প্রতীকী ছবি, AI নির্মিত
মাঝসমুদ্রে ও মাটির নীচে প্রস্তুত পরমাণু মিসাইল
ভারতের পরমাণু অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা কৌশলে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ১২টি পরমাণু ওয়ারহেড (Nuclear Warheads) সক্রিয় ভাবে মোতায়েন করল নয়াদিল্লি। এর আগে হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকলেও, ওয়ারহেড এবং তা বহনের ক্ষেপণাস্ত্র আলাদা ভাবে রাখা থাকত। এ বার সেই নীতিতে আসল বড় বদল।
আন্তর্জাতিক অস্ত্র গবেষণা সংস্থা, ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ বা SIPRI সোমবার তাদের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। আর সেই রিপোর্টেই এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। আর তার পরেই আন্তর্জাতিক মহলে এই নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপে দেশের সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতি এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল।
চার দশকের নীতি বদলে ‘অপারেশনাল ডেপ্লয়মেন্ট’
সিপরি-র রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক দশক ধরে নয়াদিল্লির ঘোষিত নীতি ছিল ‘শান্তিকালীন সময়ে’ নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড এবং ডেলিভারি সিস্টেম, অর্থাৎ, ওয়ারহেডগুলি লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেপণাস্ত্রগুলি সম্পূর্ণ আলাদা জায়গায় মজুত রাখা। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ভারত এখন ১২টি পরমাণু অস্ত্রকে ‘অপারেশনাল ডেপ্লয়মেন্ট’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। অর্থাৎ, হামলার জন্য একেবারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
SIPRI-র রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই ওয়ারহেডগুলিকে ভূগর্ভস্থ মিসাইল সাইলো অথবা অত্যাধুনিক পরমাণু সাবমেরিনের ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে Mated অর্থাৎ, সরাসরি যুক্ত করে একেবারে হামলার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার সামান্য বেড়ে এখন ১৯০টি হয়েছে।
‘রেডি-টু-ফায়ার’
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে পরমাণু অস্ত্র আগে থেকেই জুড়ে রাখার অর্থ— ভারত এখন ‘রেডি-টু-ফায়ার’ অবস্থান নিয়েছে। যুদ্ধের সময়ে পরমাণু ওয়ারহেডগুলিকে ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে জুড়তে যেটুকু সময় লাগত, নতুন অবস্থানে সেই সময়টুকুও লাগবে না।
স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালিস্টরা বলছেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিবেশীদের শক্তি যে ভাবে বাড়ছে, তাতে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং সামুদ্রিক অঞ্চলে ‘Deterrence Patrol’ অর্থাৎ, নজরদারি জোরদার রণকৌশল বদলালো ভারত। তবে সিপরি-র রিপোর্টে এ-ও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই পদক্ষেপ মূলত সম্ভাব্য আগ্রাসনকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। ভারত কারও সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামছে না।
অক্ষুণ্ণ ‘নো ফার্স্ট ইউজ়’ নীতি
পরমাণু অস্ত্র ‘রেডি-টু-ফায়ার’ অবস্থায় রাখার বিষয়ে নীতিতে বদল এলেও, SIPRI-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এর পরেও ভারত তার ‘নো ফার্স্ট ইউজ়’ অবস্থানে অনড় রয়েছে। অর্থাৎ, ভারত নিজে থেকে কখনই প্রথম পরমাণু হামলা চালাবে না। তবে শত্রুদেশের পক্ষ থেকে কোনও আকস্মিক পরমাণু হানা হলে, ভারত এখন আর কালক্ষেপ না করে মুহূর্তের মধ্যে চূড়ান্ত ধ্বংসাত্মক পাল্টা আঘাত হানতে পারবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বাকি বিশ্বকে ভারত বার্তা দিল: নয়াদিল্লির হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকলেও, তারা কখনই তা ব্যবহার করবে না, এমনটা যেন কেউ না ভাবে।
খবর: এই সময়
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats