভিডিও দেখার পর ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে ভিএআরের সঙ্গে একমত হন এবং গোল বাতিল করেন।

ডেভিসের রায়

ভিএআরের হস্তক্ষেপ সঠিক ছিল। গোল বাতিলের সিদ্ধান্তও সঠিক।

আত্তিয়ার স্পষ্ট ফাউলের কারণে আর্জেন্টিনা আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায়। সেই ফাউলের সরাসরি ফল হিসেবেই মিসর গোলটি করেছিল। তাই নিয়ম অনুযায়ী গোলটি বাতিল করাই সঠিক সিদ্ধান্ত।

ঘটনাটি বক্সের বেশ বাইরে মিসরের অর্ধে ঘটেছিল বলে এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু একই আক্রমণপর্বে যদি কোনো ফাউলের সরাসরি পরিণতিতে গোল হয়, তাহলে সেই গোল বাতিল করতে হয়। রেফারিকে যখন একসঙ্গে জার্সি টানা ও পায়ে পা রাখার দৃশ্য দেখানো হয়, তখন তাঁর পক্ষে আগের সিদ্ধান্ত (গোল) বহাল রাখা সম্ভব ছিল না।

আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে কেন ফাউল ধরা হয়নি

ম্যাচের শেষ দিকে মিসর দুটি আলাদা ঘটনায় ফাউলের আবেদন জানায়। এর একটি ঘটে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করার আগে। দুটি ঘটনাই আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকার ভেতরে ঘটে।

কী হয়েছিল

প্রথম ঘটনায় আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারকে মিসরের হামদি ফাতির জার্সি টানতে দেখা যায়। এরপর ফাতি মাটিতে পড়ে যান। তবে রেফারি কোনো ফাউল দেননি।

আরেক ঘটনায়, ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন, আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকায় ঢোকার সময় হুলিয়ান আলভারেস তাঁকে ফাউল করেছেন। কিন্তু রেফারির মতে, এটি ফাউল দেওয়ার মতো ঘটনা ছিল না।

ভিএআর দুটি ঘটনাই পরীক্ষা করে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অর্থাৎ কোনো পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।

ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির জন্য ম্যাচটি বেশ কঠিন ছিল। বিশেষ করে ম্যাক আলিস্টারের ঘটনাটি মাঠের যে জায়গায় ঘটেছিল, তার ফলে এক অদ্ভুত ‘দ্বিমুখী পরিস্থিতির’ তৈরি হয়। সেখানে রেফারি কোনো সিদ্ধান্ত বদলালে তার প্রভাব একসঙ্গে দুটি ক্ষেত্রে পড়ত।

প্রথমত, আর্জেন্টিনার গোলটি বাতিল হতে পারত, দ্বিতীয়ত, ঠিক তার আগের মুহূর্তেই মাঠের অপর প্রান্তে ফাউল হওয়ার কারণে প্রতিপক্ষ দল একটি পেনাল্টি পেয়ে যেতে পারত। কারণ, দুটি ঘটনাই খেলার একই পর্যায় বা সিকোয়েন্সের মধ্যে ঘটেছিল।

তবে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের (এ ক্ষেত্রে ম্যাক আলিস্টার ও আলভারেজ) আচরণ ও খেলার ধরন বিশ্লেষণ করে ভিএআর নিশ্চিত হয় যে, কোনো সিদ্ধান্তেই হস্তক্ষেপ করার মতো বড় কোনো ভুল হয়নি। তাই তারা দুটি ঘটনাই পরীক্ষা করে রেফারির আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন।

রেফারি ও ভিএআরের জন্য ম্যাচের শেষ অংশটি কঠিন ছিল। তবে দুটি ক্ষেত্রেই তাঁরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে আমার মত।

ম্যাক আলিস্টার ফাতির জার্সি ধরে ঝুঁকি নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি ছিল খুবই অল্প সময়ের জন্য। এতে ফাতির বল পাওয়ার সম্ভাবনা বা আক্রমণে অংশ নেওয়ার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। তাই এটিকে পেনাল্টি দেওয়ার মতো ফাউল বলা যায় না।

একইভাবে সালাহকে পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তও সঠিক। ওই ঘটনায় সালাহ ফাউলের চেয়ে পেনাল্টি আদায়ের চেষ্টা বেশি করেছেন। আলভারেসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ফাউল ছিল না। দুজনের বুট একে অপরের সঙ্গে লাগে এবং দুজনের গতির কারণেই সেই সংস্পর্শ তৈরি হয়। সালাহ অপ্রয়োজনীয়ভাবে মাটিতে পড়ে যান।

দুই ফাউলে ভিন্ন সিদ্ধান্ত কেন

অনেকে শেষের ঘটনাটির সঙ্গে মিসরের বাতিল হওয়া গোলের আগে আত্তিয়ার ফাউলের তুলনা করতে পারেন। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।

প্রথম ঘটনায় একজন ডিফেন্ডার স্পষ্টভাবে প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। কিন্তু সালাহর ঘটনায় দুজনের বুটের মধ্যে স্বাভাবিক সংস্পর্শ হয়েছিল, যা দুই খেলোয়াড়ের গতির ফল। তাই দুটি ঘটনা এক নয়।

আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে যা বলছে মিশর

প্রথম বারের মতো শেষ ষোলের ম্যাচে খেলতে নেমেই ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। সেখান থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে লিওনেল মেসিরা। তবে খেলা শেষে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ তুলেছে মিশর। এবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। একই সঙ্গে বিশ্বকাপজুড়ে দলের প্রতি সমর্থন জানানো মিশরীয় সমর্থকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে তারা।

বিবৃতিতে ইএফএ জানায়, বিশ্বকাপজুড়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা লাখো সমর্থকের অকুণ্ঠ সমর্থন খেলোয়াড় ও দলের জন্য ছিল বড় অনুপ্রেরণা। জাতীয় দল সম্মান, সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে খেলেছে এবং মাঠে মিশরের চেতনা ও পরিচয় তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহারে ব্যর্থতার বিষয়ে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নীরব থাকতে পারে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে। বলা হচ্ছে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে এবং এমন সব সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলেছে, যা সরাসরি ম্যাচের গতিপথকে প্রভাবিত করেছিল। ইএফএর দাবি, দেশি-বিদেশি অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকও ম্যাচে কয়েকটি বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেছেন।

তাদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ম্যাচ পরিচালনায় সর্বোচ্চ মানের সততা, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মিশর ফুটবল ফেডারেশন জানায়, তারা সবসময় ফেয়ার প্লে, ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা ও ফুটবলের প্রতি শ্রদ্ধার নীতিতে বিশ্বাসী। সেই নীতিই দাবি করে, প্রতিটি দল সমান সুযোগ ও সমান আচরণ পাবে। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যা ঘটেছে, তা খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় দলের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার বিষয় নয়। এটি তাদের দায়িত্ব। মিশরের জার্সি গায়ে মাঠে নামা প্রতিটি খেলোয়াড় এবং দলের পাশে থাকা প্রতিটি সমর্থক ন্যায্যতা, সম্মান এবং ফুটবলের আইন সমানভাবে প্রয়োগের দাবি রাখেন। দলের প্রতি গর্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ফেডারেশন। বিবৃতিতে বলা হয়, বিতর্ক সত্ত্বেও ম্যাচের ফল এখন এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেও, দলের প্রতি আমাদের গর্ব অটুট রয়েছে। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তাদের সাহস, নিষ্ঠা ও লড়াকু মানসিকতা সবার শ্রদ্ধা অর্জন করেছে এবং মিশরীয় ফুটবলের প্রকৃত মূল্যবোধকে তুলে ধরেছে। সবশেষে সমর্থকদের উদ্দেশে ইএফএ জানায়, ‘জাতীয় দলের হৃদয় ও শক্তি হয়ে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থনই আমাদের অনুপ্রাণিত করবে, যাতে মিশরীয় ফুটবলের জন্য আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়।’

SPORTS বিভাগের অন্যান্য খবর

News Diplomats Icon

Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com

The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের উত্তরসূরি কে, ভ্যান্স নাকি রুবিও শিরোনাম বাহরাইন ও কুয়েতে ৮৫ মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা তেহরানের শিরোনাম নিজ্জার হত্যায় ভারতের নাম উল্লেখ ছাড়াই অভিযোগ গঠন করল যুক্তরাষ্ট্র শিরোনাম মিসরের গোল কেন বাতিল হয়েছিল-আর্জেন্টিনার কেন নয়, যা বলছে মিশর শিরোনাম মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি শিরোনাম কাঙালিনী সুফিয়া: জীবনের তাগিদে আবার কি তাকে পথে নামতে হবে?