একদিনে চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ, ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ ফেরা নিয়ে উদ্বেগ
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের চার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মাদ্রাসা–ই–আলিয়া (আলিয়া মাদ্রাসা), রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এসব সংঘর্ষে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে তারা ক্যাম্পাসে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ আবারও ফিরে আসছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত প্রায় দুই বছর ধরে অনেক ক্যাম্পাসে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ছোট একটি ক্যাম্পাসে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে আসি। প্রতিহিংসার রাজনীতির সঙ্গে যাদের কোনো সম্পর্ক নেই, তাদের কেন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে হবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ কি এমন হওয়া উচিত?’
তিনি জানান, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি করেন এই শিক্ষার্থী।
সংঘর্ষের সূত্রপাত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে
সাম্প্রতিক সহিংসতার সূচনা হয় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর এটিই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সংঘর্ষের প্রথম ঘটনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারকে ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে টানানো ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শীর্ষক ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ব্যানারটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির ছয় নেতার ছবি ছিল। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছাত্রনেতা ও সাংবাদিকও রয়েছেন। সংঘর্ষের রেশ পরে রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের মধ্যে অন্তত ৭০ জন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহ-সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি আব্দুল আলীম আরিফ, জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া, ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন সাইফ এবং কয়েকজন সাংবাদিক।
রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মাদ্রাসার আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলী আহসান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সহিংসতা চাই না। আমরা পড়াশোনা করতে এসেছি, ছাত্রসংগঠনগুলোর সংঘর্ষ দেখতে নয়। বারবার সহিংসতার ঘটনায় আমাদের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে এবং ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পড়াশোনা করতে চাই।’

এদিকে ঢাকা কলেজেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হন। পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের তথ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা কলেজ
ঢাকা কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিলাদ হোসেন দ্য বলেন, কলেজ শাখা একটি কর্মীসভা আয়োজন করেছিল। ওই কর্মসূচিতে আসার পথে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে শিবির।‘পরে শিবিরের এক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে পালিয়ে যেতে বলেন। না গেলে হত্যার হুমকি দেন’, বলেন তিনি।
মিলাদ হোসেন বলেন, হামলায় ছাত্রদলের ১১ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক পিয়াল হাসান বলেন, ঘটনাটি অনেকে যেভাবে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করছেন, বিষয়টি ঠিক তেমন ছিল না।

তিনি বলেন, শিবিরের নেতাকর্মীরা কয়েক দফা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে নিউমার্কেটের দিক থেকে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল। আমরা প্রতিহত করেছি।
এদিকে, ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সম্মানে কলেজের গ্যালারি-২ এ সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার প্রস্তুতি চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই প্রথম হামলা চালায়।
তিনি বলেন, আমাদের কর্মসূচি দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। তখন আমাদের অধিকাংশ সদস্যই ক্যাম্পাসে পৌঁছাননি। যারা আগে এসেছিলেন, তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ছাত্রদলের হামলায় আমাদের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লো শিবির
দিনভর ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সামনের এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা। এ সময় আশপাশের এলাকায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো নেতা–কর্মীকে দেখা যায়নি। এর আগে বিকেলে ওই এলাকার ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে ওই হাসপাতাল থেকে ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের পুলিশের পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে বিভিন্ন হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম সন্ধ্যায় বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে, চিকিৎসাধীন যাঁরা ছিলেন, তাঁরা অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন। তবে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা অবস্থান করছেন। পুলিশও সতর্ক অবস্থায় আছে।’
এর আগে সরেজমিনে দেখা যায়, আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে তাঁরা লাঠি, হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট হাতে মিছিল নিয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের দিকে আসেন।
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালান ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা। ৪ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালান ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা। ৪ আগস্ট ২০২৬ছবি: প্রথম আলো
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিল থেকে কিছু ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান করা ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেন তাঁরা। দুই পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। পরে ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীরা সরে গেলে হামলাকারীরা জরুরি বিভাগের ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন দুজনকে তাঁরা মারধর করেন। পরে একজনকে জরুরি বিভাগ থেকে বাইরে বের করে এনে হাসপাতালের সামনেই মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং হামলাকারীদের হাসপাতালের বাইরে বের করে দেয়।
এর আগে আজ দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। সে সময় ছাত্রদলের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন, শহীদ মিনার ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন হাসপাতাল এলাকায় দুই দফায় এই সংঘর্ষ হয়। জকসুর বেশির ভাগ পদে আছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে জকসু ও ছাত্রশক্তির অন্তত ৫০ জন আহত হয়ে ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। অন্যদিকে ছাত্রদল দাবি করেছে, তাদেরও বেশ কয়েকজন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন।

আলিয়া মাদ্রাসা: সংঘর্ষের পর সরে গেছে ছাত্রশিবির, হলে ছাত্রদল
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর রাজধানীর বকশীবাজার এলাকার সরকারি মাদ্রাসা–ই–আলিয়া (আলিয়া মাদ্রাসা) এলাকা ছেড়ে গেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীরা। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিবিরের নেতা–কর্মীরা চলে যাওয়ার পর মাদ্রাসার একমাত্র আবাসিক হল আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলে ঢুকেছেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা।
হলে ঢুকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ছাত্রশিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা বেশ কয়েকটি কক্ষে ভাংচুর চালিয়েছেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা। এর এক পর্যায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে মারধর করেছেন তাঁদের কয়েকজন। পরে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বের হয়ে যেতে বলেন ছাত্রদল নেতা–কর্মীরা। তাঁরা বেরিয়ে গেলে হলের ফটকগুলোতে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকশ নেতাকর্মী আলিয়া মাদ্রাসার হলে প্রবেশ করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা বাইরে অবস্থান করছিলেন।
হলের ফটকে তালা লাগানোর সময়ে উপস্থিত ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতা মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমরা হল তালাবন্ধ করেছি। সব কিছু ঠিক হলে পরবর্তীতে খুলে দেওয়া হবে।’
সংঘর্ষে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৫ জন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির ঢাকা মহানগর পূর্বের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক দাউদ খান জানিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যুবদল ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আমাদের নেতা–কর্মীদের আহত করেছে। ফুয়াদ নামে আমাদের এক কর্মীর অবস্থা সংকটাপন্ন। তাঁর মাথায় ১২টি সেলায় দেওয়া লেগেছে।’
অপরদিকে ছাত্রদলের ৩০ জনের বেশি নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা শাখার নেতা সাদ চৌধুরী জানিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিবিরের সন্ত্রাসীরা দফায় দফায় আমাদের ওপর হামলা করেছে। তাঁদের হামলায় আমাদের ৩০ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ছাত্রদল ও যুবদলের দুইজনের অবস্থা
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় উত্তেজনার শুরু হয়। উত্তেজনার এক পর্যায়ে বেলা তিনটার দিকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের মধ্যে এক দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সে সময় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এরপর ছাত্রদল মাদ্রাসার বাইরে এবং ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীরা মাদ্রাসার ভেতরে অবস্থান নিয়ে থাকেন।
এ সময় প্রায় দুই ঘণ্টার মতো সংঘর্ষ বন্ধ থাকলে মাদ্রাসার সামনের সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। সে সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঘটনার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সভাপতি আবদুল আলিম। তিনি তখন সাংবাদিকদের বলেন, দুপুরের দিকে হঠাৎ ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা হলে ঢুকে শিবিরের নেতা–কর্মীদের মারধর করে হলের বেশ কয়েকটি রুমে তালা দেন। এরপর তাঁরা ছাত্রদল নেতা–কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে হল থেকে বের করে দেন। পরে ছাত্রদল আবার দলবল নিয়ে এলে শিবিরের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়।
সে সময় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রদল নেতা সাদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিবিরের নেতা–কর্মীরা হলের বেশ কয়েকটি কক্ষ দখল করে রেখেছেন। গতকাল রাতে তাঁরা বহিরাগত ব্যক্তিদের হলে এনে রাখেন। আজ শিবিরের নেতা–কর্মীরা ছাত্রদলের একটি রুম তালাবন্ধ করে রাখেন। এরপর ছাত্রদল বেশ কয়েকটি রুমে তালা লাগালে শিবিরের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের মারামারি শুরু হয়।
এরপর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে জড়ান ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে মাদ্রাসার সামনের সড়কে দুই পক্ষ ইট–পাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া দেয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ওই এলাকায় সাত থেকে আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ছাত্রশিবিরের চারজনকে এবং ছাত্রদল ও যুবদলের দুজনকে মারধর করতে দেখা যায়।
দ্বিতীয় দফায় এই সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ সদস্যরা দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নেন। তবে তাঁদের সংখ্যা কম হওয়ায় সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ে। এর মধ্যেই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীরা ওই এলাকা সরে যান।
তখন যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকশ নেতাকর্মী আলিয়া মাদ্রাসার হলে প্রবেশ করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা বাইরে অবস্থান করছিলেন।
Editor & Publisher
Dulal Ahmed Chowdhury
www.newsdiplomats.com
The News Diplomats
Cell: +1 (437) 365-4003 & +1 (647) 709-3389
Email: [email protected]
Toronto, Canada.
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || The News Diplomats